স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে মন্দারমণিতে EDM-এর ধামাকা—জেনে নিন Sunburn Reload-এর সব তথ্য

Sunburn Reload Sundowner 2026 — ১৬ আগস্ট মন্দারমণির কে সি ভিউ রিসর্টে অনুষ্ঠিত হবে, দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। গোয়ায় জনপ্রিয় সানবার্ন ফেস্টিভ্যালের এই স্পেশাল এডিশনটা এবার বঙ্গের বে অফ বেঙ্গলের সি বিচে আয়োজন করা হয়েছে, তাই মন্দারমণি এবং আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলিতে বড় রেভিনিউ ও ভিড় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইভেন্টের কনসেপ্ট সানডাউনারের থিমকে কেন্দ্র করে — দুপুর থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের ডান্স সেশনগুলোতে আলোকসজ্জা ও মঞ্চের নকশা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রধান পারফরমারদের মধ্যে আছেন DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি এবং Antim — যারা ইলেকট্রিফাইং ইলেকট্রোনিক ডান্স মিউজিক পরিবেশন করবেন। লাইভ পারফর্ম্যান্সের পাশাপাশি হাই-এনার্জি সেট, লেজার শো এবং দর্শনীয় স্টেজ ডিজাইন থাকবে; যার ফলে সানডাউনের মোমেন্ট এবং রাতের পার্টির ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা বাড়বে। আন্তর্জাতিক দর্শক ও মিউজিক লোভারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়েছে, তাই ডি-জে সেটগুলোতে ট্রেন্ডিং EDM ট্র্যাক ও কাস্টম মিক্স শোনা যাবে।



টিকেট সম্পর্কে: ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ১৮ বছর ও তার বেশি বয়স প্রয়োজন। দুই ধরনের টিকেট পাওয়া যাবে — সাধারণ টিকিট ₹1,499 এবং প্রিমিয়াম টিকিট ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)। প্রিমিয়াম টিকিটে সাধারণত উন্নত ভিউ, ফাস্ট-ট্র্যাক এন্ট্রি বা নির্দিষ্ট সেকশনে বসবাসের সুবিধা থাকতে পারে; নির্দিষ্ট সুবিধাগুলো কনফার্ম করতে BookMyShow-এ তালিকাভুক্ত ইভেন্ট ডিটেইল চেক করা উত্তম। টিকিট কাটা যাবে BookMyShow-এ, এবং ইভেন্টের প্রতি অংশগ্রহণের সময় ID দেখিয়ে এন্ট্রি নিশ্চিত করতে হতে পারে।


এই আয়োজনটি বিশেষ কারণ হলো—Sunburn ব্র্যান্ডটি এশিয়ার বৃহত্তম ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হিসেবে পরিচিত, যা মূলত গোয়ার আরব সাগর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতো। ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে সানবার্ন শুরু করেন, এবং এরপর এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত ও প্রসার লাভ করে। যদিও মূল সানবার্ন ডিকেম্বরে — মুম্বই মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে (১৮–১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে, তবু এই সময়ের বাইরে গ্র্যান্ড—সানডাউনর থিমে একটি বিশেষ এডিশন মন্দারমণিতে আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পার্কিং , ক্যাম্পিং, খাবারের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল সার্ভিস—এসব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রতিষ্ঠানিক ঘোষণায় দেওয়া না হলে BookMyShow বা ইভেন্টের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট চেক করতে হবে। ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে আগেই টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিন, কারণ উৎসবে ট্যুরিস্ট ভিড় বেশি হবে। স্থানীয় পরিবহন, হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ নিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।


গোয়ার বিখ্যাত সানবার্ন ফেস্টিভ্যাল এবার বাংলার মন্দারমণির সি বিচে — নাম দেওয়া হয়েছে "Sunburn Reload Sundowner"। স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে, ১৬ আগস্ট মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্টে এই ইলেকট্রিফাইং ডান্স-মিউজিক ইভেন্ট হবে। আয়োজনটি লোকাল পর্যটন ও আয় বৃদ্ধির আশায় বড় আকর্ষণ হবে; লাইভ পারফর্ম্যান্স ও মঞ্চসজ্জা থাকবে হাই-এনার্জি সেটে। মূল সানবার্ন স্থায়ীভাবে সাধারণত ডিসেম্বরেই মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হয় (১৮–১৯ ডিসেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্স) — কিন্তু এই বিশেষ সানডাউনার-এ বঙ্গবাসীও অংশ নিতে পারবেন।


- ইভেন্ট নাম: Sunburn Reload Sundowner  2026

- দিন ও সময়: ১৬ আগস্ট, দুপুর ১২টা — রাত ১০টা  

- স্থান: মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্ট, সি বিচ (Mandarmani KC View Resort)  

- অংশগ্রহণযোগ্যতা: বয়স ১৮ এবং তার উপরে  

- টিকেট টাইপ ও মূল্য: দুই ধরণের — ₹1,499 এবং ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)  

- টিকেট কোথায় পাওয়া যাবে: BookMyShow  

- হেডলাইন আর্টিস্টরা: DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি, Antim (ও আরও সেলিব্রিটি পারফর্মাররা)  

- ইভেন্ট বৈশিষ্ট্য: লাইভ পারফর্ম্যান্স, ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক (EDM), আকর্ষক স্টেজ ডিজাইন ও সন্ধ্যাবেলা সানডাউন থিম  

- কেন আলাদা: সাধারণত সানবার্ন গোয়ার আরব সাগরের তীরে আয়োজন করা হয়; এবার এটা বে অফ বেঙ্গলের তটে এবং বাংলার পর্যটনকে টানবে  

- মূল সানবার্ন সম্পর্কে: এশিয়ার অন্যতম বড় ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল; ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে শুরু করেন


গোয়ার পর এবার মন্দারমণিতে সানবার্নের ঝড়—১৬ আগস্ট জমবে EDM সানডাউনার


- বে অফ বেঙ্গলের তীরে প্রথমবার সানবার্ন—মন্দারমণিতে ১৬ আগস্ট মিউজিকের মহোৎসব

- মন্দারমণিতে নামছে সানবার্ন Reload: Sartek থেকে Houdini, থাকছে তারকাখচিত লাইনআপ


- গোয়ার সানবার্ন এবার বাংলায়: মন্দারমণিতে কখন, কোথায়, কত টাকার টিকিট?

- সমুদ্র, সূর্যাস্ত আর ইলেকট্রনিক মিউজিক—মন্দারমণিতে আসছে Sunburn Reload

- বাংলার বিচে সানবার্নের অভিষেক: ১৬ আগস্ট মন্দারমণিতে বসছে মিউজিকের আসর

- মন্দারমণির বুকে সানবার্নের উন্মাদনা—Sartek, Houdini-দের সঙ্গে জমবে রাত

- Sunburn Reload Mandarmani 2026: বাংলার সমুদ্রসৈকতে EDM পার্টির বড় ঘোষণা

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ২০২৬ : নীরব গতির এক নতুন যুগ

ভোরের আলো যখন রেলের লাইন ছুঁয়ে যায়, তখন এক নতুন ধরনের ট্রেন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। না এতে থাকে ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা গর্জন, না বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের কড়া শব্দ; বরং এটি এগোয় এক প্রায় নীরব, মসৃণ ও আধুনিক ভঙ্গিতে। ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি পরিবেশবান্ধব যাত্রার এক নতুন প্রতীক।



এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর জ্বালানি ব্যবস্থা। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, আর সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই চলে ট্রেনটি। ফলস্বরূপ, এর নির্গমন হিসেবে বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। অর্থাৎ, দূষণ কমে, আকাশ থাকে পরিষ্কার, আর রেলের ধারে দাঁড়ানো মানুষ এক ভিন্ন রকমের যাত্রার অভিজ্ঞতা পায়। ট্রেনের শব্দ কম হওয়ায় ভ্রমণও হয় শান্ত ও আরামদায়ক।


ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশে এই ট্রেনের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এখানে দূরত্ব অনেক, জনসংখ্যা অনেক, আর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপও ব্যাপক। তাই এমন একটি প্রযুক্তি দরকার, যা একদিকে পরিবেশ বাঁচাবে, অন্যদিকে যাত্রীসেবাও উন্নত করবে। হাইড্রোজেন ট্রেন সেই দিকেই এক সাহসী পদক্ষেপ।


ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রুট হলো হরিয়ানার জিন্দ–সোনিপত লাইন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯–৯০ কিলোমিটার। 


এই রুটে ট্রেনটি জিন্দ, জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভাম্ভেওয়া, বুটানা, খান্দরাই, রাবরাহ, লাথ, মোহানা এবং বাওয়াসনির মতো স্টেশনে থামতে পারে। 


সংক্ষিপ্তভাবে, এটি উত্তর রেলের দিল্লি ডিভিশনের একটি ট্রায়াল/প্রথম পর্যায়ের অপারেশনাল রুট হিসেবে বেছে নেওয়া 


এই ট্রেনের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর নকশা। হালকা ওজনের কোচ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাটারি-সহায়িত পরিচালনা, এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সবকিছু মিলিয়ে এটি আধুনিক রেলযাত্রার এক নমুনা। অনেক ক্ষেত্রে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে ব্রেক করার সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরায় কাজে লাগানো যায়। এতে জ্বালানি খরচ কমে এবং কার্যক্ষমতা বাড়ে।


যাত্রীদের আরামকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতরের বসার ব্যবস্থা, প্রশস্ত দরজা, আধুনিক তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা, এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং একটি উন্নত অভিজ্ঞতা। গ্রাম, শহর, পাহাড় বা সমতল—সব ধরনের রুটে এমন ট্রেন ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।


হাইড্রোজেন ট্রেনের খরচ: 


ধোঁয়ার পরিবর্তে নির্গত হবে শুধু জল ও জলীয় বাষ্প

১০ কোচের ট্রেনটির ক্ষমতা ১,২০০ কিলোওয়াট।

ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৪–৬ টাকা।

সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০–১৪০ কিলোমিটার।

একবার হাইড্রোজেন ভর্তি করলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম।


মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা প্রতি কিমিতে! ৪–৬ টাকা যাত্রীর টিকিটের ভাড়া নয়—এটি প্রতি কিলোমিটারে ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক নির্মাণ ও পরিকাঠামোর ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তি দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। 

তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, এবং অবকাঠামো তৈরি—সবকিছুই সময় ও বিনিয়োগ দাবি করে। তবু এটি অস্বীকার করা যায় না যে, ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এটি দেখায়, উন্নয়ন আর পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে চলতে পারে।


এই ট্রেন যেন এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে—যে ভবিষ্যতের ভারত শুধু দ্রুত চলবে না, বরং আরও সবুজ, আরও শান্ত, এবং আরও বুদ্ধিমান হবে। রেলের পাটাতনে তার ছুটে চলা যেন এক নতুন সময়ের পদধ্বনি, যেখানে প্রযুক্তি আর প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস, স্রষ্টা শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি নির্মাণ

আগামী ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসঃ 


আগামী ২০ জুন বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ শিরোপায় ঘোষণা করেছেন। যদিও পূর্ববর্তী শাসক সরকার বিনা যুক্তিতে ১ বৈশাখকে একই নামে ভূষিত করেছিলেন। তাল মিলিয়েছিল চটিচাটা কবি, বুদ্ধিজীবি ও শিল্পীকূল। কিন্তু ২০ জুন নিয়ে আমরা, রাস্ট্রবাদীরা এত সংবেদনশীল কেন? কী ঘটেছিল সেদিন? 


কী ঘটেছিল সেদিন? 


ব্রিটিশ সরকারের ৩ জুনের ঘোষণায় দেশভাগের সেই সঙ্গে বাংলা ভাগের কথা বলা হয়। ঠিক হয় বিধানসভার সদস্যরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ—এই দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। 

তথ্য তালিকা :

- ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট : ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে 

- ১৯৪৬ সালের ১৮ ও ১৯ আগস্ট: হিন্দুরা প্রতিহত করে, ১০০০০ মানুষ মারা যায়।

- ১৯৪৬ সালের ১০ ই অক্টোবর : নোয়াখালীর দাঙ্গা, ১০০০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। 

- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি হিন্দু মহা সভার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন।

- ১৯৪৭ সালের ১৫ ই মার্চ হিন্দু মহা সভার ২ দিন ব্যাপী আলোচনা শোভা বসে কলকাতায়।

- ১৯৪৭ সালের ৪ ঠা এপ্রিল তারকেশ্বরে ৩ দিন ব্যাপী কনফারেন্স চলে এবং ৫০০০০ মানুষের সমাগম হয়।

- ১৯৪৭ সালের ১২ এপ্রিল মাউন্ট ব্যাটেন কে বারোজ গোপন চিঠি লেখেন ও তারকেশ্বরের সভার বিষয়ে জানান।

- ১৯৪৭ সালের ১৩ মে শ্যামা প্রসাদ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন ও এই বিষয়ে আলোকপাত করেন।

- ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন পরিষদের সভায় বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গ এর প্রস্তাব ৫৮ : ২১ ভোটে পাশ করান হয়।


বাংলা ভাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার জন্য বিধানসভার ঐতিহাসিক অধিবেশন বসে ২০ জুন, ১৯৪৭। ওই সভায় দলগত অবস্থান ছিল এরকম : মুসলিম লিগ-১১৪, কংগ্রেস–৮৬, ফজলুল হকের কৃষক প্রজাপার্টি-৩, নির্দল মুসলমান-৩, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান-৪, ভারতীয় খ্রিষ্টান-৩, নির্দল তপসিলি–২, কমিউনিস্ট পার্টি-৩। সেদিন বিধানসভায় একটি নয়, কার্যত তিনটি অধিবেশন বসেছিল। 



১) প্রথমটি অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন। অবিভক্ত বিধানসভার শুরুতেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমগ্র বাংলা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে বলে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু ওই প্রস্তাব ১২৬-৯০ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ বাংলা ভারতে যাবে না। 


২) দ্বিতীয়টি হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। এই অধিবেশনে হিন্দু সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নেন। হিন্দু সদস্যদের ভোটে এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জন্ম স্থির হল। স্থির হল তারা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 

   

৩) তৃতীয়টি মুসলমান প্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। একই দিনে মুসলমান সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন ও তারা বলেন বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের নতুন সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 


পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে ভোট কমিউনিস্টদেরঃ


সেই সময় ১৯৪১ সালের জনগণনা অনুযায়ি অবিভক্ত বাংলার ১৬টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে। এগুলি হল — রংপুর, দিনাজপুর, মালদা, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ। 


বাংলার অবশিষ্ট অংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিনিধিত্ব সেভাবেই হত। তখম হিন্দু কক্ষের সভাপতিত্ব করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ মহতাব। বিপক্ষের ২১ জন সদস্যের সকলেই ছিলেন মুসলিম লিগের সদস্য। হিন্দু সদস্যদের মধ্যে অকংগ্রেসি ছিলেন ৫ জন। এঁরা হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (হিন্দু মহাসভা), উদয়চাঁদ মহতাব (নির্দল), মুকুন্দবিহারি মল্লিক (তপশিল নির্দল), রতন লাল ব্রাহ্মণ ও জ্যোতি বসু (কমিউনিস্ট)। মুসলমান সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এইচ এস সুরাবর্দি (বাংলার প্রধানমন্ত্রী), লিগের সর্বভারতীয় নেতা ইস্পাহানি, বাংলা মুসলিম লিগের সম্পাদক আবুল হাসেম প্রমুখ। সেদিন কমিউনিস্ট দু’জন নেতা দলীয় মতের বিপক্ষে ভোট দেন পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে। 


শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা কেন বলা হয় : 


কিন্তু প্রশ্ন একটাই তা হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা বলা হয় কেন? শ্যামাপ্রসাদ প্রথমে ভারত বা বাংলা কোনও বিভাগেরই সমর্থক ছিলেন না। ভারত ভাগের অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ শ্যামাপ্রসাদ তখন বাংলা ভাগে সোচ্চার হলেন। তাঁর দাবি—যে হিন্দু-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ হচ্ছে, সে একই ভিত্তিতে প্রদেশও ভাগ করতে হবে। বাংলার গভর্নর বারোজের বুদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দী ‘স্বাধীন যুক্তবঙ্গের’ ধুয়া তোলেন। পূর্বাপর ভালমন্দ না বুঝে তার সঙ্গে গলা মেলান শরৎচন্দ্র বসু; এবং কিঞ্চিৎ দ্বিধাগ্রস্তচিত্তে কিরণশঙ্কর রায়। জিন্না-সুরাবর্দীর এই অভিসন্ধি একমাত্র বুঝেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। হিন্দু সমাজকে আহ্বান করে তিনি বলেন - "আমরা আমাদের মাতৃভূমি চাই এবং আমরা তা অর্জন করব—এটাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র। হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়—এটাই হোক আমাদের স্লোগান।" কোথায় ও কবে বলেন? ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ৫ এপ্রিল তিনদিন ধরে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভা কনফারেন্স তারকেশ্বরের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার বৈঠকে। 


স্বাধীনতায় আধা পশ্চিমবঙ্গ প্রাপ্তি হিন্দুদেরঃ 


জিন্না একসময় খোস মেজাজে মাউন্টব্যাটেনকে বলেছিলেন - “You must carry out a surgical operation” তখন জিন্না স্বপ্নেও ভাবেননি যে সে ছুরিকা শ্যামাপ্রসাদ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিবেন এবং তাঁকে কাতরকণ্ঠে “ দয়া করে আমাকে পোকা-খাওয়া পাকিস্তান দেবেন না।" বলতে বাধ্য করবেন। কিন্তু কীভাবে পাকিস্তানকে কীটদ্রষ্ট করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ? সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই বাটোয়ারার সময় পাঞ্জাবের মুসলমান গরিষ্ঠ গুরুদাসপুর জেলা ভারতে আনার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বাংলা ভাগের সময় কংগ্রেসের ও মুসলিম লিগের পক্ষে ছিলেন দুইজন করে বিচারপতি।


বাংলাভাগের সময় সম্পূর্ণ নদীয়া জেলা, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুর দেওয়া হল পাকিস্তানকে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিনবঙ্গ বিচ্ছিন্ন। র‍্যাডক্লিফ সীমানা টানার সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাকে পাকিস্তানকে দেওয়ায় এই বিপত্তি। ১৪ অগাস্ট এই চার জেলার মুসলিমরা আনন্দে পাকিস্তানের পতাকা তোলেন। হিন্দুরা এদিকে ফুঁসতে থাকেন কংগ্রেসের ওপরে ক্ষোভে। 


শ্যামাপ্রসাদ ছিনিয়ে আনলেন চার জেলাঃ 


শ্যামাপ্রসাদের সাথে কৃষ্ণনগরের মহারানী জ্যোতির্ময়ী দেবী প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপরে। ভাগ হয় নদীয়া জেলা। ইছামতী ও মাথাভাঙা নদীকে সীমান্ত বিবেচনা করে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙা বাদ দিয়ে বাকিটা আনেন ভারতে। ওদিকে অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ ঢোকে ভারতে। 


কিন্তু মালদা ও মুর্শিদাবাদ? একে তো মুসলিম প্রধান জেলা, তার ওপরে বাংলার নবাবদের প্রাক্তন রাজধানী, মুসলিম সেন্টিমেন্ট জড়িত ছিল। শ্যামাপ্রসাদ বিষয়টি বুঝেছিলেন। তিনি আরো বুঝেছিলেন যে ভাগীরথীর উৎসমুখ যদি পাকিস্তানে যায় তাহলে কলকাতা নদীবন্দর শুকিয়ে যাবে। জল টেনে নেবে পাকিস্তান। শ্যামাপ্রসাদ তখন স্থানীয় নেতা কৃষ্ণজীবন সান্যাল ও বিনয় সরকারকে নিয়ে কংগ্রেস ও লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় হিন্দু মহাসভার নেতা স্বামী বলদেব আনন্দ গিরি। তিনি কলকাতায় দলবল নিয়ে এসে সীমানা কমিশনের অফিস ঘিরে সারারাত অবস্থান করেন। চাপের চোটে মালদার ১৫ টি থানার মধ্যে ১০ টি থানা ভারতে ঢোকে। 


কিন্তু মুর্শিদাবাদ? জিন্নাও অনড় ছিলেন। অনড় ছিলেন সর্দার প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদ। তখন রফাসূত্র দেন নেহরু। হিন্দুপ্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ঢুকল ভারতে। তাতে শ্যামাপ্রসাদ আপত্তি তুললেও কংগ্রেস আর ঝামেলা বাড়াতে চাইল না। ১৮ অগাস্ট এই বাটোয়ারা চুড়ান্ত হল। শ্যামাপ্রসাদ তাই নেহরুকে বলেছিলেন “আপনি ভারত ভাগ করেছেন, আর আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি”।  


নেহরুর ভারতভাগ ও শ্যামাপ্রসাদের পাকিস্তান ভাগঃ 


বাটোয়ারার রাজনীতিতে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পাশে পেয়েছেন একমাত্র সর্দার প্যাটেলকে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দুদের পক্ষে এই লড়াই দীর্ঘদিনের। তিনি না থাকলে নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ বা দিনাজপুর ছেড়েই দিলাম, কলকাতার ওপরে অধিকার দু’দেশেরই কায়েম থাকত। জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ভোটে নয় (সেখানে তার জামানত জব্দ হয়েছিল), গান্ধীর একনায়কোচিত নির্দেশে। কাশ্মীর ও চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হত প্রথমে যদি সর্দার প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হতেন।


শুধুমাত্র শ্যামাপ্রসাদের এই লড়াকু অবদানের জন্যে হিন্দু মহাসভার সাংসদ কম হলেও জনমতের চাপে তাকে মন্ত্রীত্ব দিতে বাধ্য হন নেহরু। আজ এইজন্যে গুজরাটের নর্মদা জেলার ছোট্ট একটি দ্বীপে তৈরি করা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি তৈরি করেন নরেন্দ্র মোদি যা এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি - স্ট্যাচু অফ লিবার্টির প্রায় দ্বিগুণ। এর নাম 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি' বা 'ঐক্যের মূর্তি।' 


কলকাতায় বসতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট স্ট্যাচু। সম্ভবত  আগামী ৬ জুলাই কলকাতায় এই স্ট্যাচু স্থাপনার জন্য ভূমি পূজন করা হবে।