বিবিধের মাঝে মহামিলনের এই দেশ ভারতবর্ষ আজও মানুষের ভিড়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ধর্ম, মত, বর্ণ, আধ্যাত্মিক উপচারের বিভেদ। তাই শাক্ত সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য তন্ত্রপীঠ কামাখ্যায় যাওয়ার আগে মোক্ষলাভের লক্ষ্যে বৈষ্ণব তীর্থ রামকেলির হাজির হন ভক্তবৃন্দেরা। রবিবার (১৪. ০৬. ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে গৌড়বঙ্গের আস্থা ও আবেগের উৎসব, রামকেলির মেলা। তার আগে এখন সাজোসাজো রব জেলাজুড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মহদিপুরের রামকেলিধামে আসেন পুণ্যার্থীরা। এমনকি, ভিড় থাকে কারবারি দেরও। হরেক পসরা নিয়ে তাঁরাও হাজির এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। প্রায় সাতদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের। সেই প্রস্তুতি শেষ হবে ১৭ তারিখ, মেলা ভাঙার পরেই।
রামকেলি হয়ে অনেকেই চলে যান অসমের কামাখ্যায়, 'অম্বুবাচির মেলায় অংশ নিতে। কিন্তু, রামকেলি আর কামাখ্যার মধ্যে মিল কোথায়? বিশ্বাস যে, সবের মধ্যেই রয়েছে মোক্ষলাভ আর সিদ্ধিলাভ। তাই প্রতি বছর কামাখ্যা যাওয়ার আগে একবারের জন্য হলেও রামকেলি ভক্ত বৃন্দ ঘুরে যাই।'
ভারতের অন্য সব মেলার মতো রামকেলির মেলার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে হরেক কিংবদন্তি। রামকেলির মেলার নামকরণ প্রসঙ্গে 'কথিত আছে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র বনবাসে যাওয়ার সময় সীতাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়ভূমেও এসেছিলেন। জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি তিথিতে একটি কুণ্ডে সীতাদেবীর সঙ্গে জলকেলি করেন তিনি। সেই থেকেই নাম রামকেলি।'
সীতাদেবী এই গয়েশ্বরী মন্দিরে তাঁর মাতৃকুলের উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন। তারপর থেকেই এই জায়গাটি মাতৃগয়া নামে পরিচিতি পায়।'
এখানেই শেষ নয়। এই মেলার সঙ্গে মিশে রয়েছে আরও অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী। গৌড়ে হুসেন শাহের আগে রাজত্ব করেছিলেন পাল ও সেন বংশের রাজারা। তাঁদের রাজবাড়ি আজও রয়েছে এখানে। সেই সময় এই রামকেলি ছিল হিন্দু আচার সংস্কারের কেন্দ্র। সেই সময় তৈরি অনেক দেবদেবীর মূর্তি এখনও মাটির নীচ থেকে পাওয়া যায়।
ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের পরে আধুনিককালে শ্রীচৈতন্যও জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে এখানে এসে ভক্তদের কৃপা করেছিলেন। ইতিহাস গবেষকরা বলেন, '১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুন রামকেলিতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। আর ১৫ জুন, হুসেন শাহের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সাকর মল্লিক আর দবির তাঁদের নামকরণ হয় রূপ গোস্বামী খাসকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন। আর সনাতন গোস্বামী।' এই তীর্থে বলে একে অনেকে গুপ্ত বৃন্দাবন বৃন্দাবনের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নামেও চেনেন।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন