প্রয়োজনীয় বার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রয়োজনীয় বার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রকৃতি মিত্রম: প্রতিটি ঘর থেকে পরিচ্ছন্ন পৃথিবীর পথে প্লাস্টিক বর্জনে বিজ্ঞান ভারতী উত্তরবঙ্গ শাখার বিশেষ উদ্যোগ

প্লাস্টিক দূষণ আজ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে একসঙ্গে যুক্ত করে “প্রকৃতি মিত্রম” নামে একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো উৎসস্থল থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করা এবং মানুষের মধ্যে টেকসই জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা।



প্রকৃতি মিত্রম কী?


“প্রকৃতি মিত্রম” হলো স্কুলভিত্তিক প্লাস্টিকমুক্ত বাড়ি ও সম্প্রদায় গড়ার একটি উদ্যোগ। এর মূল বার্তা— “প্রতিটি ঘর থেকে পরিচ্ছন্ন পৃথিবীর পথে”। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি, পাড়া, স্থানীয় দোকান, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিষ্কার ও শুকনো পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করবে।


এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শুধু প্লাস্টিক সংগ্রহে যুক্ত করা হবে না; বরং তাঁদের পরিবেশ সচেতনতা, নেতৃত্বের গুণ, দলগত কাজ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন : ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন 

উদ্যোগটির লক্ষ্য


প্রকৃতি মিত্রম প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্যগুলি হল—


- উৎসস্থল থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো।

- বাড়ি ও সম্প্রদায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস তৈরি করা।

- প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে উৎসাহ দেওয়া।

- শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা।

- পরিবেশ রক্ষার কাজে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানে সক্ষম করে তোলা।


প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব


প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে এটি মাটি, জল ও বায়ুতে থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।


মাটির উপর প্রভাব


প্লাস্টিক মাটির গুণমান নষ্ট করে, মাটির উর্বরতা কমায় এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। জমিতে প্লাস্টিক জমে থাকলে জল ও বায়ু চলাচলও ব্যাহত হয়।


জলদূষণ


নদী, পুকুর, খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক জমে জলদূষণ ঘটায়। এর ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় প্লাস্টিক জলনিকাশির পথ বন্ধ করে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


বায়ুদূষণ


প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এই ধোঁয়া মানুষের শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।


জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি


অনেক প্রাণী প্লাস্টিককে খাদ্য মনে করে খেয়ে ফেলে। এতে তাদের অসুস্থতা, শ্বাসরোধ এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। প্লাস্টিকে পাখি, মাছ ও অন্যান্য প্রাণী জড়িয়ে পড়ে আহত হয়। প্লাস্টিক প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও নষ্ট করে।


মানব স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ


প্লাস্টিক বর্জ্য মানুষের স্বাস্থ্যেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ধোঁয়া শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে।


এ ছাড়া প্লাস্টিক জমে জল আটকে থাকলে মশার বংশবিস্তার বাড়ে। এর ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন : পাহাড়ের কোলে শান্ত বনোবীথি 

কেন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী


প্রকৃতি মিত্রম কর্মসূচিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী কে প্রকৃতি মিত্রম ক্লাবের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হবে।


১১ থেকে ১৫ বছর বয়সকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করার কয়েকটি কারণ হল—


- এই বয়সে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস তৈরি করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

- শিক্ষার্থীরা শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে প্লাস্টিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও হিসাব রাখতে পারে।

- দায়িত্ব গ্রহণ, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকাশের সুযোগ পায়।

- তারা নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের পরিবেশ সচেতন করতে পারে।

- বিজ্ঞান, ভূগোল ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠের সঙ্গে বাস্তব কাজের যোগসূত্র তৈরি হয়।

- নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে কাজ করার মতো পরিণত বোধ তাদের মধ্যে থাকে।


প্লাস্টিক সংগ্রহের ব্যবস্থা


প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে—


- একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য সুতির সংগ্রহের ব্যাগ।

- প্লাস্টিক সংগ্রহের রেকর্ড শিট।

- প্রকৃতি মিত্রম পরিচয়পত্র।


শিক্ষার্থীরা বাড়ি, পাড়া, স্থানীয় দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কেবল পরিষ্কার ও শুকনো প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করবে।


কোন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হবে


প্রকল্পের আওতায় নিম্নলিখিত ধরনের প্লাস্টিক সংগ্রহ করা যেতে পারে—


- প্লাস্টিকের বোতল।

- দুধের প্যাকেট।

- খাবার ও চিপসের প্যাকেট।

- প্লাস্টিকের পাত্র ও কনটেনার।

- প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ।

- একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের কাপ।

- প্লাস্টিকের চামচ ও কাঁটা।

- শ্যাম্পুর বোতল।

- ডিটারজেন্টের কনটেনার।


প্রকল্পের কার্যপ্রবাহ


প্রকৃতি মিত্রম প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হবে—


1. শিক্ষার্থী ও পরিবারের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

2. বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিষ্কার, শুকনো প্লাস্টিক সংগ্রহ।

3. সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের পরিমাণ ও ধরন নথিভুক্ত করা।

4. বিদ্যালয়ে প্লাস্টিক ওজন করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা।

5. অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারকারী সংস্থার কাছে তা পাঠানো।

6. সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের তথ্য পর্যালোচনা করা।

7. পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা।


নিরাপত্তা নির্দেশিকা


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই—


- শুধু পরিষ্কার ও শুকনো প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে হবে।

- চিকিৎসা-বর্জ্য, বিপজ্জনক বর্জ্য ও ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা যাবে না।

- প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

- ডাস্টবিন, নর্দমা বা বর্জ্যভূমি থেকে বর্জ্য তুলতে যাওয়া যাবে না।

- বর্জ্য শোঁকা বা খালি হাতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

- সংগ্রহের সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

- শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হবে।


সাপ্তাহিক সংগ্রহ ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা


প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করবে। বিদ্যালয়ে সেই প্লাস্টিক ওজন করা হবে, পরিমাণ নথিভুক্ত করা হবে এবং পৃথক স্থানে নিরাপদে রাখা হবে।


এই ব্যবস্থায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাজের হিসাব রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় বুঝতে পারবে কোন এলাকা থেকে কত পরিমাণ প্লাস্টিক সংগ্রহ হচ্ছে এবং সচেতনতা কর্মসূচির কী প্রভাব পড়ছে।


সচেতনতা ও প্রচার কর্মসূচি


প্রকৃতি মিত্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে—


- মিছিল ও পথনাটিকা।

- দেওয়ালচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনী।

- প্লাস্টিক দূষণবিরোধী স্লোগান প্রতিযোগিতা।

- বাড়ি বাড়ি সচেতনতা অভিযান।

- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার।

- পরিবেশ রক্ষার শপথ গ্রহণ।

- বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি।


পুরস্কার ও স্বীকৃতি


শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়গুলিকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন—


- সেরা প্লাস্টিক সংগ্রাহক।

- সেরা শ্রেণি।

- সেরা প্রকৃতি মিত্রম বিদ্যালয়।

- সবুজ পরিবার পুরস্কার।

- সবুজ সম্প্রদায় পুরস্কার।

- প্লাস্টিকমুক্তির চ্যাম্পিয়ন।


এই ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং পরিবেশ রক্ষার কাজকে আনন্দদায়ক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করবে।


প্রাথমিক বাস্তবায়ন


প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার ৩০টি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও বিদ্যালয় ও এলাকায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।


প্রত্যাশিত ফলাফল


প্রকৃতি মিত্রম কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—


- বাড়ি ও সম্প্রদায়ে প্লাস্টিক দূষণ কমবে।

- শিক্ষার্থী ও পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

- বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

- শিশু-কিশোরদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বিকাশ ঘটবে।

- পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে উঠবে। [1]


উপসংহার


“প্রকৃতি মিত্রম” কেবল একটি প্লাস্টিক সংগ্রহ কর্মসূচি নয়; এটি শিক্ষার্থী, পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে একত্রিত করে পরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আজকের ছোট ছোট অভ্যাস—প্লাস্টিক কম ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ—আগামী দিনের পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।


আসুন, আমরা শপথ নিই—প্লাস্টিক কম ব্যবহার করব, দায়িত্বশীলভাবে পুনর্ব্যবহার করব এবং পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়তে সক্রিয় ভূমিকা নেব।

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ছুটির সম্পূর্ণ তালিকা: দুর্গাপূজা, ঈদ, পূজা ছুটি, লিস্ট-১ লিস্ট-২ লিস্ট-৩ সহ PDF

 পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ বিভাগের ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের নং ৪১৮৮-এফপি২ বিজ্ঞপ্তিতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (NIA Act) অধীনে ২০২৬ সালের জন্য লিস্ট-১-এ উল্লিখিত তারিখগুলি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে,




যেমন নববর্ষ (১ জানুয়ারি), 

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন (১২ জানুয়ারি),

নেতাজির জন্মদিন (২৩ জানুয়ারি), 

সরস্বতী পূজা (২৩ জানুয়ারি), 

গণতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি), 

দোলযাত্রা (৩ মার্চ), 

ঈদ-উল-ফিতর (২১ মার্চ), 

রামনবমী (২৬ মার্চ), 

মহাবীর জয়ন্তী (৩১ মার্চ), 

গুড ফ্রাইডে (৩ এপ্রিল), 

ড. বি.আর. আম্বেডকরের জন্মদিন (১৪ এপ্রিল), 

নববর্ষ/নববর্ষা (১৫ এপ্রিল), 

মে ডে (১ মে), বুদ্ধ পূর্ণিমা (১ মে), 

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন (৯ মে), 

ঈদ-উদ-জোহা (২৭ মে), 

মহররম (২৬ জুন), 

স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট), 

জন্মাষ্টমী (৪ সেপ্টেম্বর), 

গান্ধীজির জন্মদিন (২ অক্টোবর), 

মহালয়া (১০ অক্টোবর), 

দুর্গাপূজা মহাষষ্ঠী-নবমী-দশমী (১৭-২০-২১ অক্টোবর), 



ভাইদুজ্দিন (১১ নভেম্বর), 

গুরু নানকের জন্মদিন (২৪ নভেম্বর) এবং ক্রিসমাস (২৫ ডিসেম্বর)। 


লিস্ট-২-এ রাজ্য সরকারের আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যেমন সরস্বতী পূজার আগের দিন (২২ জানুয়ারি), 

শবে-বারাত (৪ ফেব্রুয়ারি), 

হোলি (৪ মার্চ), 

দুর্গাপূজার অতিরিক্ত দিন (১৫-১৭ ও ২২-২৪ অক্টোবর), 

লক্ষ্মীপূজা (২৬ অক্টোবর), 

কালীপূজা (৯-১০ নভেম্বর) ইত্যাদি এবং



লিস্ট-৩-এ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক সেকশনাল ছুটি যেমন শিবরাত্রি (১৫ ফেব্রুয়ারি), হুল দিবস (৩০ জুন) 



ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও কলকাতার রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসুরেন্সেস ও স্ট্যাম্প রেভিনিউ কালেক্টর অফিস ব্যতিক্রম। মুসলিম উৎসবের তারিচ পরিবর্তন হলে পৃথক আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হবে এবং সূর্য-চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে তারিখ স্থির হবে। 

শীত পড়ছে! আসছে ২০২৬ সাল এখন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবেন যেসব খাবারের মাধ্যমে

যে খাবার যেভাবে খাবেন 


টমেটো:

টমেটোতে থাকা উপাদান ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা, সতেজ ও মসৃন করে। টমেটো মূলত ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি পুষ্টিকর ফল/সবজি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, হৃদ্‌স্বাস্থ্য, ত্বক ও চোখের জন্য বিশেষ উপকারী। সকালে খালি পেটে টমেটোর রস পান করুন। এছাড়া টমেটোর রস চালের গুঁড়ি দিয়ে মুখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রকৃতির টোনার হিসেবে কাজ করে। 



গাজর :

ইজের কোষ দেহনের, ত্বক পরিমাৎ উজ্জ্বল করা ও ত্বকের শুভতা কমাতে সহায্য করে। 


(প্রতিদিন রাসায়নিকযুক্ত চিকিৎসা বা সাপ্লিমেন্টের পেছনে ছুটছেন? সেসব ছেড়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। )

- ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে  

- সেল রিজেনারেশন বাড়িয়ে ত্বকের টোন ও টেক্সচার উন্নত করে ।

- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা-ক্যারোটিন থাকার কারণে ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে ।

- ত্বকের শুষ্কতা ও জ্বালা কমায়, হাইড্রেটেড রাখে ।

- প্রাকৃতিক সূর্য সুরক্ষা প্রদান করে, রোদে পোড়া বা ট্যান কমাতে সাহায্য করে।  

- বার্ধক্যজনিত সমস্যা যেমন বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা কমিয়ে তরুণত্ব ধরে রাখে।  

- ব্রণ ও দাগ কমাতে সাহায্য করে। 

- ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে কোলাজেন উৎপাদন উজ্জীবিত করে। 

- ত্বকের ডিটক্সিফিকেশন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।  

- গাজরের তেলের নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।  

সকালে এক থেকে দুটি গাজরের রস পান করুন। এছাড়া গাজর সেদ্ধ করে সবজির সঙ্গে বা স্যালাড হিসেবে খেতে পারেন।


পেঁপে:

পেঁপেতে থাকা এঞ্জাইম পাপেইন প্রোটিন ভাঙ্গতে সাহায্য করে, যা হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এছাড়া পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাসিয়াম থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায়, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় এবং ত্বক ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও পেঁপে উপকারী ভূমিকা পালন করে। এই সব কারণেই পেঁপে স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই কার্যকরী ফল।


 নিয়মিত তাজা পেঁপে খাওয়ার পাশাপাশি পেপের পেশী মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মতো রেখে জল অমোদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


লেবু :

লেবু ত্বকের জন্য অনেক উপকার করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। লেবু ত্বককে উজ্জ্বল করে, ব্রণ ও পিম্পল কমায়, ছিদ্র শক্ত করে এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কক্ষে সৃজন বাড়ায়। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও উপকারী, কারণ লেবু অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া লেবু বয়সের দাগ, কালো দাগ হালকা করতে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্যরোধক হিসেবে কাজ করে। তবে সরাসরি ব্যবহারে সতর্কতা থাকতে হবে কারণ লেবু সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে খুশকিতে পড়তে পারে 


লেবুর ত্বকের উপকারিতা সংক্ষেপে:

- ত্বক উজ্জ্বল করেব্রণ ও পিম্পল কমায়

- ছিদ্র শক্ত করে এবং তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে

- মৃত ত্বক এক্সফোলিয়েট করে

- বয়সের দাগ ও কালো দাগ হালকা করে

-কোলাজেন বৃদ্ধি করে, বার্ধক্যরোধে সাহায্য করে


ব্যবহারের সতর্কতা:

লেবুর রস খুব বেশি ব্যবহারে ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা হতে পারে 

সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার করার আগে সতর্কতা জরুরিলেবুর রসকে জল বা মিশ্রণের মাধ্যমে পাতলা করে ব্যবহার করা উচিত।


আপনি যদি লেবু ত্বকে ব্যবহার করতে চান, তবে প্রথমে ছোট অংশে পরীক্ষা করে দেখুন এবং প্রয়োজনে ত্বকের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মুখে লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া স্যালাড বা ভাল যেকোনও সবজির ওপর লেবুর বস দিয়ে খেতে পারেন। 


হলুদ 

হলুদ হলুদ ত্বকের ব্রণ নিস্তেজতা কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের হলুদ ব্যবহারের পাশাপাশি দুধে একটু হলুদ মিশিয়ে পান করতে পারেন, যা স্বাস্থ্য ও ত্বক উভয়ের জন্য ভালো। এছাড়া হলুদ ও দইয়ের সঙ্গে মাখিয়ে ব্যবহার করা যায়।


ত্বকের উপরে হলুদের উপকারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

-প্রদাহ কমায় এবং ফুসকুড়ি দূর করে

-ত্বককে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে

-ময়িশ্চারাইজ করে ও শুষ্ক ত্বক নরম করে

-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বকের সংক্রমণ কমায়

-ক্ষত বা দাগ দ্রুত সেরে ত্বক মসৃণ করে

-উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বকের রঙ উন্নত করে

-বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে

-ত্বকের তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে

-মেলানিন কমিয়ে ব্রণ রোধে সহায়ক


এই সুবিধাগুলো হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাবলীর জন্য সম্ভব হয়।



পালংশাক: 

পলাশকে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। 


এটি স্যালাড সুপ্, স্মৃদিতে মিশিয়ে খাওয়া যায় । 


ত্বকের উপর পালং শাকের উপকারের তালিকা নিম্নরূপ:

-ত্বককে নরম ও মসৃণ করে

-অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে 

-বয়সের ছাপ কমায়

-প্রদাহ কমিয়ে ত্বকের লালচে ভাব দূর

- করেময়শ্চারাইজ করে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে

-ত্বকের দাগ ও বিবর্ণতা কমাতে সহায়ক

-গ্লো বাড়ায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে

-ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে

-ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে

-সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে


এই সুবিধাগুলো পালং শাকের সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানের কারণে সম্ভব হয়।


সত্যি বলতে, এই শীতের দিনে হয়েক সবজি পাতে রাখতে হবে। তাহলেই অনেকটা চিন্তা মুক্তি সম্ভব।

Winter 2026: হারহিম শীতে রুম হিটার ব্যবহার করছেন? কিছু সতর্কতা


জবর শীত। পারদ দিনকে দিন নামতেই থাকছে। শীতে জবুথবু। হাড়হিম শীতের আরাম যেমন লেপ-কাঁথা, তেমনি রুম হিটার। এখন বাজারে ও অনলাইন এ আকছার পাওয়া যায় রুম হিটার। সুতরাং আপনি কি শীতের শুরু থেকেই রুম হিটার ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন কি ? 


রুম হিটার চটজলদি ঘর গরম করলেও নিয়মিত ব্যবহারে কিন্তু শরীরে বাসা বাঁধতে পারে কঠিন রোগ। তাই ব্যবহার বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। 



প্রথমত, হিটার থেকে গরম বাতাস বেরিয়ে আসে। এর ফলে ঘরের আর্দ্রতা কমে যায় ভীষণভাবে। এমনকী, ঘরের মধ্যের অক্সিজেন এর মাত্ৰা অনেকটাই কমে যায়। তাই, রুম হিটার ব্যবহারে যে নিয়মগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে- 


Bhojpuri Song 2025 Bhojpuri Song 2025: এটা ছাড়া শীতের পিকনিকে মজা পাওয়া যায় না।

আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘরে জল রাখুন 

হিটার চালালে ঘরের আর্দ্রতা কমে যায়, যা ত্বক ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে ঘরে একটি জলভর্তি পাত্র রাখতে হবে। আর্দ্রতা বজায় থাকবে। হিটার থেকে যে গরম বাতাস বের হয়, তা ত্বককে অত্যন্ত রুক্ষ ও শুষ্ক করে দেয়। 


হিটারের কারণে অনিদ্রা, মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কনভেনশান হিটার, হ্যালোজেন হিটার অত্যাধিক ব্যবহারে ব্যক্তিকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। 


বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন 

হিটার ব্যবহারের সময় জানালা বা দরজা সামান্য হলেও খোলা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। অক্সিজেনের ঘাটতি না হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থাকলে হিটার থেকে দূরে থাকুন। 


শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরাও এই যন্ত্রের কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। হিটারের বাতাস রোগীর ফুসফুসে কফ জমাতে শুরু করে। এই কারণে হাঁচি-কাশি হতে পারে। ফুসফুসে জমে থাকা কফ শুকিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। 


আগুন থেকে রুম হিটার দূরে রাখুন 

হিটারটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে কাপড়, কাগজ বা অন্য দাহ্য বস্তু কাছাকাছি না থাকে। হিটার চালানোর আগে নিশ্চিত করুন যে বৈদ্যুতিক সংযোগটি ঠিক আছে এবং হিটারটি নির্ধারিত তাপমাত্রায় কাজ করছে কিনা।


শিশু ও পোষ্যের থেকে দূরে রাখুন 

রুম হিটার শিশু ও পোষ্য প্রাণীদের নাগালের বাইরে রাখুন, যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে। যে বাড়িতে গ্যাস হিটার বা এলপিজি হিটার বেশি ব্যবহার করা হয়, সেসব পরিবারের শিশুদের মধ্যে অ্যাজমার সমস্যা সাধারণত বেশি দেখা যায়। এছাড়া কাশি, হাঁচি, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ ও ফুসফুসের ক্ষতির লক্ষণ বেশি দেখা যায় এসব পরিবারেই। কারণ, এই হিটার থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেরোয়। যা ছোট ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে।


রুম হিটার দীর্ঘ সময় না চালানো 

রুম হিটার দীর্ঘ সময় চালাবেন না। অতিরিক্ত হিটার চালালে নানা সমস্যা হতে পারে। এছাড়া রুম হিটার নিয়মিত পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করুন, যাতে যান্ত্রিক কোনো গোলোযোগ না হয়। 


প্রতিদিন হিটার ব্যবহারে যা হয় 

কাশি, মাথাব্যথা, বমি বা গা গোলানো, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, নাক বন্ধ হওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ে, অ্যাজমার রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি হিটার ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে কিছু সাবধানতা মেনে চলা ভালো। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি শীতে আরামদায়ক এবং নিরাপদ থাকতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গে SIR ২০২৫: ভোটার তালিকা পরিমার্জনের বিশেষ অভিযান ও তার প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) আতঙ্কের কারণে বেশ কয়েকজন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে বোঝা যায় এই আতঙ্কের প্রভাব কতটা গভীর। 


ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্লেষণ



SIR আতঙ্কে মৃত্যুর কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:


জলপাইগুড়ির নরেন্দ্রনাথ রায় নামের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি SIR আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আতঙ্কে দিনরাত মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।


হুগলির শেওড়াফুলিতে ৪৯ বছর বয়সী যৌনকর্মী বিতি দাস আত্মহত্যা করেছেন, তার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। তার মৃত্যুর পেছনে SIR আতঙ্কের কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে, যদিও পারিবারিক অশান্তি সম্পর্কিত কারণও তদন্তাধীন।


দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির শাহীনের পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ও স্ত্রীর নাম না থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, পরিবার জানিয়েছে SIR আতঙ্কে তাঁর মানসিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।


বীরভূমের সাঁইথিয়ায় বিমান প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগ তিনি SIR আতঙ্কে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।


মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ৫৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী তারক সাহা আত্মহত্যা করেছেন। তার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন


জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি মহকুমার লালুরাম বর্মণও SIR আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।


এসব মৃত্যুর ফলে রাজ্যজুড়ে SIR আতঙ্ক নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে এবং অনেকেই এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন। এই আতঙ্কে মানুষ শুধুমাত্র মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও প্রভাবিত হচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি করেছে।

 

বিভিন্ন জেলায় অন্তত সাত থেকে আটজনের মৃত্যুর খবর SIR আতঙ্কের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে, যার মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ও হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রধান।


SIR (বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া) চালু হওয়ার পর, বহু মানুষ—বিশেষ করে যাঁদের পুরোনো ভোটার তালিকায় নাম নেই বা যারা প্রমাণপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন—তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।


"প্রতিটি ভোটার, প্রতিটি ভোট গর্বের অধিকার"


আতঙ্ক ও প্রভাব :

SIR ঘোষণার পর থেকে বহু এলাকায় রাতারাতি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়, যেখান থেকে বহু মানুষ বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন বলে খবর সামনে এসেছে।


আতঙ্কের প্রভাবে বারবার আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। বহু জায়গায় আত্মহত্যার ঘটনা ও মানসিক অবসাদ বেড়েছে, বিশেষ করে যাঁদের নাম তালিকায় নেই বা যাঁরা নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথি জোগাড় করতে পারছেন না।


স্থানীয় মতে, অনেক বাংলাদেশি পরিবার এলাকাগুলি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, কারণ তাঁদের মধ্যে ব্যাপক ভয় এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আতঙ্কের জেরে কিছু পরিবার দিনের পর দিন ঘুমাতে পারছেন না, কেউ কেউ কাজ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মঘাতী হচ্ছেন এমন ঘটনাও হচ্ছে।


রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কএক পক্ষ অভিযোগ তুলেছে, SIR চালুর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে—এতে অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকে মানসিক চাপ বাড়ছে, যার ফলে চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন অনেকে।


অন্য পক্ষের দাবি—এই আতঙ্কের রাজনীতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে।


মানুষের উদ্বেগ পরিচয়পত্র ও নথি সংশ্লিষ্ট জটিলতা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই—এইসব কারণেই জনমানসে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক প্রবল হয়ে উঠেছে।


আতঙ্ক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, দিনমজুর, গৃহকর্মী, শিক্ষক, বৃদ্ধ—সকলের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 


SIR আতঙ্ক' তাই শুধুমাত্র নথিজটিলতা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, মানুষের মধ্যে গভীর মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার ছবি তুলে ধরছে—যার বাস্তব প্রতিফলন পশ্চিমবঙ্গের বহু অঞ্চলে দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


SIR এর কাজ:

SIR হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া। এতে ভোটারদের মধ্যে থাকা ভুল তথ্য ঠিক করা, নতুন ভোটার যোগ এবং মিথ্যা বা মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়। 


SIR-এর সময়: 

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ 'Enumeration Form' বিলি করা হয়।

ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়। যাদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাদের আলাদা ফর্ম দেওয়া হয় এবং নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। 


বহুমাত্রিক তথ্য যেমন জন্ম তারিখ, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে SIR কাজ দ্রুতগতির আর সফলভাবে চলছে এবং এতে প্রধানত শিক্ষকরা BLO হিসেবে কাজ করছে।


BLO (Booth Level Officer) এর কাজ:

BLO হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কর্মী যিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এবং ভোটার তালিকা সঠিক রাখার দায়িত্বে থাকেন।


BLO'র কাজের মধ্যে রয়েছে: 

ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন করা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা। 

ভোটার আইডি কার্ড বিতরণ এবং ভুল তথ্য সংশোধনে সাহায্য করা।

ভোটারদের ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম কল করার কাজে সহায়তা করা।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় পোলিং বুথে সহায়তা প্রদান।

ভোটারদের মধ্যে ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।


সার্বিকভাবে SIR হলো ভোটার তালিকা পরিমার্জনের একটি বিস্তৃত কাজ, আর BLO তার মাঠ পর্যায়ের কর্মী যিনি SIR প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গৃহীত তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভোটারদের সহায়তা পর্যন্ত কাজ করেন।


SIR প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম ভরাট করার নিয়ম নিম্নরূপ:


এনুমারেশন ফর্ম কী? এনুমারেশন ফর্ম হলো একটি তথ্য সংগ্রহ ফরম, যার মাধ্যমে ভোটারের ব্যক্তিগত ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এটি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


এনুমারেশন ফর্ম ভরাটের ধাপ: 


ফর্মে নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে লিখুন।


ভোটারের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য যেমন ভোটার আইডি নম্বর, পুরোনো ভোটার তালিকায় নাম থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন।


আধার নম্বর এবং অন্যান্য পরিচয় পত্র সম্পর্কিত তথ্য দিন।


বর্তমান ঠিকানা এবং পূর্বের ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন, বিশেষ করে যদি ঠিকানা বদল হয়ে থাকে।পরিবারের সদস্যদের তথ্য দাখিল করুন, যা পরিবারভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।


ফর্মে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাবেন, কারণ ভুল তথ্য পুনরায় সংশোধন কঠিন হতে পারে।


ফর্মে যেকোনো সংশয় থাকলে স্থানীয় BLO বা ভোট অফিসার থেকে সাহায্য নিতে পারেন।


ফর্ম পূরণের সহায়তা:


এনুমারেশন ফর্ম পূরণে BLO বা স্থানীয় ভোট অফিসার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা করবেন। তারা ফর্ম সরবরাহ করবেন এবং তথ্য সঠিক ভরাট হচ্ছে কিনা তাও খেয়াল রাখবেন।


পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার শুরু, শেষ এবং অন্যান্য প্রধান তারিখগুলি নিম্নরূপ:


SIR এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয় ৪ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে। এই দিন থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ শুরু করেন।


ফর্ম বিতরণ ও পূরণের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫। এর মধ্যে সকল ভোটারকে ফর্ম পূরণ করে BLO-দের কাছে জমা দিতে হবে।


খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে।


৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ, দাবী ও আপত্তি ছাড়ার সময়কাল থাকবে।


অভিযোগ যাচাই বাছাই এবং শুনানির প্রক্রিয়া চলবে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত।


চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ। এই তালিকা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ভিত্তি হবে।


সারসংক্ষেপে, পশ্চিমবঙ্গের SIR প্রক্রিয়াটি ৪ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন হবে, যেখানে ভোটার তালিকার সংশোধন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।


এখানে SIR প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ এনুমারেশন ফর্মের নমুনার বিবরণ দেওয়া হলো যেটি ভোটারদের তথ্য যাচাই ও হালনাগাদের জন্য পূরণ করতে হয়:


SIR এনুমারেশন ফর্ম নমুনা (সংক্ষিপ্ত বিবরণ)

1. ভোটার বা আবেদনকারীর নাম

2. ভোটার আইডি কার্ড নম্বর (EPIC)

3. জন্ম তারিখ (দিন/মাস/বছর)

4. আধার নম্বর (ঐচ্ছিক) :

5. মোবাইল নম্বর:

6. পিতার বা অভিভাবকের নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

7. মাতার নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

8. স্বামী বা পত্নীর নাম ও ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)

৯. ঠিকানা (বর্তমান ও পূর্ববর্তী)

১০. ভোটার তালিকায় নামের অবস্থান (পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বর, এসি নম্বর)

১১. ভোটারের ছবি (আঠালো করে পেস্ট করার জন্য)

১২. স্বাক্ষর অথবা বাম আঙ্গুলের ছাপ

১৩. অনুরোধকারী বা পরিবারের অন্য সদস্যের স্বাক্ষর (যদি ভোটার নিজে ফর্ম পূরণ না করেন)

১৪. BLO-এর (Booth Level Officer) যাচাই ও স্বাক্ষর


এই ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে ভোটার সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে এবং প্রমাণ পত্র (জন্ম সনদ, আধার, পাসপোর্ট ইত্যাদি) সংযোজন করতে হতে পারে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় এই ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


আপনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের CEO ওয়েবসাইট থেকে এই ফর্মের PDF ডাউনলোড করতে পারেন। যেমন: Election Commission of India - Voter ফর্মুস জেলার CEO অফিসের অফিসিয়াল সাইট গুলোর উদাহরণ ফর্ম লিংক: SIR Enumeration Form Annexure-III (Sample): ceoandaman.nic.in এর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী SIR Voter Enumeration Form PDF (42KB) - theni.nic.in সাইটে পাওয়া যায় এই ফরম্যাট সাধারণত ভোটারদের বাড়িতে BLO দ্বারা সরবরাহ করা হয় এবং অনলাইনে সাবমিশন সুবিধাও থাকছে অনেক জায়গায়।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা এখানে ক্লিক করে সংগ্রহ করুন 

ভোটার তালিকা (Voter List)

ভোটার তালিকা সংশোধন (Voter List Revision)

ভোটার নাম অন্তর্ভুক্তি (Voter Inclusion)

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision)

ভোটার এনুমারেশন (Voter Enumeration)

ভোটাধিকার (Voting Rights)

নির্বাচন কমিশন (Election Commission)

ভোটার ফর্ম পূরণ (Voter Form Filling)

ভোটার তালিকা আপডেট (Voter List Update)

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন (West Bengal Election)

ভোটার সচেতনতা (Voter Awareness)

ভোটার পরিচয় (Voter Identity)

নির্বাচন প্রক্রিয়া (Election Process)

ভোটার নথি (Voter Documents)

ভোটার নাম ফিল্টার (Voter Name Verification)

Y

Madhyamik 2025 : এই কৌশল গুলো অনুসরণ করে পড়াশোনা করলে সাফল্য কেউ আটকাতে পারবে না

আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, চলবে ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ শনিবার পর্যন্ত। হাতে রয়েছে আর মাত্র কিছুদিন। ৮ দিন ধরে মোট আটটি বিষয়ের পরীক্ষা হবে। শেষ দিনে হবে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা। 

এখন দেখে নেয়া যাক , রুটিন অনুযায়ী কোন পরীক্ষার আগে কতদিন ছুটি।


মাধ্যমিক পরীক্ষার রুটিন:

১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (সোমবার)- বাংলা

১১ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (মঙ্গলবার)- ইংরেজি

১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (শনিবার) - গণিত

১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (সোমবার)- ইতিহাস

১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (মঙ্গলবার )- ভূগোল

১৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (বুধবার)- জীবন বিজ্ঞান

২০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার)- ভৌত বিজ্ঞান

২২ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ (শনিবার)- ঐচ্ছিক বিষয়


ছাত্র ছাত্রী দের পরীক্ষা প্রস্তুতির সাথে সাথে একটা চিন্তা থাকে কিভাবে পরীক্ষার ফল ভালো করা যায়। কোনও ম্যাজিকের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল ভালো করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন হয় প্রতিদিনের পড়াশোনা ও তার পাশাপাশি কিছু কৌশল অবলম্বন করার। তাহলে অনেক কম পরিশ্রমেও সহজেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

সফ্টড্রিংক ড্রিংক গ্রহণ করার পর বোতল ফেলে দিচ্ছেন? পেতে পারেন স্মার্টফোন।

সুতরাং সব বিষয়ে আগামী পরীক্ষায় বাজিমাত করতে হলে প্রতিদিনের কার্যপ্রণালী বা পরীক্ষা হলে নিচের সহজ কৌশল গুলি অবলম্বন করলে পরীক্ষার ফলাফল খুব ভালো হতে বাধ্য ।

Success mantra of Madhyamik 2023

সুন্দর উপস্থাপনা

বাংলায় প্রচলিত একটা প্রবাদ আছে - 'প্রথমে দর্শনধারী, পরে গুনবিচারী। অর্থাৎ পরীক্ষার উত্তরপত্রের খাতা যেন সৌন্দর্যপূর্ণ হয় যেন সহজেই পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরিস্কার, পরিছন্ন হাতের লেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী মার্জিন ছেড়ে লেখা, প্রতিটি উত্তরের মাঝে নিদিষ্ট ভাবে ছেড়ে লেখা ইত্যাদি একটি ভালো খাতার বৈশিষ্ট। চেষ্টা করতে হবে যাতে ভুল বানান বা অযথা লিখে খাতায় কাটা কাটি না করতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পেলো হাই স্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস 

সময় ব্যবস্থাপনা

এটা ভুল ধারণা যে প্রচুর লিখে অনেক নম্বর পাওয়া যায়। প্রশ্নে যা চাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেইটুকু সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করলেই সম্পূর্ণ নাম্বার পাওয়া যায়। এতে সময় অপচয় কম হবে আর সময়ের অভাবে প্রশ্নত্তর না লিখে আসার সম্ভাবনাও আর থাকবে না।

২০২০ সালের আপনার মিস হয়ে যাওয়া কিছু বাংলা সিনেমা 

না দেখে লেখার অভ্যাস করা

যে কোনও লেখা বুঝে পরার পর, না দেখে লেখার অভ্যাস করতে হবে। আমরা যায় পড়ি না কেন, কখনো টা হুবহু মনে থাকে না। তাই প্রথম দিকে না দেখে লিখতে গেলে টা ভুলে ভরা হবে, কিন্তু প্রতিদিন অভ্যাস করলে একসময় নির্ভুল হবেই। কথায় আছে 'Practice makes a man perfect.


পড়াশোনার ধারাবাহিকতা

পড়াশোনা করার ধারাবাহিকতা ভীষণ দরকার। অল্প হলেও প্রতিদিন পড়তে হবে। হটাৎ করে পরীক্ষার আগে, দিন রাত এক করে পড়লেও ভালো ফলাফল সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিষয় ভিত্তিক বুঝে পর্বে হবে। বাংলা বা ইংরেজি ব্যাকরণ বা অংকের মত বিষয় প্রতিদিন চর্চার মধ্যে রাখতে হবে, তবে ফুল মার্কস পাওয়া যাবে।


মাধ্যমিক পরীক্ষাজেনে নিন ২০১৫ সাল থেকে কারা প্রথম স্থান পেয়েছে

প্রশ্ন নির্বাচন

অল্প লিখে ভালো নাম্বার পাওয়ার অন্যতম পন্থা - যেমন কোন প্রশ্নের উত্তর লিখবে তা নির্বাচন করা। যেমন ধরা যাক প্রশ্নমান - ৫ - এরকম তিনটি প্রশ্ন রয়েছে - যাদের নম্বর বিভাজন ৩ রকমের। প্রথম টি পুরো ৫ নম্বরের, দ্বিতীয় টি - ( ১+ ৪) ও তৃতীয় টি (২+৩), এক্ষেত্রে তৃতীয় প্রশ্নটি চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রশ্নের মান যত কম হবেব তত কম লিখতে হবে ও নম্বর কাটা যাওয়ার সুযোগ কমতে থাকবে।

ভারতের ২৫ টি বিভিন্ন উৎসব

সৃজনশীলতা.

নোট বই থেকে উত্তর মুখস্হ করে হুবহু লিখতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই কিছু শব্দ বাদ পরে যাওয়া খুব সাধারণ একটি ভুল - সেক্ষেত্রে লাইন টির অর্থই পরিবর্তন হয়ে যায়। এর চেয়ে অনেক বেশি ভালো যদি নিজেদের মত করে গুছিয়ে সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপন করা যায়। এতে লেখার সৃজনশীলতা আসবে ও ভুল হওয়ার সম্ভবনা থাকবে না।

কালিম্পঙ এর নিরালায় কাগে  অন্য স্পট 

Offbeat Explorer Kaghey at Kalimpong

ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি:

যে সকল ছাত্র ছাত্রী ক্লাসে নিয়ম করে উপস্থিত থাকে ও ক্লাস লেকচার শোনে তারা অনুপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের ছেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ফলাফল করে। কারণ ক্লাসে শিক্ষক শিক্ষিকারা অনেক কঠিন বিষয় দীর্ঘক্ষন আলোচনার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই বুঝিয়ে দেন, যা আত্মস্থ করতে পারলে তা অনেকদিন পর্যন্ত মনে থাকে ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।

এই যুগে মহাপুরুষ মনীষীদের কিছু দরকারী বাণী এবং কেন প্রয়োজন |

গ্ৰুপ স্টাডি করা:

ভালো ফলাফল করার জন্য গ্রুপ স্টাডি গুরুত্ব পূর্ণ টেকনিক। একটা সঙ্গে গ্রুপ করে পড়লে সে বিষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা জন্মে, ফলে পড়ার বিষয় যেমন সহজ হয়, তেমনি একে অপরকে প্রশ্নত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুশীলন করলে দীর্ঘদিন সেই উত্তর স্মৃতিতে গেথে থাকে। এতে শেখার আগ্রহ বেড়ে যায়।

কেদারনাথে সোনায় বাধানো গর্ভগৃহ

'To the point' লেখা

জ্ঞান মুলক প্রশ্নের (মান - ১) ক্ষেত্রে একটি পূর্ণ বাক্য উত্তর লিখলেই যথেষ্ট। আখ্যানধর্মী প্রশ্নের ( মান - ৩) ক্ষেত্রে দুটি প্যারায় উত্তর লিখতে হবে। অন্যদিকে রচনা ধর্মী প্রশ্নের (মান -৫) ক্ষেত্রে ৩টি প্যারা বাঞ্চনীয়।

২০১৯ সালের কিছু ভালো বাংলা সিনেমা

সঠিক পরিকল্পনা :- 

অনেক সময় দেখা যায় ছাত্রছাত্রীরা কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পায় না, এর প্রধান কারণ হল সঠিক পরিকল্পনার অভাব। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে প্রতিদিন পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করতে হবে এবং সময়সূচি মেনে পড়াশোনাও করতে হবে। এই সময়সূচিতে প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে পঠনপাঠন করতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি চিহ্নিত করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি নিজ হাতে লিখে নিতে হবে। 


রিভিশনের ওপর গুরুত্ব দেয়া:- 

প্রতিদিন পড়ার পাশাপাশি যা আগে পড়া হয়েছে তা রিভিশন অবশ্যই করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন পুরোনো পড়া রিভিশনের এর জন্য রাখতে হবে। রিভিশন যত বেশি করবে আত্মবিশ্বাস তত বৃদ্ধি পাবে এবং পুরোনো পড়াগুলো অনেক বেশি মনে থাকবে।


মক টেস্ট ও পুরোনো প্রশ্নপত্র অনুশীলন:- 

অনুশীলন পারফেকশন আনে। পড়াশোনা শুধুমাত্র মুখস্থ করলেই হবে না বুঝে মুখস্থ করে তা বারবার অনুশীলন করতে হবে। তাই বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ও মক টেস্ট সমাধান করতে হবে। শুধু পড়ার চেয়ে লিখে অনুশীলন করলে বিষয়বস্তু বেশিদিন মনে থাকে। অনুশীলনের মাধ্যমে ভুলগুলি চিহ্নিত করে সংশোধন করতে হবে। বাড়িতে পরীক্ষার মাধ্যমিক এর মতো পরিবেশ তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের সাহায্য নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।


স্মৃতি ধরে রাখার কৌশল 

প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর একটি বিশেষ সমস্যা হল পড়া ভুলে যাওয়া। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পড়ার সময় মূল পয়েন্টগুলোকে মার্ক করতে হবে এবং বিষয়বস্তুকে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে রাখতে হবে। একনাগাড়ে এক ঘণ্টার বেশি পড়া যাবে না এবং যা পড়লে তা কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে আবার নতুন পড়ার দিকে এগোতে হবে।


মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা 

পড়ার মাঝে এবং কিছু সময় বিনোদন ও শরীরচর্চার জন্য ব্যয় করতে হবে। মাঝে মাঝে মন অশান্ত হয়ে উঠলে ধ্যানের মাধ্যমে কোনও মহাপুরুষ বা তুমি যাকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা ভক্তি করো তাঁর কথা ভাবতে হবে। দেখা যাবে মন শান্ত হয়ে গিয়েছে। কঠিন বিষয়বস্তুকে উদাহরণ মনে রাখার ক্ষেত্রে নিজেরাই ছড়া বানিয়ে বা কোনও বর্ণগুচ্ছ বানিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করা ও এই ধরনের অভ্যাস যে কোনও কঠিন জিনিসকে দীর্ঘদিন মনে রাখতে সাহায্য করে। 


পরীক্ষার আগের মানসিক প্রস্তুতি 

পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে বিরত রাখতে হবে । এখন পরীক্ষাথীদের একমাত্র কাজ পরিকল্পনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করা। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা, নেতিবাচক চিন্তাধারার মানুষজন থেকে নিজেদের দূরে রাখা। সর্বোপরি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে কারণ নিজের ওপর বিশ্বাসই হচ্ছে জীবনে উন্নতি লাভের একমাত্র পথ। 


পরীক্ষার আগের দিন নতুন করে কোনও পড়া কক্ষনো পড়তে যাবে না শুধুমাত্র পুরোনো পড়াগুলোই রিভিশন হবে। বেশি রাত্রি পর্যন্ত না জেগে পরের দিন পরীক্ষা দিতে গেলে শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকবে এবং ১০০ শতাংশ পরীক্ষার হলে উজাড় করে দেয়া যাবে।

Ghost: বাংলার ভৌতিক চরিত্র, একা রাতে এই তথ্য পড়ার সময় আপনিও একবার পিছন ফিরে তাকাবেন!

কিছুদিন আগেই স্ত্রী-২ সিনেমা রিলিজ হয়েছিল, স্ত্রী-২ ভুতের চরিত্র সারকাটা অর্থাৎ মাথা কাটা, এই সারকাটা বা ভুলভুলাইয়ার মঞ্জুলিকার মত বাংলায় অসংখ্য ভৌতিক চরিত্র অর্থাৎ অশরীরী চরিত্র বর্তমান।



বাংলার লোকসাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করবার সময় প্রথমেই যা নজরে আসে তাহল বাংলার ভৌতিক লোককথা। এই ভৌতিক লোককথার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো ভুতুড়ে চরিত্র। বাংলার অসংখ্য লেখক এই ভৌতিক চরিত্র গুলোর উপর গল্প উপন্যাস লিখে গেছেন। 

আরও পড়ুন : ২০২৪ এ সর্বাধিক আয় করেছিল ভারতের যে সিনেমা 

ভূত হল এক ধরনের অতৃপ্ত আত্মা। প্রাচীন লোককথা থেকে জানা যায়, মৃত্যুর পর যে সমস্ত মানুষের আত্মা শান্তি খুঁজে পাইনি পৃথিবীতেই ঘুরে বেড়িয়েছে তারাই হল ভূত। শুধু তাই নয় লোকসাহিত্য এটাও বলা হয়েছে, জীবজন্তুর আত্মাও মৃত্যুর পরে মুক্তি না পেলে অশরিরীয় শক্তিতে পরিণত হয়। বাংলার ভৌতিক লোককথায় ভুত, দৈত্য- দানব এই চরিত্রগুলি খুবই স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। শুধুমাত্র প্রাচীনকালে নয় বর্তমান সময়কালের রূপকথার গল্পেও এই চরিত্রগুলির বিবরণ পাওয়া যায়।

ভারতীয় লোকসাহিত্যে অনেক প্রকার ভুতূরে চরিত্রের প্রকাশ পাওয়া যায়। সেই সম্পর্কে নিম্নে কিছু ধারণা প্রদান করা হলো-


ডাইনি: 

লোকসাহিত্য থেকে জানা যায়, ডাইনি কোন আত্মা নয় এরা মৃত বা জীবিত দুধরনের হতে পারে। এরা  সাধারণত  জীবিত বৃদ্ধা নারী যারা ডাইনিবিদ্যায় পারদর্শী। এরা নিজেদের বৃদ্ধা রুপ লুকিয়ে যুবতী রূপ ধারণ করে থাকে এবং গ্রামগঞ্জের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্বীকার করে। এই শিশুদের তুলে এনে হত্যা করে এরা তাদের রক্ত মাংস খেয়ে দীর্ঘ ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।


ব্রহ্মদৈত্য: 

প্রাচীনকালের অতি পরিচিত এক ধরনের ভূতুড়ে চরিত্র হলো ব্রহ্মদৈত্য। লোককথায় জানা যায়, ব্রহ্মদৈত্য হল অভিশাপগ্রস্ত ব্রাহ্মণের অতৃপ্ত আত্মা। সাধারণত এরা ধুতি ও পৈতা পরিধান করে থাকে এবং সমাজে এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এরা অত্যন্ত দয়ালু প্রকৃতির হয়। বহু দুঃখী মানুষকে সাহায্য করে থাকে এবং বিপদের হাত থেকেও রক্ষা করে।


দেও: 

এমন এক ধরনের ভূত যারা নদীতে বা

জলাশয় বসবাস করে। লোকমুখে শোনা যায়, এরা লোকজনকে জলে ডুবিয়ে মারে।


পেত্নি: 

প্রাচীন  ভৌতিক লোককথার একটি জনপ্রিয় চরিত্র হল পেত্নি । এরা হল নারীদের অতৃপ্ত আত্মা । লোককথা অনুসারে যেসমস্ত নারীরা বেঁচে থাকার সময় নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা কোনটাই পূরণ করতে পারিনি। বিয়ের আগেই কোনো দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এবং তারা নিজেদের জীবনে কোনো খারাপ কাজ করবার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। সে সমস্ত নারীদের আত্মা মৃত্যুর পরেও মুক্তি না পৃথিবীতেই ঘুরে বেড়ায়, এরাই পেত্নী নামে পরিচিত।


পেত্নীরা খুব বদমেজাজী হয়। এরা নিজের রূপ ও আকার বদলাতে পারে, এমনকি পুরুষের রূপ ধারণ করতে পারে। এরা সেইসব মানুষদের পছন্দ করে না যারা সুখে শান্তিতে বেঁচে আছে।


গেছো ভূত: 

গেছো  শব্দটি এসেছে গাছ থেকে। এমন কিছু ভূত রয়েছে যারা গাছে বাস করে তাদের বলা হয় গেছো ভূত।


বুকে চোখ: 

এই ধরনের প্রেতাত্মার কোন মাথা থাকে না। এদের বুকে একটিমাত্র চোখ থাকে এবং এরা মানুষের স্বপ্নে এসে ভয় দেখায়। এমনকি এই ভূতেরা রাতের একাকী মুহূর্তে মানুষকে আক্রমণ করে থাকে।


পিশাচ: 

পিশাচ এক ধরনের দানব। এরা কোন আত্মা নয় দেহধারী শয়তান। এরা মানুষের মৃতদেহ ভক্ষণ করে। প্রাচীন লোককথা অনুসারে  এরা প্রায় এক হাজার, এক রাত্রি বেঁচে থাকে।


বোবা: 

রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে মানুষের উপর ভর করে এমন প্রেতাত্মার নাম বোবা। সাধারণত চিৎ হয়ে শুলে নাকি বোবা সহজে মানুষকে আক্রমণ করতে পারে। এই সময় মানুষের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মানুষের বিকৃত স্বরে গোঙাতে থাকে এবং সহজে তাকে জাগিয়ে তোলা যায় না। এই সময় মানুষের  শরীরও  অসাড় হয়ে পড়ে।


মামদো ভুত: 

হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, মামদো হলো মৃত মুসলমানদের আত্মা। মামদো ভূতের  শ্রেণীভূক্ত পেতাত্মা। এটি পুরুষ ভূত, এই ভূত বাতাসে মিশে থাকে এবং লোকালয়ের আশেপাশে কোন গাছ গাছরা আশ্রয় নেয়। এরা মানুষকে বিপদে ফেলতে এবং অনিষ্ট করতে অনেক আনন্দ পেয়ে থাকে।


টাকরা-টাকরি: 

লোককথায় টাকরা- টাকরি নামক এক অশরিরীয় প্রেতাত্মার উল্লেখ পাওয়া যায়। এরা ছোট ছোট শিশুদের ধরে খেয়ে ফেলে বলে  দীর্ঘদিন ধরে  প্রচলিত রয়েছে।


জিন: 

জিন জাতিতে হলো মুসলিম। এরা এক অশরীরী  ও শয়তান। এদের কোন রোগ নেই এরা অন্ধকারে  সবার অন্তরালে বাস করে। আরবি জিন শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অদৃশ্য বা গুপ্ত। এরা বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে যেমন জিন-শয়তান, এরা শয়তানের বংশধর যারা ভগবানের আদেশ অমান্য করে খারাপ পথ বেছে নেয় এবং মানুষের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এরা বিভিন্ন রূপও ধারণ করতে পারে।      


দ্বিতীয় হল ক্কারিন, এরা মানুষের মনে পাপের সঞ্চার ঘটায়। এরপর রয়েছে খাসিব, এরা নোংরা স্থানে থাকে এবং মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। 


লোককথা অনুসারে, কিছু ভালো জিনও রয়েছে। যারা মানুষের সাহায্য করে থাকে কিন্তু খারাপ জিন অনেক বেশি ক্ষতি করা হয়। এরা খুব শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং সহজেই মানুষকে বশ করে নিতে পারে। এদের কোন রুপ বা আকার থাকেনা, কিছু অদ্ভুত শব্দের মাধ্যমে এরা  মানুষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে।


ভূতুড়ে আলো: 

রাতের অন্ধকারে খোলা স্থানে ও জলাভূমির কাছাকাছি কোন স্থানে এই ধরনের আলো দেখতে পাওয়া যায়। মাটি থেকে একটু উপরে এই আলোগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। এই আলোগুলি  নিজেদের আকার রং বদলাতে পারে। এরা কখনো ধীরে আবার কখনো খুব দ্রুত গতিতে যাত্রা করে। যে মানুষেরা এই আলোগুলির পিছু নেয়  তারা আর কখনো ফিরে আসে না।


সুন্দরবন ও রাজস্থানে এই আলো প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, এই আলোর জন্যে বহু জেলেরা তাদের প্রাণ হারিয়েছে।


জুজু: 

এটি  হল স্ত্রীভূত। জুজু আসলে বৃদ্ধা  পিশাচ। লৌকিক কাহিনী অনুসারে, এরা ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যায়।


বেতাল: 

হিন্দু লোককাহিনী মতে, বেতাল একটি অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন প্রাণী। এটি  আত্মা বিশেষ  যার কোন মৃত্যু নেই, সে যে কারোর শরীরে ভর করতে পারে। 


বেতাল শ্মশান ঘাটে ঘুরে বেড়ায় এবং মৃত মানুষের শরীরে নিজেদের বাসা তৈরি করে। এরা সাধারণত গাছে উল্টো ঝুলে থাকে। রাজা বিক্রমাদিত্যের গল্পেও বেতাল চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।


কানাভুলো: 

এই শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দেয় এবং কোন নির্জন, অচেনা এলাকায় তাদের নিয়ে আসে। এদের জন্য কখনো কখনো মানুষের একই পথ দিয়ে বারবার যাত্রা করে ও ঘুরপাঁক খেতে থাকে। এরা তাদের শিকারকে পছন্দমত স্থানে নিয়ে গিয়ে আক্রমণ করে। এই ভুতেরা নির্জন এলাকায় মানুষকে আক্রমন করে। এই ধরনের ভূতেদের  রাতে গ্রামের মাঠের ধারে এবং পথের মাঝে দেখতে পাওয়া যায়। 


ঝেয়ো পেত্নী: 

এই পেত্নীরা নিজেদের ঝাউগাছ লুকিয়ে রাখে। এরা পথযাত্রীদের নানাভাবে অত্যাচারিত করে।


ভরসন্ধ্যাবেলায় কোন পথিক একা একা ঝাউবন বেরোবার সময় তাদের এই পেত্নীরা গাছের সবচাইতে   উচু ডালে চড়িয়ে দেয়। 


ডাকিনী: 

ডাইনী বুড়িদের একশ্রেণীর মধ্যে হলে ডাকিনী। এরা পুকুর ধারে কোন নারকেল বা তাল গাছে বাস করে। ডাকিনী পাতিহাঁস খেতে খুব পছন্দ করে। এদের অন্যতম একটি অভ্যাস হলো, এরা দিনে দুপুরে মেয়েদের রুপ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।


মেছোভুত: 

মেছো শব্দটি বাংলা মাছ শব্দ থেকে এসেছে। মেছো ভূতেরা মাছ খেতে খুব পছন্দ করে, এরা সাধারণত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে যেখানে বেশি পাওয়া যায় সেসব স্থানে বাস করে।


মেছোভুত নির্জন স্থানে মাছ বহনকারী ব্যক্তিদের আক্রমণ করে, মাছ ছিনিয়ে নেয় আবার কখনো কখনো তাদের পিছু নিয়ে ফেলে। এরা জেলেদের নৌকা থেকে মাছ চুরি করে খেয়ে নেয়।


চোরাচুন্নি: 

প্রাচীন কাহিনী অনুসারে, চোরাচুন্নি হলো এমন কোনো অতৃপ্ত  আত্মা যারা  জীবিত অবস্থায় চুরির কাজে নিযুক্ত ছিল। মৃত্যুর পর কোন চোরেরা মুক্তি না পেলে তারাই চোরাচুন্নি তে পরিণত হয়।

                           

চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির হয় এরা মানুষের অনিষ্ট করতে থাকে। কথিত আছে, পূর্ণিমা রাতে এরা মানুষের বাড়িতে ঢুকে ক্ষতি সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচতে গঙ্গাজল এর ব্যবস্থা করা হয় বাড়িতে।


কিচনি: 

কিচনি হলো জলের এক অলৌকিক জীব। এরা বদ্ধ পুকুর এবং জলাশয় বসবাস করে। যে স্থানের জল বেশি গভীর হয় সেখানে কিচনি থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। লোককথায় জানা যায়, কিচনির অনেক লম্বা কালো ঘন চুল থাকে।


বেঘোভূত: 

লোককাহিনী অনুসারে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে, যেসব মানুষের মৃত্যু বাঘের আক্রমণের কারণে হয়েছে তাদের অতৃপ্ত আত্মারাই রুপ নেয় বেঘোভূতের।


বেঘোভূতেরা বনে আগত মধু সংগ্রহকারীদের পথ ভুলিয়ে বাঘের কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং তাদের ভয় দেখানোর জন্য কখনো কখনো বাঘের স্বরে ডেকে ওঠে। সাধারণত সুন্দরবন এলাকায় এ ধরনের ভূতের উপদ্রব বেশি প্রচলিত।


নিশি: 

ভূতেদের মধ্যে অন্যতম হলো নিশি এরা নির্জন এলাকায় মানুষ কে একা পেয়ে আক্রমণ করে। নিশি গভীর রাতে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তার শিকারকে তাদের প্রিয়জনের কন্ঠে ডাক দেয় এবং ঘর থেকে বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করে। যে মানুষেরা নিশির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে তাদের আর কোনদিনও দেখতে পাওয়া যায় না। অনেকে মনে করে, কিছু তান্ত্রিক প্রতিশোধের জন্য নিশিকে ব্যবহার করে থাকে। তবে লোককথা থেকে জানা যায়, নিশি কখনোই কোন মানুষকে দুবারের বেশী ডাকতে পারেনা।


স্কন্ধকাটা: 

এরা হলো এক অলৌকিক জীব। এরা মাথাবিহীন হয়ে থাকে এবং এলাকা বিশেষে এরা বিভিন্ন নামে পরিচিত। এরা হলো সেইসব মানুষের আত্মা যাদের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনায় মাথা কাটা পড়ার কারণে হয়েছে। এই শ্রেণীর ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং অন্যান্য মানুষকে আক্রমণ করে নিজের দাসে পরিণত করে। শুধু তাই নয় তাদেরকেও তার মাথা খোঁজার কাজে লাগায়। এরা পথের পাশে কোন গর্তে ঝোপেঝাড়ে বাস করে।

রায়গঞ্জের তুলাইপাঞ্জি চাল অতুলনীয় স্বাদ ও সুগন্ধির জন্য বিশ্ব বাজারে সমাদৃত, কি এর গুণাবলী? কত চাষ হয়?

"তুলাইপাঞ্জি" নামটি দুটি বাংলা শব্দ থেকে এসেছে: “তুলাই” যার অর্থ কোমল বা হালকা এবং “পাঞ্জি” যার অর্থ চাল। এই জাতটির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এটি শতাব্দী ধরে পশ্চিমবঙ্গে চাষ করা হয়ে আসছে, যার বৈশিষ্ট্যগুলি স্থানীয় রন্ধনপ্রথায় অঙ্গীভূত হয়েছে।


Pic: Amazon

তুলাইপাঞ্জিকে 'অ-বাসমতি সুগন্ধি চাল' হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। এটির গড় দৈর্ঘ্য 5.5 মিমি, দৈর্ঘ্য/প্রস্থ অনুপাত 3.4 এবং প্রসারণ অনুপাত 1.6 সহ মাঝারি-লম্বা সরু দানা রয়েছে। 


এই জিআই ট্যাগ করা প্রাচীন লোক চাল 2012 লন্ডন অলিম্পিকে আমাদের অপরাজেয় রন্ধন সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছিল! তুলার (তুলন) মতো সুগন্ধি এবং নরম, এটাই তুলাইপাঞ্জির অর্থ এবং স্বাদ। এর সুগন্ধি এই অ-বাসমতী ভাতকে পুলাও, ভাজা ভাত, বিরিয়ানি এবং পিঠে, পায়েশের মতো মিষ্টান্ন এবং স্থানীয় সুস্বাদু খাবারের জন্য একটি দুর্দান্ত পছন্দ করে তোলে। আমরা প্রায়শই এটি আমাদের রোজের চাল (আমাদের প্রতিদিনের চাল) হিসাবেও ব্যবহার করি।


রান্না করা ভাত খুব সুস্বাদু, গঠনে ভালো, চেহারায় উজ্জ্বল, উচ্চ অ্যামাইলোসকন্টেন্টের কারণে আঠালো নয় এবং ভঙ্গুর। তুলাইপাঞ্জিতে রয়েছে অ্যামাইলোজ- ২৮.৩%, প্রোটিন-৭.৩%। 


সম্প্রতি, তুলাইপাঞ্জি চাল তার বিশেষ সুগন্ধ এবং স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগত উপকারিতার জন্যও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এটি বিশেষত বাংলা রন্ধনশৈলীতে ব্যবহৃত হয়, যেমন পিঠে (চাল কেক) এবং পায়েস (মিষ্টি চালের পুডিং)।


এই চালটি তার মৃদু, বাদামী স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য পরিচিত, যা যে কোনও রান্নায় যোগ করলে তা উন্নত হয়ে ওঠে।


তুলাইপাঞ্জি চালের উপকারিতা:

তুলাইপাঞ্জি চালের বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, যা স্বাস্থ্য-conscious মানুষদের জন্য এটি একটি ভালো পছন্দ করে তোলে। এটি থায়ামিন, নাইসিন, ভিটামিন B6, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। 


চালটিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক, যার ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ক্যান্সারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে যেতে পারে। এছাড়াও, এর উচ্চ ফাইবার কন্টেন্ট পাচন প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক।


তুলাইপাঞ্জি চালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল এর নিম্ন গ্লাইসেমিক সূচক। যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক সূচক কম, তা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করা বাড়ানোর হার ধীর হয়। এর ফলে, এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং খাওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্তি অনুভূতি বজায় রাখে। আরও কী, তুলাইপাঞ্জি চাল প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত, যা সেলিয়াক রোগ বা গ্লুটেন সহনশীলতা সমস্যাযুক্ত মানুষের জন্য উপযোগী।


কিছু গবেষণায় এও প্রমাণিত হয়েছে যে, তুলাইপাঞ্জি চালের উপাদানগুলি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরও কমিয়ে দিতে পারে। তবে, মনে রাখা উচিত যে তুলাইপাঞ্জি চালের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন। যে কোনো খাবারের মতো, এটি সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।


উৎপাদনের সময় সীমা :

ঐতিহ্যগতভাবে, তুলাইপাঞ্জি অগাস্ট-ডিসেম্বর সময়কালে বর্ষা মৌসুমের পরে মধ্য-জমি থেকে উঁচু জমিতে এবং বিশেষ করে পাট কাটা ক্ষেতে কোনো সার ব্যবহার না করেই চাষ করা হয়। কম মাটির উর্বরতা এবং আর্দ্রতার চাপ সাধারণত ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রে বিরাজ করে এবং সুগন্ধের পিছনে মূল কারণ বলে বিশ্বাস করা হয়। 


অজৈব সার সাধারণত এই চাল এর সুগন্ধ এবং অন্যান্য গুণগত মান কমিয়ে তোলে আর এই কারণে অজৈব সার তুলাইপাঞ্জি উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় না।


সাল অনুসারে ফলন :

বর্তমানের তথ্য অনুযায়ী খাদ্যরসিকদের জন্য সুখবর। উত্তর দিনাজপুরে জেলার একমাত্র নিজস্ব দেশি ধান তুলাইপাঞ্জি উৎপাদনে রেকর্ড উৎপাদন গড়লেন কৃষকরা। ২০২৪ সালের খারিফ মরশুমে সর্বাধিক বেশি তুলাইপাঞ্জির ফলন হয়েছে উত্তর দিনাজপুরে। 


শুধুমাত্র রায়গঞ্জ রায়গঞ্জ মহকুমার নির্দিষ্ট কৃষিজমিতে সুস্বাদু, সুগন্ধে অতুলনীয় তুলাইপাঞ্জি ধান চাষের সুযোগ সীমাবদ্ধ। জেলাজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ হয়েছিল। তার মধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে তুলাইপাঞ্জি ধান চাষ করেছিলেন ২২ হাজার ৩০০ কৃষক।  


২০২১ সালের থেকে অন্তত ৬ হাজার মেট্রিন টন বেশি তুলাইপাঞ্জি ধান উৎপাদন হয়েছে। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, 


২০১৬- ১৭ অর্থবর্ষে মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে তুলাইপাঞ্জি ধান চাষ হত। 


২০১৮-১৯ সালে তার পরিমাণ বেড়ে সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে তুলাইপাঞ্জির চাষ হয়। 


২০২০-২১ সালে ওই চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে ১ হাজার হেক্টর জমিতে তুলাইপাঞ্জি আবাদ হয়েছিল। 


২০২১-২২ অর্থবর্ষে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়। 


২০২১-এ ১৮ হাজার মেট্রিন টন তুলাইপাঞ্জি ফলন হয়েছিল। গত বছরের উৎপাদনকে পিছনে ফেলে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিন টন, 


২০২৩- '২৪ সালে ৩০ হাজার মেট্রিক টন তুলাইপাঞ্জির ফলন হয়েছে। 


সম্প্রতি অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন তুলাইপাঞ্জি ধান কৃষকের গোলায় উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।


রাজ্য সরকারের প্রকল্প :

সুগন্ধি ধান চাষের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে একটি প্রকল্প চালু হয়েছে। জেলার নিজস্ব তুলাইপাঞ্জি আবাদে কৃষকদের বিনামূল্যে তুলাইপাঞ্জির বীজ সরবরাহ করা হয়।


তুলাইপাঞ্জির চাহিদা গোটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রয়েছে। তাই জেলার রায়গঞ্জ এবং হেমতাবাদের চাষিদের তুলাইপাঞ্জি চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়। ফলে গত কয়েক বছরের মধ্যে তুলাইপাঞ্জির জমির পরিমাণ যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে ফলনও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 


জেলার কৃষি দপ্তর জানিয়েছে যদিও সেই সংখ্যা বাড়বে । জেলা কৃষি অধিকর্তাদের মত অনুযায়ী, 'সুগন্ধী ধান চাষের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বাংলায় প্রকল্প চালু হয়েছে। জেলার নিজস্ব তুলাইপাঞ্জি আবাদে কৃষকদের বিনামূল্যে তুলাইয়ের বীজ সরবরাহ করা হয়। তুলাইয়ের চাহিদা গোটা রাজ্যে রয়েছে। তাই জেলার রায়গঞ্জ এবং হেমতাবাদের চাষিদের তুলাইপাঞ্জি চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়। 


ফলে গত কয়েক বছরের মধ্যে তুলাইয়ের জমির পরিমাণ যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে ফলনও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 'তুলাইপাঞ্জি ধানের জীববৈচিত্র্য যাতে কেউ চুরি করতে না পারে, সেই কারণে ২০১৭ সালে জিআই অর্থাৎ জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তুলাইপাঞ্জি।' 


রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন কর্ণজোড়া এলাকায় তুলাই ধান ভাঙার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্র বসানো হয়েছে। কৃষকদের এই ধান চাষে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক সুযোগসুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

SMA Type 1: কৈলাস খের এর পর রূপম রানাঘাটের একরত্তি অশ্মিকার পাশে, আপনিও এগিয়ে আসুন|

স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA)

"স্পাইনাল পেশীবহুল অ্যাট্রোফি বিশ্বব্যাপী প্রতি 8,000 থেকে 10,000 জনের মধ্যে 1 জনকে প্রভাবিত করে।" - সূত্র: Medlineplus.gov


স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) টাইপ 1 একটি গুরুতর জেনেটিক অবস্থা যা শিশুদের প্রভাবিত করে। SMA1 নামক একটি জিনে সমস্যার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই জিনটি এমন একটি প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে যা মোটর নিউরনগুলির বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য, যা স্নায়ু কোষ যা পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রোটিন পর্যাপ্ত না হলে, মোটর নিউরনগুলি মারা যায়, এবং পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : শিশুর পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় 



রানাঘাটের অশ্মিকার জন্য প্রয়োজন ১৬ কোটি টাকা 

রানাঘাটের বাসিন্দা শুভঙ্কর দাস ও অনামিকা দাসের ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে অশ্মিকা SMA টাইপ 1 এ আক্রান্ত। যার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১৬ কোটি টাকা। https://www.impactguru.com/ সাইট টির মাধ্যমে অশ্মিকার চিকিৎসা করানোর জন্য ডোনেশন চাওয়া হয়েছে। 


অশ্মিকার বর্তমান অবস্থা : 

impactguru অশ্মিকার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করেছে  এবং বলেছেন যে অশ্মিকা শীঘ্রই নিচের এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।


- তার ঘাড় ধরে রাখার অক্ষমতা

- সমর্থন ছাড়া বসতে অক্ষমতা

- খাবার খেতে বা গিলতে অক্ষমতা 

- ঘুরতে না পারা

- এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়


এভাবেই টাইপ-1 এসএমএ অশ্মিকার মতো একটি সুন্দর শিশুকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার বিস্ময়কে ধন্যবাদ, এমনকি টাইপ-১ এসএমএর মতো নিষ্ঠুর অবস্থাও কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এখানেই রয়েছে টুইস্ট।


ফেসবুকে রূপম ইসলাম ও ফসিল টীমের আবেদন 

কিছুদিন আগে রানাঘাটে প্রোগ্রাম করার পর রূপম ইসলাম ও তাঁর ফসিল টীম ছোট মেয়েটি যাতে তাঁর ২য় বর্ষ জন্মদিন পালন করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে এবং মেয়েটিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করতে Fund Raising এর জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা ফেসবুক ওয়ালে কি বলেছেন তুলে দেয়া হল :- 


"গতকাল আলাপ অশ্মিকার সঙ্গে, রানাঘাট শো-তে গিয়ে। আর কী অদ্ভুত সমাপতন, আমাদের জন্মদিন একই দিনে, অর্থাৎ আজ!  

 

আমরা সবাই মিলে, একসঙ্গে অশ্মিকা-কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তো জানাবই, এবং পরের জন্মদিন একসঙ্গে, আরও বড়ভাবে কাটানোর জন্য এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নেব। আর তার জন্য দরকার আপনাদের সাহায্যের। কেন? কারণ, অশ্মিকা এক বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত, Spinal Muscular Atropy. চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ ওর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় আর মাত্র ৬ মাস।  আনতে হবে বিদেশ থেকে। আর ওষুধের দাম ১৬ কোটি টাকা (+ ট্যাক্স + জিএসটি)। এই দাম একার আয়ত্তের বাইরে হলেও, আমাদের সবার ছোট ছোট সাহায্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আয়ত্তের বাইরে নয়। তাই, সবার কাছে আমাদের এগিয়ে আসবার অনুরোধ থাকলো! #Fossils "


ডোনেশন লিঙ্ক: https://www.impactguru.com/fundraiser/help-aasmika-das

Pic Collected : Facebook


কৈলাস খের জীর আবেদন 

রূপম ইসলামের মত বলিউড বিখ্যাত গায়ক কৈলাস খের জী ও রানাঘাটে গান করতে এসে এই ছোট্ট একরত্তি মেয়েটিকে সকলের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আবেদন করেছেন। 


অশ্মিকার জন্য ফান্ড কিভাবে দিতে পারবেন 

ছোট ছোট করে আমরা যদিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তুলি তবে ১৬ কোটি টাকা তোলা খুব সহজেই সম্ভব হবে। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ ওর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় আর মাত্র ৬ মাস আর আনতে হবে বিদেশ থেকে। আর ওষুধের দাম ১৬ কোটি টাকা (+ ট্যাক্স + জিএসটি)। ইমপ্যাক্টগুরু এই সাইটের ডোনেশন লিংক  থেকে UPI এর মাধ্যমে ডোনেশন করতে পারবেন। 


সমস্ত বাধা বিগ্ন পেরিয়ে অস্মিকা একদিন হেসে খেলে বড় হয়ে উঠবে এই আসায় আমরা সকলে অধীর অপেক্ষায় রইলাম। এই ব্লগ এর মাধ্যমে যদি সামান্য পরিমান ডোনাশন ছোট্ট মেয়েটির চিকিৎসার উদ্দেশে যায় তবে নিজেকে ধণ্য ও গর্বিত অনুভব করবো। 


এই পোস্ট এর কমেক্টের অপেক্ষায় #edik-odik, মন যা চায়