কিছু খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কিছু খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বাংলায় ২০২৬ সালের এক ডজন পূজাবার্ষিকী আমাজন, ফ্লিপকার্ট থেকে জলদি অর্ডার করুন Bengali Saradiya Puja Sanka 2026

 বাঙালির পূজোর গন্ধ ইতিমধ্যেই গায়ে লেগে গেছে। আর মাত্র কদিন বাকি, মা আসছেন একটি বছর পরে। ঢাকে কাঠি পরে গিয়েছে। বই পড়তে বা বই গিফট করতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। আর বাঙালির ঘরে পূজো সংখ্যা থাকবে না তা কি হয়? বাংলা ১৪৩৩ সন অর্থাৎ ইংরেজি ২০২৬ সালের বড় বড় প্রকাশক ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব পূজো সংখ্যা পূজো বার্ষিকী নিয়ে হাজির হয়েছে। বাজারে, বই এর দোকানে সমস্ত বই পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দ বাজার, দেশ, সানন্দা, প্রসাদ বিভিন্ন সংস্থার পূজা সংখ্যার বই অনলাইন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। লিমিটেড এডিশন, দ্রুত বুক না করলে স্টক পাওয়া মুশকিল হবে। নিচে ১২ টি জনপ্রিয় পূজা সংখ্যার আমাজন লিংক দেয়া হলো। লিংক গুলো ক্লিক করে নিদৃষ্ট বইটি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এছাড়া একসাথে কম্বো ৬ টি বই অর্ডার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট কিছুটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। 



আনন্দলোক পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬),

 আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে মোট ৩৬০ পৃষ্ঠা রয়েছে। বইটির মূল্য ₹৩২০ এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। এটি মূলত বিনোদন, টলিউড-বলিউড খবর, গসিপ, সংস্কৃতি ও উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা ও ছবি-সহ একটি জনপ্রিয় পুজোবার্ষিকী। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ একটি প্রকাশনা।

অর্ডার করুন : ANANDALOK PUJABARSHIKI 1433 (2026) : Rs.320.00

আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দমেলা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি মূলত শিশু-কিশোরদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ধাঁধা, কার্টুন ও বিভিন্ন রঙিন ফিচারে ভরপুর। বইটির মূল্য প্রায় ₹৩১৫–৩৫০ এবং এটি পেপারব্যাক বা সফটকভার ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী বাঙালি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা, যা উৎসবের মেজাজে নতুন নতুন লেখা ও ছবি-গল্প নিয়ে সাজানো হয়।

অর্ডার করুন : Anandamela Pujabarshiki 1433 (2026) 340.00


বিষাকা থ্রিলার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের তরফে প্রকাশিত একটি বিশেষ শারদীয়া সংকলন, যা মূলত রোমাঞ্চকর থ্রিলার ও রহস্যঘন গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৬ সালের এই পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকের লেখা অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম, সাসপেন্স ও মিস্ট্রি ধাঁচের গল্প স্থান পেয়েছে, যা পাঠকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহল জাগিয়ে তুলবে। আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, আনন্দলোক-সহ আনন্দ পাবলিশার্সের অন্যান্য পুজোবার্ষিকীর মতোই বিষাকা থ্রিলার সংখ্যাটিও বাঙালি পাঠকদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যাটিতে থাকে নতুন নতুন চরিত্র, অজানা রহস্য ও রোমাঞ্চকর প্লট, যা পাঠকদের পুজোর ছুটিতে উপভোগ্য পড়ার অভিজ্ঞতা দেয়।

অর্ডার করুন : Bivashika Thriller Patrika 1433 : Pujabarshiki 1433  Rs. 259.00

প্রসাদ পূজা বার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ২০০–৪০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ content রয়েছে, যেখানে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, শিল্প-সংস্কৃতি, উৎসবের বিশেষ ফিচার এবং নানা ধরনের লাইফস্টাইল ও বিনোদনমুখী লেখা থাকে। প্রদাস পুজোবার্ষিকী মূলত পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের কথা ভেবে তৈরি—এতে ছোটদের জন্য আলাদা বিভাগ, রান্নার রেচিপি, ভ্রমণকাহিনি, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ এবং উৎসবের সাজসজ্জা নিয়ে টিপসও থাকে। বাঙালি সংস্কৃতি ও শারদোৎসবের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পত্রিকাটি প্রতি বছর পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহযোগ্য আইটেম হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Prasad 1433 (2026) || Pujabarshiki 223.00

কিশোর জানা বিজ্ঞান পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখা নিয়ে তরুণ পাঠকদের জন্য তৈরি।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা—যেমন মহাকাশ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন আবিষ্কার—সহ সহজ ভাষায় উপস্থাপিত প্রবন্ধ, কুইজ, ধাঁধা ও রঙিন ছবি থাকে।  প্রতি বছরের মতো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই পুজোবার্ষিকীটিও দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয় এবং বাঙালি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ জাগিয়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৮৫–₹৩০০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।


অর্ডার করুন : Puja Barshiki Kishore Jnan Bigyan, 46th Year (2026) Rs. 299.00


মহাদেবী পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

দুর্গাপুজো উপলক্ষে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় বাংলা শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা মূলত রোমাঞ্চ, সাসপেন্স ও ছোটগল্পের সমাহার নিয়ে পাঠকদের কাছে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৪২–৫০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু রয়েছে, প্রকাশকের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ দেখা যায়।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৭০–₹৩৫০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  মহাদেবী পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন লেখকের লেখা থ্রিলার, রহস্য, সামাজিক গল্প ও উৎসবভিত্তিক লেখা থাকে, যা দুর্গাপুজোর সময় পাঠকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।  এটি বাংলা পাঠকদের মধ্যে একটি চাহিদাপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী পুজোবার্ষিকী হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Pujabarshiki Mahadevi 1433 || Bengali Thriller, Suspense, Stories & Poetry Collection || Parul Prakashani : 350.00

শারদীয়া আনন্দবাজার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দবাজার পত্রিকার বছরের শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৬০ পৃষ্ঠার সমৃদ্ধ content রয়েছে। এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available এবং মূল্য ₹৩৪০ (কিছু দোকানে ₹২৮৯-এও পাওয়া যাচ্ছে)। শারদীয়া আনন্দবাজারে থাকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভ্রমণ, রান্না, শিল্প-সংগীত, উৎসবের বিশেষ লেখা, বিখ্যাত লেখকদের গল্প-প্রবন্ধ, পাশাপাশি পুজোর সাজসজ্জা ও উদযাপনের নানা আইডিয়া। বাঙালি পাঠকদের জন্য এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ প্রকাশনা, যা পুজোর আমেজ বাড়িয়ে তোলে এবং পরিবারের সবাই মিলে পড়ার মতো একটি special collection।


অর্ডার করুন : Saradiya Anandabazar Patrika Pujabarshiki 2026 Rs. 320.00


দেশ পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পুজোবার্ষিকী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, উৎসব, ভ্রমণ, শিল্প-সাহিত্য ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের লেখা ও ছবি থাকে।  দেশ পুজোবার্ষিকী মূলত একটি ম্যাগাজিন ধাঁচের প্রকাশনা, যেখানে গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, সাক্ষাৎকার এবং উৎসবের বিশেষ ফিচারসহ নানা বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে।  এটি অনলাইন বুকস্টোর ও বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পেপারব্যাক বা হার্ডব্যাক ফরম্যাটে available এবং সাধারণত ₹৩০০–₹৩৫০ রেঞ্জে বিক্রি হয়।  বাঙালি পাঠকদের মধ্যে শারদীয়া পত্রিকার ঐতিহ্যবাহী চাহিদার অংশ হিসেবে দেশ পুজোবার্ষিকীও প্রতি বছর জনপ্রিয়তা পায়।


অর্ডার করুন : Sharadiya Desh Pujabarshiki 2026 || 1433 (Desh Sharadiya) - Rs.340.00


কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া সাহিত্য সংকলন, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে পাঠকদের হাতে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য লেখকদের ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।  মূলত ছুটির সময়ের পাঠের জন্য উপযোগী করে সাজানো এই বার্ষিকীতে থাকে বিনোদনধর্মী ও সাহিত্যমানসম্পন্ন লেখার সমাহার।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২০০–₹২৫০ এর মধ্যে হয়ে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক বা ম্যাগাজিন ফরম্যাটে available।  কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত ও চাহিদাপূর্ণ শারদীয়া প্রকাশনা হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Sharadiya Katha Sahitya 1433 || Bangla Pujabarshiki 2026 || Rs. 300.00

সানন্দা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

সানন্দা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে উপন্যাস, ছোটগল্প, ফ্যাশন, বিউটি, রান্না, ফিটনেস, সেলিব্রিটি সাক্ষাৎকার এবং বিশেষ ফিচারসহ নানা ধরনের লেখা রয়েছে।  এটি মোট ৬৯২ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার সংস্করণ এবং এর মূল্য ₹৩২০ (ছাপা মূল্য) ও ₹২৫৬ (বিক্রয় মূল্য)।  সানন্দা পুজোবার্ষিকী বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি শারদীয়া প্রকাশনা, যা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন নিয়ে সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে।

অর্ডার করুন : Saradiya Sananda Pujabarshiki 2026 320.00


টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

ছোটোদের জন্য প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাজারে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি মধুসূদন ঘাটী সম্পাদনা করেছেন এবং এটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।  বইটির মূল্য ₹১৮০ (মূল্য তালিকা অনুযায়ী ₹২০০ থেকে ১০% ছাড়ে) এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত ছোটোদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া, ধাঁধা, রঙিন ছবি ও বিভিন্ন মজাদার লেখা থাকে, যা শিশুপাঠকদের উৎসবের মেজাজে আনন্দ দেয়।  আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর অন্যান্য শারদীয়া সংখ্যার মতো এটিও বাঙালি পরিবারে পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অর্ডার করুন : Tapur Tupur Pujabarshiki 1433 (2026) Rs. 200.00


উমা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যাগুলির মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রকাশনা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ৪০৮ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার বই হিসেবে available এবং এর মূল্য প্রায় ₹৩৪০–৩৯৯।  উমা পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ, রান্না-ফ্যাশন-সৌন্দর্য এবং উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা থাকে, যা পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের পছন্দ হয়।  আনন্দ পাবলিশার্সের এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ধারাকে বহন করে এবং পুজোর মরসুমে পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহ হিসেবে গণ্য হয়।


অর্ডার করুন : Uma Pujabarshiki 1433 (2026)  - Rs. 385.00

Combo : Rs. 2499.00 Sananda, Anandabazar, Shardiya Patrika, Anandalok, Anandamela and Desh Pujabarshiki 2026 With Sananda & Desh 1-1 Copy Total 8 (Saradiya Anandabazar Pujabarshiki)

এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা || ২০২৬ এর এক অভিনব উদ্যোগ || ৫০০০ এর বেশি কর্মসংস্থান

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি"—এটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত 'হে মহাজীবন' কবিতার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি পঙ্‌ক্তি সেখান থেকেই টেনে নিয়ে বলতে হয় এই পশ্চিমবাংলায় লাখে লাখে বেকার! এর জ্বালা কবে মিটবে? পশ্চিমবঙ্গের বিগত সরকারের বা তার আগের সরকারের বেকার যুবক যুবতীদের হাতে রোজগারের সুযোগ করে দেয়ার মতো উদ্যোগ আদতেই চোখে পরেনি। হাজারে হাজারে দক্ষ কর্মী রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী হতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান বিজেপি সরকার মাত্র ১০০ দিন পার করেছে, এবং এই ধরনের একটি উদ্যোগ অর্থাৎ এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বালুরঘাট স্টেডিয়াম ১৮.০৮.২০২৬ তারিখ হতে চলেছে।

এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা ২০২৬-এর ব্যানার, ৫০০০-এর বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ


"কুশল ভারত, বিকশিত ভারত"—এটি কেবল স্লোগান নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলনীতি। দক্ষ কর্মীশক্তি গড়ে তুললেই শিল্প-উন্নয়ন, স্টার্টআপ পরিবেশ ও গ্লোবাল বাণিজ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। তাই ব্যক্তিগত স্তরে সার্বক্ষণিক শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়া, স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানো—এসবই ভবিষ্যতের কাজকেই নিশ্চিত করবে। 



আমাদের যুব সমাজকে নমনীয় ও সক্ষম করে তোলা আজকের সময়ের প্রধান অনিবরণীয় প্রয়োজন; শুধু একদমই নতুন দক্ষতা শেখা নয়, বরং দ্রুত বদলানো চাকরির চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠন (reskilling) ও উন্নত করা (upskilling) আবশ্যক। প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কাজের সংস্কৃতিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে—এমন অবস্থায় ধারাবাহিক শিক্ষণ, অনলাইন কোর্স এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তরুণেরা কেবল প্রতিযোগী থাকতে পারবেন না, বরং নিজেদের কর্মজীবন দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ করতে পারবেন। 



বালুরঘাট কৌশল মহোৎসব হল এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে তরুণরা শুধু শেখার সুযোগই পাচ্ছে না, বরং বাস্তবে নিজেদের দক্ষতা পরীক্ষার সুযোগও পাবেন—লাইভ ওয়ার্কশপ, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডেমো সেশন, প্রকল্প-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-মেন্টরদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং হবে মূল আকর্ষণ। এতে শিক্ষাব্রতী ছাত্রছাত্রী ও নবপ্রবীণ পেশাজীবী—উভয়েই উপকৃত হতে চলেছেন। 


এই ইভেন্টে প্রস্তাবিত ৫০০০+ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের সুযোগ কেবল সংখ্যাতত্ত্ব নয়; এগুলো ডিজিটাল দক্ষতা, কোডিং বেসিক, UI/UX, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ছোটো-মোটো প্রযুক্তি প্রকল্পের ওপর কেন্দ্রীভূত থাকবে। প্রশিক্ষণগুলো বাস্তব-মুখী এবং কর্মপ্রদায়ক সংস্থাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সাজানো থাকবে, ফলে প্রশিক্ষণ শেষে কার্যকর সার্টিফিকেশন ও কর্মসংস্থানের পথ উভয়ই সুগম হবে।


 

৫০ এর বেশি কোম্পানির উপস্থিতি মানে সরাসরি নিয়োগ ও ইন্টারভিউয়ের সুযোগ—কোম্পানিগুলো বিভিন্ন খাতে (IT, BPO, রিটেইল, মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ, এগ্রো-টেক) ট্যালেন্ট স্কাউট করবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রাথমিক স্ক্রিনিং, বায়োডাটা সাবমিশন ও অন-স্পট ইন্টারভিউতে অংশ নিতে পারবেন; কিছু ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ ও ট্রায়াল-অফারের মাধ্যমে স্থায়ী চাকরির পথও খুলে যেতে পারে। 



অনুষ্ঠানটি একটি সরকারি ও সমাজ কল্যাণ উদ্যোগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা; মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ও নেতৃত্ব স্থানীয় প্রকল্পগুলোর প্রতি গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তরের নীতি-নির্ধারক বা অতিথি উপস্থিতি থাকলে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের মান নিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ আনা সম্ভব হবে। 



বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য ও প্যানেল আলোচনায় থাকবে দক্ষতা উন্নয়ন নীতিগত বাধা, অর্থায়ন মডেল, স্টার্টআপ-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজলভ্য রিসোর্স কিভাবে তৈরি করা যায়—এসব বিষয়ে বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তাদের প্রশ্ন করতেও পারবেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য ভূমিকা-নির্ধারণে সহায়ক হবে। 



লজিস্টিক তথ্য: স্থান—বালুরঘাট স্টেডিয়াম, দক্ষিণ দিনাজপুর; তারিখ—১৮ আগস্ট ২০২৬। 



আগ্রহীরা অনলাইনে রেজিস্টার করে নিন

(https://nsdcjobx.com/jobseeker/QuickReg)

অবিলম্বে ১৮.০৮.২০২৬ বিকেল ৪ ঘটিকার মধ্যে ১৭৭৬ জন চাকুরী প্রার্থীকে নিয়োগপত্র বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রদান করা হয়েছে। 



ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ২০২৬ : নীরব গতির এক নতুন যুগ

ভোরের আলো যখন রেলের লাইন ছুঁয়ে যায়, তখন এক নতুন ধরনের ট্রেন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। না এতে থাকে ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা গর্জন, না বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের কড়া শব্দ; বরং এটি এগোয় এক প্রায় নীরব, মসৃণ ও আধুনিক ভঙ্গিতে। ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি পরিবেশবান্ধব যাত্রার এক নতুন প্রতীক।



এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর জ্বালানি ব্যবস্থা। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, আর সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই চলে ট্রেনটি। ফলস্বরূপ, এর নির্গমন হিসেবে বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। অর্থাৎ, দূষণ কমে, আকাশ থাকে পরিষ্কার, আর রেলের ধারে দাঁড়ানো মানুষ এক ভিন্ন রকমের যাত্রার অভিজ্ঞতা পায়। ট্রেনের শব্দ কম হওয়ায় ভ্রমণও হয় শান্ত ও আরামদায়ক।


ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশে এই ট্রেনের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এখানে দূরত্ব অনেক, জনসংখ্যা অনেক, আর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপও ব্যাপক। তাই এমন একটি প্রযুক্তি দরকার, যা একদিকে পরিবেশ বাঁচাবে, অন্যদিকে যাত্রীসেবাও উন্নত করবে। হাইড্রোজেন ট্রেন সেই দিকেই এক সাহসী পদক্ষেপ।


ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রুট হলো হরিয়ানার জিন্দ–সোনিপত লাইন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯–৯০ কিলোমিটার। 


এই রুটে ট্রেনটি জিন্দ, জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভাম্ভেওয়া, বুটানা, খান্দরাই, রাবরাহ, লাথ, মোহানা এবং বাওয়াসনির মতো স্টেশনে থামতে পারে। 


সংক্ষিপ্তভাবে, এটি উত্তর রেলের দিল্লি ডিভিশনের একটি ট্রায়াল/প্রথম পর্যায়ের অপারেশনাল রুট হিসেবে বেছে নেওয়া 


এই ট্রেনের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর নকশা। হালকা ওজনের কোচ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাটারি-সহায়িত পরিচালনা, এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সবকিছু মিলিয়ে এটি আধুনিক রেলযাত্রার এক নমুনা। অনেক ক্ষেত্রে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে ব্রেক করার সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরায় কাজে লাগানো যায়। এতে জ্বালানি খরচ কমে এবং কার্যক্ষমতা বাড়ে।


যাত্রীদের আরামকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতরের বসার ব্যবস্থা, প্রশস্ত দরজা, আধুনিক তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা, এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং একটি উন্নত অভিজ্ঞতা। গ্রাম, শহর, পাহাড় বা সমতল—সব ধরনের রুটে এমন ট্রেন ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।


হাইড্রোজেন ট্রেনের খরচ: 


ধোঁয়ার পরিবর্তে নির্গত হবে শুধু জল ও জলীয় বাষ্প

১০ কোচের ট্রেনটির ক্ষমতা ১,২০০ কিলোওয়াট।

ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৪–৬ টাকা।

সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০–১৪০ কিলোমিটার।

একবার হাইড্রোজেন ভর্তি করলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম।


মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা প্রতি কিমিতে! ৪–৬ টাকা যাত্রীর টিকিটের ভাড়া নয়—এটি প্রতি কিলোমিটারে ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক নির্মাণ ও পরিকাঠামোর ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তি দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। 

তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, এবং অবকাঠামো তৈরি—সবকিছুই সময় ও বিনিয়োগ দাবি করে। তবু এটি অস্বীকার করা যায় না যে, ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এটি দেখায়, উন্নয়ন আর পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে চলতে পারে।


এই ট্রেন যেন এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে—যে ভবিষ্যতের ভারত শুধু দ্রুত চলবে না, বরং আরও সবুজ, আরও শান্ত, এবং আরও বুদ্ধিমান হবে। রেলের পাটাতনে তার ছুটে চলা যেন এক নতুন সময়ের পদধ্বনি, যেখানে প্রযুক্তি আর প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস, স্রষ্টা শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি নির্মাণ

আগামী ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসঃ 


আগামী ২০ জুন বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ শিরোপায় ঘোষণা করেছেন। যদিও পূর্ববর্তী শাসক সরকার বিনা যুক্তিতে ১ বৈশাখকে একই নামে ভূষিত করেছিলেন। তাল মিলিয়েছিল চটিচাটা কবি, বুদ্ধিজীবি ও শিল্পীকূল। কিন্তু ২০ জুন নিয়ে আমরা, রাস্ট্রবাদীরা এত সংবেদনশীল কেন? কী ঘটেছিল সেদিন? 


কী ঘটেছিল সেদিন? 


ব্রিটিশ সরকারের ৩ জুনের ঘোষণায় দেশভাগের সেই সঙ্গে বাংলা ভাগের কথা বলা হয়। ঠিক হয় বিধানসভার সদস্যরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ—এই দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। 

তথ্য তালিকা :

- ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট : ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে 

- ১৯৪৬ সালের ১৮ ও ১৯ আগস্ট: হিন্দুরা প্রতিহত করে, ১০০০০ মানুষ মারা যায়।

- ১৯৪৬ সালের ১০ ই অক্টোবর : নোয়াখালীর দাঙ্গা, ১০০০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। 

- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি হিন্দু মহা সভার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন।

- ১৯৪৭ সালের ১৫ ই মার্চ হিন্দু মহা সভার ২ দিন ব্যাপী আলোচনা শোভা বসে কলকাতায়।

- ১৯৪৭ সালের ৪ ঠা এপ্রিল তারকেশ্বরে ৩ দিন ব্যাপী কনফারেন্স চলে এবং ৫০০০০ মানুষের সমাগম হয়।

- ১৯৪৭ সালের ১২ এপ্রিল মাউন্ট ব্যাটেন কে বারোজ গোপন চিঠি লেখেন ও তারকেশ্বরের সভার বিষয়ে জানান।

- ১৯৪৭ সালের ১৩ মে শ্যামা প্রসাদ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন ও এই বিষয়ে আলোকপাত করেন।

- ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন পরিষদের সভায় বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গ এর প্রস্তাব ৫৮ : ২১ ভোটে পাশ করান হয়।


বাংলা ভাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার জন্য বিধানসভার ঐতিহাসিক অধিবেশন বসে ২০ জুন, ১৯৪৭। ওই সভায় দলগত অবস্থান ছিল এরকম : মুসলিম লিগ-১১৪, কংগ্রেস–৮৬, ফজলুল হকের কৃষক প্রজাপার্টি-৩, নির্দল মুসলমান-৩, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান-৪, ভারতীয় খ্রিষ্টান-৩, নির্দল তপসিলি–২, কমিউনিস্ট পার্টি-৩। সেদিন বিধানসভায় একটি নয়, কার্যত তিনটি অধিবেশন বসেছিল। 



১) প্রথমটি অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন। অবিভক্ত বিধানসভার শুরুতেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমগ্র বাংলা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে বলে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু ওই প্রস্তাব ১২৬-৯০ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ বাংলা ভারতে যাবে না। 


২) দ্বিতীয়টি হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। এই অধিবেশনে হিন্দু সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নেন। হিন্দু সদস্যদের ভোটে এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জন্ম স্থির হল। স্থির হল তারা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 

   

৩) তৃতীয়টি মুসলমান প্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। একই দিনে মুসলমান সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন ও তারা বলেন বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের নতুন সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 


পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে ভোট কমিউনিস্টদেরঃ


সেই সময় ১৯৪১ সালের জনগণনা অনুযায়ি অবিভক্ত বাংলার ১৬টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে। এগুলি হল — রংপুর, দিনাজপুর, মালদা, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ। 


বাংলার অবশিষ্ট অংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিনিধিত্ব সেভাবেই হত। তখম হিন্দু কক্ষের সভাপতিত্ব করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ মহতাব। বিপক্ষের ২১ জন সদস্যের সকলেই ছিলেন মুসলিম লিগের সদস্য। হিন্দু সদস্যদের মধ্যে অকংগ্রেসি ছিলেন ৫ জন। এঁরা হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (হিন্দু মহাসভা), উদয়চাঁদ মহতাব (নির্দল), মুকুন্দবিহারি মল্লিক (তপশিল নির্দল), রতন লাল ব্রাহ্মণ ও জ্যোতি বসু (কমিউনিস্ট)। মুসলমান সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এইচ এস সুরাবর্দি (বাংলার প্রধানমন্ত্রী), লিগের সর্বভারতীয় নেতা ইস্পাহানি, বাংলা মুসলিম লিগের সম্পাদক আবুল হাসেম প্রমুখ। সেদিন কমিউনিস্ট দু’জন নেতা দলীয় মতের বিপক্ষে ভোট দেন পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে। 


শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা কেন বলা হয় : 


কিন্তু প্রশ্ন একটাই তা হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা বলা হয় কেন? শ্যামাপ্রসাদ প্রথমে ভারত বা বাংলা কোনও বিভাগেরই সমর্থক ছিলেন না। ভারত ভাগের অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ শ্যামাপ্রসাদ তখন বাংলা ভাগে সোচ্চার হলেন। তাঁর দাবি—যে হিন্দু-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ হচ্ছে, সে একই ভিত্তিতে প্রদেশও ভাগ করতে হবে। বাংলার গভর্নর বারোজের বুদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দী ‘স্বাধীন যুক্তবঙ্গের’ ধুয়া তোলেন। পূর্বাপর ভালমন্দ না বুঝে তার সঙ্গে গলা মেলান শরৎচন্দ্র বসু; এবং কিঞ্চিৎ দ্বিধাগ্রস্তচিত্তে কিরণশঙ্কর রায়। জিন্না-সুরাবর্দীর এই অভিসন্ধি একমাত্র বুঝেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। হিন্দু সমাজকে আহ্বান করে তিনি বলেন - "আমরা আমাদের মাতৃভূমি চাই এবং আমরা তা অর্জন করব—এটাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র। হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়—এটাই হোক আমাদের স্লোগান।" কোথায় ও কবে বলেন? ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ৫ এপ্রিল তিনদিন ধরে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভা কনফারেন্স তারকেশ্বরের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার বৈঠকে। 


স্বাধীনতায় আধা পশ্চিমবঙ্গ প্রাপ্তি হিন্দুদেরঃ 


জিন্না একসময় খোস মেজাজে মাউন্টব্যাটেনকে বলেছিলেন - “You must carry out a surgical operation” তখন জিন্না স্বপ্নেও ভাবেননি যে সে ছুরিকা শ্যামাপ্রসাদ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিবেন এবং তাঁকে কাতরকণ্ঠে “ দয়া করে আমাকে পোকা-খাওয়া পাকিস্তান দেবেন না।" বলতে বাধ্য করবেন। কিন্তু কীভাবে পাকিস্তানকে কীটদ্রষ্ট করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ? সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই বাটোয়ারার সময় পাঞ্জাবের মুসলমান গরিষ্ঠ গুরুদাসপুর জেলা ভারতে আনার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বাংলা ভাগের সময় কংগ্রেসের ও মুসলিম লিগের পক্ষে ছিলেন দুইজন করে বিচারপতি।


বাংলাভাগের সময় সম্পূর্ণ নদীয়া জেলা, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুর দেওয়া হল পাকিস্তানকে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিনবঙ্গ বিচ্ছিন্ন। র‍্যাডক্লিফ সীমানা টানার সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাকে পাকিস্তানকে দেওয়ায় এই বিপত্তি। ১৪ অগাস্ট এই চার জেলার মুসলিমরা আনন্দে পাকিস্তানের পতাকা তোলেন। হিন্দুরা এদিকে ফুঁসতে থাকেন কংগ্রেসের ওপরে ক্ষোভে। 


শ্যামাপ্রসাদ ছিনিয়ে আনলেন চার জেলাঃ 


শ্যামাপ্রসাদের সাথে কৃষ্ণনগরের মহারানী জ্যোতির্ময়ী দেবী প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপরে। ভাগ হয় নদীয়া জেলা। ইছামতী ও মাথাভাঙা নদীকে সীমান্ত বিবেচনা করে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙা বাদ দিয়ে বাকিটা আনেন ভারতে। ওদিকে অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ ঢোকে ভারতে। 


কিন্তু মালদা ও মুর্শিদাবাদ? একে তো মুসলিম প্রধান জেলা, তার ওপরে বাংলার নবাবদের প্রাক্তন রাজধানী, মুসলিম সেন্টিমেন্ট জড়িত ছিল। শ্যামাপ্রসাদ বিষয়টি বুঝেছিলেন। তিনি আরো বুঝেছিলেন যে ভাগীরথীর উৎসমুখ যদি পাকিস্তানে যায় তাহলে কলকাতা নদীবন্দর শুকিয়ে যাবে। জল টেনে নেবে পাকিস্তান। শ্যামাপ্রসাদ তখন স্থানীয় নেতা কৃষ্ণজীবন সান্যাল ও বিনয় সরকারকে নিয়ে কংগ্রেস ও লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় হিন্দু মহাসভার নেতা স্বামী বলদেব আনন্দ গিরি। তিনি কলকাতায় দলবল নিয়ে এসে সীমানা কমিশনের অফিস ঘিরে সারারাত অবস্থান করেন। চাপের চোটে মালদার ১৫ টি থানার মধ্যে ১০ টি থানা ভারতে ঢোকে। 


কিন্তু মুর্শিদাবাদ? জিন্নাও অনড় ছিলেন। অনড় ছিলেন সর্দার প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদ। তখন রফাসূত্র দেন নেহরু। হিন্দুপ্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ঢুকল ভারতে। তাতে শ্যামাপ্রসাদ আপত্তি তুললেও কংগ্রেস আর ঝামেলা বাড়াতে চাইল না। ১৮ অগাস্ট এই বাটোয়ারা চুড়ান্ত হল। শ্যামাপ্রসাদ তাই নেহরুকে বলেছিলেন “আপনি ভারত ভাগ করেছেন, আর আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি”।  


নেহরুর ভারতভাগ ও শ্যামাপ্রসাদের পাকিস্তান ভাগঃ 


বাটোয়ারার রাজনীতিতে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পাশে পেয়েছেন একমাত্র সর্দার প্যাটেলকে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দুদের পক্ষে এই লড়াই দীর্ঘদিনের। তিনি না থাকলে নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ বা দিনাজপুর ছেড়েই দিলাম, কলকাতার ওপরে অধিকার দু’দেশেরই কায়েম থাকত। জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ভোটে নয় (সেখানে তার জামানত জব্দ হয়েছিল), গান্ধীর একনায়কোচিত নির্দেশে। কাশ্মীর ও চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হত প্রথমে যদি সর্দার প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হতেন।


শুধুমাত্র শ্যামাপ্রসাদের এই লড়াকু অবদানের জন্যে হিন্দু মহাসভার সাংসদ কম হলেও জনমতের চাপে তাকে মন্ত্রীত্ব দিতে বাধ্য হন নেহরু। আজ এইজন্যে গুজরাটের নর্মদা জেলার ছোট্ট একটি দ্বীপে তৈরি করা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি তৈরি করেন নরেন্দ্র মোদি যা এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি - স্ট্যাচু অফ লিবার্টির প্রায় দ্বিগুণ। এর নাম 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি' বা 'ঐক্যের মূর্তি।' 


কলকাতায় বসতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট স্ট্যাচু। সম্ভবত  আগামী ৬ জুলাই কলকাতায় এই স্ট্যাচু স্থাপনার জন্য ভূমি পূজন করা হবে। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০২৬ বিজেপির উত্থান

 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬‑এ বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং প্রায় ২০৭টি আসন, পরবর্তী ফলতা উপনির্বাচনে ১ লাখের বেশি ব্যাবধানে জয় রাজ্যের রাজনীতির “ঐতিহাসিক ভূমিকম্প” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 




এই ফলাফল শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের পতনই নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ভূ‑পরিচয়ে বিজেপির একটি নতুন যুগের সূচনা নির্দেশ করেছে। 

বিশদে অন্নপূর্ণা ভান্ডার 

ফলাফল: কী ঘটেছে?

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি প্রায় ২০৮টি আসন জয় করে সরাসরি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।  


অন্যদিকে ক্ষমতাবাহী তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র আশি পার কিছুটা আসনে সীমাবদ্ধ, যা ২০২১ সালের ২১৫ আসনের জয়ের প্রেক্ষিতে এক বিরাট পতন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। 


ভোটাংশের দিক থেকে বিজেপি ৪৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূলের ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশের থেকেও এগিয়ে থাকে। 




উত্থানের মূল কারণগুলি কি কি? 


বিজেপির বাংলায় এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে কয়েকটি মূল রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, বিজেপি কেন্দ্রীয় “নরেন্দ্র মোদি–নীতি” এবং পরিবর্তনের বার্তাকে স্থানীয় স্তরে বিপুল প্রচারণা ও রাজ্যের বিরোধী শক্তির ঘাটতি কাজে লাগিয়েছে। 



দ্বিতীয়ত, তৃণমূল বনাম বিজেপি বিতর্কে বিজেপি কখনও “উন্নয়ন‑গোষ্ঠী”, কখনও “জাতীয় সংহতির পক্ষে” এই চিত্র গড়ে তুলেছে, যা বিশেষত হিন্দু ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। 



এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভৌগোলিক ও সামাজিক কারণ: সীমান্তবর্তী এলাকা, স্থানান্তরিত জনসংখ্যা, নাগরিকত্ব আইন‑সংক্রান্ত বিতর্ক, এবং স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের দূর্নীতি ও সন্ত্রাস‑বিষয়ক অভিযোগ। 


অনেক বিশ্লেষক এই ফলাফলকে “বিরোধী শক্তির অভাবে বিজেপির আগুয়ানি” হিসেবেও দেখছেন, কারণ রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী বাম বা কংগ্রেস জোট গঠিত হতে পারেনি। 



রাজনৈতিক ভেঙেছে কোন কোন ধারণা?

বিজেপির এই উত্থান কেবল আসন‑সংখ্যা নয়, বাংলার “রাজনৈতিক মানচিত্র” পুনর্নির্মাণ করেছে।


 একসময় যেখানে বাংলা ছিল বাম ও কংগ্রেসের দুর্গ, তারপর তৃণমূলের একচেটিয়া রাজনীতি; এখন বিজেপি সেই স্থানে নতুন প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। 


এই পরিবর্তনের সাথে সঙ্গত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ভোট‑ব্যবহার, স্থানীয় নেতৃত্ব ও দলের কাঠামোও পাল্টে যাচ্ছে। 



সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

এই উত্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। বাংলার কিছু অঞ্চলে হিন্দু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রবণতা বাড়ছে, যা বিজেপির “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ” বার্তার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। 


একইসঙ্গে, মুসলিম ভোটব্যাংকের মধ্যে ভাঙন ঘটেছে বলে অনেক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই ভাঙন সম্পূর্ণ কোনো দলের দিকে না গিয়ে কিছু অংশ স্বতন্ত্র বা অন্য দলের দিকে চলে গেছে। 



ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ


বিজেপির এই জয় ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় নীতি ও উন্নয়ন মডেলের সাথে যেমন ঘনিষ্ঠ করবে, তেমনি স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সমালোচনা ও চাপও বাড়তে পারে। 


বিশেষত, উন্নয়ন‑প্রকল্প, নাগরিক অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং স্থানীয় স্বয়ংশাসন বিষয়গুলিতে বিজেপির নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা রাজ্যের অপর রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নতুন কৌশল ও প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করবে।

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ছুটির সম্পূর্ণ তালিকা: দুর্গাপূজা, ঈদ, পূজা ছুটি, লিস্ট-১ লিস্ট-২ লিস্ট-৩ সহ PDF

 পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ বিভাগের ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের নং ৪১৮৮-এফপি২ বিজ্ঞপ্তিতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (NIA Act) অধীনে ২০২৬ সালের জন্য লিস্ট-১-এ উল্লিখিত তারিখগুলি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে,




যেমন নববর্ষ (১ জানুয়ারি), 

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন (১২ জানুয়ারি),

নেতাজির জন্মদিন (২৩ জানুয়ারি), 

সরস্বতী পূজা (২৩ জানুয়ারি), 

গণতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি), 

দোলযাত্রা (৩ মার্চ), 

ঈদ-উল-ফিতর (২১ মার্চ), 

রামনবমী (২৬ মার্চ), 

মহাবীর জয়ন্তী (৩১ মার্চ), 

গুড ফ্রাইডে (৩ এপ্রিল), 

ড. বি.আর. আম্বেডকরের জন্মদিন (১৪ এপ্রিল), 

নববর্ষ/নববর্ষা (১৫ এপ্রিল), 

মে ডে (১ মে), বুদ্ধ পূর্ণিমা (১ মে), 

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন (৯ মে), 

ঈদ-উদ-জোহা (২৭ মে), 

মহররম (২৬ জুন), 

স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট), 

জন্মাষ্টমী (৪ সেপ্টেম্বর), 

গান্ধীজির জন্মদিন (২ অক্টোবর), 

মহালয়া (১০ অক্টোবর), 

দুর্গাপূজা মহাষষ্ঠী-নবমী-দশমী (১৭-২০-২১ অক্টোবর), 



ভাইদুজ্দিন (১১ নভেম্বর), 

গুরু নানকের জন্মদিন (২৪ নভেম্বর) এবং ক্রিসমাস (২৫ ডিসেম্বর)। 


লিস্ট-২-এ রাজ্য সরকারের আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যেমন সরস্বতী পূজার আগের দিন (২২ জানুয়ারি), 

শবে-বারাত (৪ ফেব্রুয়ারি), 

হোলি (৪ মার্চ), 

দুর্গাপূজার অতিরিক্ত দিন (১৫-১৭ ও ২২-২৪ অক্টোবর), 

লক্ষ্মীপূজা (২৬ অক্টোবর), 

কালীপূজা (৯-১০ নভেম্বর) ইত্যাদি এবং



লিস্ট-৩-এ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক সেকশনাল ছুটি যেমন শিবরাত্রি (১৫ ফেব্রুয়ারি), হুল দিবস (৩০ জুন) 



ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও কলকাতার রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসুরেন্সেস ও স্ট্যাম্প রেভিনিউ কালেক্টর অফিস ব্যতিক্রম। মুসলিম উৎসবের তারিচ পরিবর্তন হলে পৃথক আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হবে এবং সূর্য-চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে তারিখ স্থির হবে। 

তিনি জীবিত আছেন আমাদের মাঝে। কোটি কোটি হৃদয়ের মাঝে। জুবিন গর্গ

তিনি জীবিত আছেন আমাদের মাঝে।  কোটি কোটি হৃদয়ের মাঝে।  জুবিন গর্গ এখন শুধুমাত্র একটি নাম নয় , কোটি কোটি মানুষের আনন্দ, বেদনা , যন্ত্রনা।  আগামী ১৮ই নভেম্বর তাঁর জন্মদিন , মহান শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সমন্ধে কিছু কথা -


জুবিন গার্গ শুধুমাত্র একজন গায়ক বা অভিনেতা নন, তিনি আসামের সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবতার এক নিবেদিত কর্মী। সংগীতের পাশাপাশি তিনি নানাভাবে আসামের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

আরো পড়ুন : এটা ছাড়া শীতের পিকনিকে মজা পাওয়া যায় না।

                         হারহিম শীতে রুম হিটার ব্যবহার করছেন? কিছু সতর্কতা 

তিনি আসামের ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় নিরলস কাজ করে চলেছেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, উৎসবে ও আন্দোলনে তিনি নিজেকে যুক্ত রাখেন। বিশেষ করে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক সমস্যার সময় তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত “Zubeen Garg Foundation” সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে — যেমন দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং শিল্পীদের সহায়তা প্রদান।



জুবিন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সক্রিয়। কাজিরাঙা অভয়ারণ্য ও রাইনো সংরক্ষণের প্রচারণায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর গানের মাধ্যমে তিনি আসামি জনগণকে পরিবেশ সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা দেন।

এছাড়া, আসামি চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তিনি নির্মাণ করেছেন Mission ChinaKanchenjungha–র মতো জনপ্রিয় সিনেমা। তাঁর এই সব কর্মকাণ্ড আসামের যুবসমাজকে উৎসাহিত করেছে নিজের সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ হতে।

জুবিন গার্গ আজ আসামের এক সাংস্কৃতিক দূত, যার কাজ সংগীতের বাইরে গিয়ে মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালায়।


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক অনন্য সংগীতপ্রতিভা হলেন জুবিন গার্গ। তিনি শুধু আসামের নয়, সমগ্র ভারতের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন। গায়ক, সুরকার, অভিনেতা, সংগীত পরিচালক ও কবি—এই বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শিল্পী জুবিন গার্গ আজ উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

জুবিন গার্গ জন্মগ্রহণ করেন ১৮ নভেম্বর ১৯৭২ সালে আসামের তিনসুকিয়ার তিরাপ অঞ্চলে। তাঁর পিতা মোহিনী বর্মন গার্গ ছিলেন একজন বিখ্যাত সংগীত শিক্ষক ও অভিনেতা, আর মাতা ইলাবতী গার্গও ছিলেন সংগীতপ্রেমী। ছোটবেলা থেকেই সংগীত তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি প্রথম হারমোনিয়াম বাজানো শুরু করেন এবং খুব অল্প বয়সেই বিভিন্ন আসামি ও বাংলা গান গাইতে শুরু করেন।

জুবিনের সংগীত শিক্ষা শুরু হয় তাঁর পিতার কাছ থেকেই। পরে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীত, ভজন, এবং আধুনিক সংগীতে দক্ষতা অর্জন করেন। কৈশোরে তিনি গঠন করেন একটি ব্যান্ড—“The Electric Piano”, যা আসামের যুবসমাজের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম “Anamika” প্রকাশ পায় এবং বিশাল সাফল্য অর্জন করে। এই অ্যালবামই তাঁকে মূলধারার সংগীতজগতে পরিচিতি এনে দেয়।

এরপর থেকে জুবিন গার্গ আসামি, বাংলা, হিন্দি, ও অন্যান্য বহু ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন। বলিউডে তাঁর প্রবেশ ঘটে ১৯৯৫ সালে, যখন তিনি গান গাইলেন ‘Dil Se’ সিনেমার বিখ্যাত গান “Ya Ali” (২০০6, সিনেমা Gangster) এর মাধ্যমে, যা তাঁকে সারাদেশে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। এই গান আজও ভারতের অন্যতম শ্রুতিমধুর ও প্রভাবশালী সঙ্গীত হিসেবে বিবেচিত।

জুবিন শুধু গায়ক নন, তিনি একজন সফল সুরকার ও সংগীত পরিচালকও। বহু আসামি সিনেমায় তিনি সুর দিয়েছেন এবং নিজেও অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে Mission China (২০১৭), Kanchenjungha, Mon Jaai ইত্যাদি। তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন Mission China, যা আসামি চলচ্চিত্র জগতে বাণিজ্যিকভাবে অন্যতম সফল ছবি।

জুবিন গার্গ সমাজসেবামূলক কাজেও অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য নানা প্রচারাভিযান চালিয়েছেন। আসামের প্রিয় ‘Rockstar’ হিসেবে তিনি তরুণদের মাঝে দেশপ্রেম ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে—

  • “Ya Ali” (Gangster)

  • “Bismillah”

  • “Yaara”

  • “Pakhi” (Assamese)

  • “Maya”

  • “O Senai”

  • “Tumi Asiba”

  • “Mon” ইত্যাদি।

তাঁর গানে কখনও গভীর ব্যথা, কখনও প্রেমের আবেগ, আবার কখনও সামাজিক বার্তা মিশে থাকে। এজন্যই তাঁর গান শুধুমাত্র বিনোদন নয়, মানুষের অনুভূতির প্রতিফলনও।

ব্যক্তিগত জীবনে জুবিন গার্গের স্ত্রী গারিমা শইকীয়া গার্গ, যিনি নিজেও একজন সংগীতশিল্পী ও সমাজকর্মী। তাঁদের বিবাহিত জীবন শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি এক যৌথ ভালোবাসার মাধ্যমে সমৃদ্ধ।

জুবিনের জীবনের পথ সবসময় সহজ ছিল না। তিনি নানা বিতর্ক, মানসিক চাপ, ও ব্যক্তিগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও তাঁর সংগীত ও অনুপ্রেরণার শক্তি তাঁকে বারবার নতুন করে জাগিয়েছে। তিনি নিজের কথা একবার বলেছিলেন—

“আমি গাই শুধুমাত্র হৃদয়ের জন্য, খ্যাতির জন্য নয়।”

আজ জুবিন গার্গ কেবল একজন গায়ক নন—তিনি আসামের গর্ব, ভারতীয় সংগীতের প্রাণ, এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর কণ্ঠে যে মাধুর্য ও আবেগ, তা তাকে সত্যিকার অর্থে “সঙ্গীতের জুবিন” করে তুলেছে।

পশ্চিমবঙ্গে SIR ২০২৫: ভোটার তালিকা পরিমার্জনের বিশেষ অভিযান ও তার প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) আতঙ্কের কারণে বেশ কয়েকজন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে বোঝা যায় এই আতঙ্কের প্রভাব কতটা গভীর। 


ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্লেষণ



SIR আতঙ্কে মৃত্যুর কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:


জলপাইগুড়ির নরেন্দ্রনাথ রায় নামের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি SIR আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আতঙ্কে দিনরাত মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।


হুগলির শেওড়াফুলিতে ৪৯ বছর বয়সী যৌনকর্মী বিতি দাস আত্মহত্যা করেছেন, তার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। তার মৃত্যুর পেছনে SIR আতঙ্কের কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে, যদিও পারিবারিক অশান্তি সম্পর্কিত কারণও তদন্তাধীন।


দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির শাহীনের পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ও স্ত্রীর নাম না থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, পরিবার জানিয়েছে SIR আতঙ্কে তাঁর মানসিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।


বীরভূমের সাঁইথিয়ায় বিমান প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগ তিনি SIR আতঙ্কে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।


মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ৫৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী তারক সাহা আত্মহত্যা করেছেন। তার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন


জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি মহকুমার লালুরাম বর্মণও SIR আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।


এসব মৃত্যুর ফলে রাজ্যজুড়ে SIR আতঙ্ক নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে এবং অনেকেই এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন। এই আতঙ্কে মানুষ শুধুমাত্র মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও প্রভাবিত হচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি করেছে।

 

বিভিন্ন জেলায় অন্তত সাত থেকে আটজনের মৃত্যুর খবর SIR আতঙ্কের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে, যার মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ও হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রধান।


SIR (বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া) চালু হওয়ার পর, বহু মানুষ—বিশেষ করে যাঁদের পুরোনো ভোটার তালিকায় নাম নেই বা যারা প্রমাণপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন—তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।


"প্রতিটি ভোটার, প্রতিটি ভোট গর্বের অধিকার"


আতঙ্ক ও প্রভাব :

SIR ঘোষণার পর থেকে বহু এলাকায় রাতারাতি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়, যেখান থেকে বহু মানুষ বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন বলে খবর সামনে এসেছে।


আতঙ্কের প্রভাবে বারবার আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। বহু জায়গায় আত্মহত্যার ঘটনা ও মানসিক অবসাদ বেড়েছে, বিশেষ করে যাঁদের নাম তালিকায় নেই বা যাঁরা নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথি জোগাড় করতে পারছেন না।


স্থানীয় মতে, অনেক বাংলাদেশি পরিবার এলাকাগুলি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, কারণ তাঁদের মধ্যে ব্যাপক ভয় এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আতঙ্কের জেরে কিছু পরিবার দিনের পর দিন ঘুমাতে পারছেন না, কেউ কেউ কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মঘাতী হচ্ছেন এমন ঘটনাও হচ্ছে।


রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কএক পক্ষ অভিযোগ তুলেছে, SIR চালুর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে—এতে অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকে মানসিক চাপ বাড়ছে, যার ফলে চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন অনেকে।


অন্য পক্ষের দাবি—এই আতঙ্কের রাজনীতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে।


মানুষের উদ্বেগ পরিচয়পত্র ও নথি সংশ্লিষ্ট জটিলতা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই—এইসব কারণেই জনমানসে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক প্রবল হয়ে উঠেছে।


আতঙ্ক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, দিনমজুর, গৃহকর্মী, শিক্ষক, বৃদ্ধ—সকলের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 


SIR আতঙ্ক' তাই শুধুমাত্র নথিজটিলতা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, মানুষের মধ্যে গভীর মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার ছবি তুলে ধরছে—যার বাস্তব প্রতিফলন পশ্চিমবঙ্গের বহু অঞ্চলে দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


SIR এর কাজ:

SIR হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া। এতে ভোটারদের মধ্যে থাকা ভুল তথ্য ঠিক করা, নতুন ভোটার যোগ এবং মিথ্যা বা মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়। 


SIR-এর সময়: 

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ 'Enumeration Form' বিলি করা হয়।

ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়। যাদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাদের আলাদা ফর্ম দেওয়া হয় এবং নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। 


বহুমাত্রিক তথ্য যেমন জন্ম তারিখ, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে SIR কাজ দ্রুতগতির আর সফলভাবে চলছে এবং এতে প্রধানত শিক্ষকরা BLO হিসেবে কাজ করছে।


BLO (Booth Level Officer) এর কাজ:

BLO হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কর্মী যিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এবং ভোটার তালিকা সঠিক রাখার দায়িত্বে থাকেন।


BLO'র কাজের মধ্যে রয়েছে: 

ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন করা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা। 

ভোটার আইডি কার্ড বিতরণ এবং ভুল তথ্য সংশোধনে সাহায্য করা।

ভোটারদের ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম কল করার কাজে সহায়তা করা।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় পোলিং বুথে সহায়তা প্রদান।

ভোটারদের মধ্যে ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।


সার্বিকভাবে SIR হলো ভোটার তালিকা পরিমার্জনের একটি বিস্তৃত কাজ, আর BLO তার মাঠ পর্যায়ের কর্মী যিনি SIR প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গৃহীত তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভোটারদের সহায়তা পর্যন্ত কাজ করেন।


SIR প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম ভরাট করার নিয়ম নিম্নরূপ:


এনুমারেশন ফর্ম কী? এনুমারেশন ফর্ম হলো একটি তথ্য সংগ্রহ ফরম, যার মাধ্যমে ভোটারের ব্যক্তিগত ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এটি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


এনুমারেশন ফর্ম ভরাটের ধাপ: 


ফর্মে নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে লিখুন।


ভোটারের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য যেমন ভোটার আইডি নম্বর, পুরোনো ভোটার তালিকায় নাম থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন।


আধার নম্বর এবং অন্যান্য পরিচয় পত্র সম্পর্কিত তথ্য দিন।


বর্তমান ঠিকানা এবং পূর্বের ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন, বিশেষ করে যদি ঠিকানা বদল হয়ে থাকে।পরিবারের সদস্যদের তথ্য দাখিল করুন, যা পরিবারভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।


ফর্মে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাবেন, কারণ ভুল তথ্য পুনরায় সংশোধন কঠিন হতে পারে।


ফর্মে যেকোনো সংশয় থাকলে স্থানীয় BLO বা ভোট অফিসার থেকে সাহায্য নিতে পারেন।


ফর্ম পূরণের সহায়তা:


এনুমারেশন ফর্ম পূরণে BLO বা স্থানীয় ভোট অফিসার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা করবেন। তারা ফর্ম সরবরাহ করবেন এবং তথ্য সঠিক ভরাট হচ্ছে কিনা তাও খেয়াল রাখবেন।


পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার শুরু, শেষ এবং অন্যান্য প্রধান তারিখগুলি নিম্নরূপ:


SIR এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয় ৪ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে। এই দিন থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ শুরু করেন।


ফর্ম বিতরণ ও পূরণের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫। এর মধ্যে সকল ভোটারকে ফর্ম পূরণ করে BLO-দের কাছে জমা দিতে হবে।


খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে।


৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ, দাবী ও আপত্তি ছাড়ার সময়কাল থাকবে।


অভিযোগ যাচাই বাছাই এবং শুনানির প্রক্রিয়া চলবে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত।


চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ। এই তালিকা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ভিত্তি হবে।


সারসংক্ষেপে, পশ্চিমবঙ্গের SIR প্রক্রিয়াটি ৪ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন হবে, যেখানে ভোটার তালিকার সংশোধন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।


এখানে SIR প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ এনুমারেশন ফর্মের নমুনার বিবরণ দেওয়া হলো যেটি ভোটারদের তথ্য যাচাই ও হালনাগাদের জন্য পূরণ করতে হয়:


SIR এনুমারেশন ফর্ম নমুনা (সংক্ষিপ্ত বিবরণ)

1. ভোটার বা আবেদনকারীর নাম

2. ভোটার আইডি কার্ড নম্বর (EPIC)

3. জন্ম তারিখ (দিন/মাস/বছর)

4. আধার নম্বর (ঐচ্ছিক) :

5. মোবাইল নম্বর:

6. পিতার বা অভিভাবকের নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

7. মাতার নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

8. স্বামী বা পত্নীর নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

৯. ঠিকানা (বর্তমান ও পূর্ববর্তী)

১০. ভোটার তালিকায় নামের অবস্থান (পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বর, এসি নম্বর)

১১. ভোটারের ছবি (আঠালো করে পেস্ট করার জন্য)

১২. স্বাক্ষর অথবা বাম আঙ্গুলের ছাপ

১৩. অনুরোধকারী বা পরিবারের অন্য সদস্যের স্বাক্ষর (যদি ভোটার নিজে ফর্ম পূরণ না করেন)

১৪. BLO-এর (Booth Level Officer) যাচাই ও স্বাক্ষর


এই ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে ভোটার সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে এবং প্রমাণ পত্র (জন্ম সনদ, আধার, পাসপোর্ট ইত্যাদি) সংযোজন করতে হতে পারে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় এই ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


আপনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের CEO ওয়েবসাইট থেকে এই ফর্মের PDF ডাউনলোড করতে পারেন। যেমন: Election Commission of India - Voter ফর্মুস জেলার CEO অফিসের অফিসিয়াল সাইট গুলোর উদাহরণ ফর্ম লিংক: SIR Enumeration Form Annexure-III (Sample): ceoandaman.nic.in এর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী SIR Voter Enumeration Form PDF (42KB) - theni.nic.in সাইটে পাওয়া যায় এই ফরম্যাট সাধারণত ভোটারদের বাড়িতে BLO দ্বারা সরবরাহ করা হয় এবং অনলাইনে সাবমিশন সুবিধাও থাকছে অনেক জায়গায়।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা এখানে ক্লিক করে সংগ্রহ করুন 

ভোটার তালিকা (Voter List)

ভোটার তালিকা সংশোধন (Voter List Revision)

ভোটার নাম অন্তর্ভুক্তি (Voter Inclusion)

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision)

ভোটার এনুমারেশন (Voter Enumeration)

ভোটাধিকার (Voting Rights)

নির্বাচন কমিশন (Election Commission)

ভোটার ফর্ম পূরণ (Voter Form Filling)

ভোটার তালিকা আপডেট (Voter List Update)

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন (West Bengal Election)

ভোটার সচেতনতা (Voter Awareness)

ভোটার পরিচয় (Voter Identity)

নির্বাচন প্রক্রিয়া (Election Process)

ভোটার নথি (Voter Documents)

ভোটার নাম ফিল্টার (Voter Name Verification)

Y

দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল: শেফালি-দীপ্তির জয়যাত্রা

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারত ৫২ রানের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। এই জয় ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহুর্ত, যা দেশজুড়ে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে



শক্তিশালী ব্যাটিং পারফরম্যান্স

ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রান সংগ্রহ করেছিল। ওপেনার শেফালি ভার্মা ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, ৭৮ বলে ৮৭ রান করে তিনি দলে শক্তিশালী শুরু এনে দেন, যা পরবর্তীতে দলের জয়ের ভিত্তি প্রস্তত করে। এছাড়া দীপ্তি শর্মা ইনিংসের মাঝপথে গুরুত্বপূর্ণ ৫৮ রান নিয়ে দলকে ভালো স্কোরের দিকে নিয়ে যান। স্মৃতি মান্ধানা ও রিচা ঘোষও যথাক্রমে ৪৫ ও ৩৪ রানের অবদান রাখেন। শেফালির ব্যাট থেকেই ২ টি উইকেটও আসে, যা ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


বলিংয়ের জয় জয়কার

দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৬ রানেই অলআউট হয়। ভারতের বোলিং আক্রমণ বিশেষত দীপ্তি শর্মার ছিল বিপজ্জনক। দীপ্তি ৫ উইকেট নিয়ে ৩৯ রান খরচ করেন, যা ম্যাচের পালা ঘুরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগরী ছিল। এছাড়া শেফালি ভার্মা ও স্রীচারাণি তাদের ভূমিকা পালন করেন যথাক্রমে ২ ও ১ উইকেট নিয়ে। হরমনপ্রীত কুওরের অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের ফিল্ডিংও নজর কেড়েছিল। আমঞ্জোট কৌর তার দৃষ্টিনন্দন রানের জন্য ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ধরেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ধরে রাখা আশা ভেঙে দেয়।


ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন লরা উলভার্ট ১০১ রানের এক দুর্দান্ত শতক করেছিলেন। তবে তার একাই পারফরম্যান্স লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট ছিল না। দেরিতে এসে দীপ্তি শর্মার দারুণ বোলিংয়ে দল ধীরে ধীরে পতিত হয়। বিশেষ করে লরা ওলভার্টকে ৪২তম ওভারে আউট করার পর দল崩ollapse শুরু হয়। আমঞ্জোট কৌরের লাইভ রান আউট একটি বড় মোড় এনেছিল যাতে স্মৃতি মান্ধানার উইকেটও বড় অবদান রাখে। এই মুহূর্তগুলো তীব্র উত্তেজনা ও টান তৈরি করেছিল পুরো ম্যাচের জন্য ।

ঐতিহাসিক অর্থবোধ ও প্রভাব

এই জয় ভারতের মহিলা ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনার পরিচায়ক। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সংগ্রামের প্রমাণ এই জয়ে পাওয়া গেল। এর আগে দুটি যথাক্রমে ২০১৭ ও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে রানার্স সূচক ভারতের প্রাপ্তি ছিল, কিন্তু এবার তারা প্রথমবারের মতো শিরোপা ছিনিয়ে আনলো। এই সাফল্যের ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের পাশাপাশি সকল খেলার মহিলাদের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের যাতে আরও উৎসাহ পাওয়া যায় তার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গভীর হবে 


সমর্থকদের উল্লাস ও ভবিষ্যৎ

মাঠে উপস্থিত ৪৫,০০০ দর্শকসহ গোটা দেশ আনন্দে মাতিয়ে তুলেছিল ভারতীয় নারীদের জয়। শেফালি ভার্মার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, দীপ্তি শর্মার বোলিংয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে দক্ষ যুবপ্রজন্মের শক্তিশালী অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে ও ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এ থেকে একথাই প্রমাণিত হয় যে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল বিশ্ব মঞ্চে আরও অনেক বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।


এইভাবে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অসামান্য পারফরম্যান্স, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও টিম স্পিরিট একযোগে কাজ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ২০২৫ সালের মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে, যা তাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় দিন।

"MAKE IN INDIA" TRAIN FOR SRI LANKA

The train which has been inducted under an Indian Line of Credit has an on-board entertainment system, modular interiors and fully-rotating seats in Air Conditioned Chair cars for passenger comfort.

The new features include plush interiors, GPS-based passenger information system in all coaches.

Halogen-free rubber flooring, individually revolving seats and the individual audio controls for AC class passengers


Each DEMU rake consists of 13 cars in a combination of two driving power cars with economy class seating, two driving trailer cars with economy class seating, two air-conditioned chair cars with rotatable seats, two business class chair cars and five economy class coaches.



The body of these coaches are painted with special high glass anti-graffiti paint that will be appealing and long lasting.

The AC first class coach can accommodate 52 passengers, the economy car can accommodate 90 passengers and the Business class coach has a capacity of 64 passengers.

The rake of the train was manufactured in the Integral Coach Factory (ICF) in Chennai.

শিশুর পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

শিশুর ভালো রেজাল্টের জন্য অনেক বাবা-মা নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। যদিও শারীরিক শাস্তি কিংবা মানসিক চাপ দেওয়া কোনো শিশুর জন্যই ভালো নয়। তাহলে শিশুর পড়াশোনার উন্নতির উপায় কি? এ লেখায় রয়েছে কিছু দারুণ উপায়, যা বাস্তবে মেনে চলতে পারলে সহজেই শিশুর পড়াশোনায় উন্নতি করা সম্ভব হবে।

১. আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা

আপনার শিশু কোন উপায়ে শিক্ষা গ্রহণে সবচেয়ে আনন্দ পায় তা জেনে নিন। অনেক শিশুই শিক্ষার পাশাপাশি গান, নাচ, অঙ্গভঙ্গি, অভিনয়, আঙুল গননা কিংবা ভিন্ন কোনো উপায়ে খুব ভালো শিখতে পারে। তাই আপনার শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কোনটি তা জানুন ও শিক্ষায় কাজে লাগান।


২. শিক্ষা বিনিময়

শুধু পাঠ্যবইতেই শিশুকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। আপনার শিশু কোন কোন বিষয় শিখল তা তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। এ বিষয়ে নিজের জ্ঞান থাকলে তাও তাকে জানান। এভাবে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ে আপনার সন্তান সহজেই শিক্ষালাভ করতে পারবে।

৩. ইউটিউবে শিখুন

ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব শুধু বিনোদনের বিষয় নয়। ইউটিউবে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষামূলক ভিডিও। বহু মজার উপায়ে কঠিন সব সূত্র শিখতে চাইলে ইউটিউবে অনুসন্ধান করুন এবং আপনার সন্তানকে তা দেখান।

৪. নিজেও শিখুন

শুধু সন্তানকে শিক্ষা দিলেই হবে না, নিজেও শিখে নিন। সন্তানের সঙ্গে নিজে পড়াশোনা করুন। এতে সে দারুণ উৎসাহিত হবে।

৫. বিভিন্ন মাধ্যম একত্রিত করুন

আপনার সন্তানের শিক্ষার জন্য শুধু একটি বই যদি বারবার পড়তে হয় তাহলে তা একঘেয়ে হয়ে যাবে। তাই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য একত্রিত করুন।

৬. সঠিক স্থান বাছুন

শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সব বিষয় শিশুর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই পড়ার টেবিলটি এমন স্থানে বসান যেখানে রেডিও কিংবা টিভির মতো মনোযোগ নষ্ট করার উপাদান নেই।

৭. উৎসাহ ও প্রশংসা

উৎসাহ ও প্রশংসার পেলে শিশু পড়ুয়াদের পড়াশোনায় আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সর্বদা তাদের উৎসাহ দিতে ভুলবেন না। সামান্য উন্নতিতেই প্রশংসা করুন।

৮. ছাড় দিন

পড়াশোনার জন্য যখন শিশু ব্যস্ত তখন অন্যান্য বিষয়গুলোতে ছাড় দিন। পরীক্ষা সারাবছর থাকবে না, এ বিষয়টি নিজে মানুন এবং তাকেও জানিয়ে দিন।

৯. সময় ভাগ করুন

কোনো রুটিন ছাড়া পড়াশোনা করলে তা সঠিকভাবে কাজে নাও লাগতে পারে। আবার শিশুদের সঠিকভাবে রুটিন মেনে চলা কঠিনও হতে পারে। তাই শিশুর জন্য পড়ার সময় ভাগ করে দেওয়া উচিত আপনারই।

১০. পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিন

শিশুর পড়াশোনার সহায়তার জন্য পুরো পরিবারকেই এগিয়ে আসা উচিত। বাসার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পড়ার বিষয় টাঙ্গানো, ডিনার টেবিলে অংকের সূত্র লাগিয়ে দেওয়া ইত্যাদি তাকে পড়াশোনায় এগিয়ে নিতে পারবে।

১১. অগ্রগতি খেয়াল রাখুন

শিশুর পড়াশোনায় অগ্রগতি সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। কোনো সময় সে অমনোযোগিতা বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে গেলে পরবর্তীতে তা পূরণ করা কঠিন হবে।