বাংলায় ২০২৬ সালের এক ডজন পূজাবার্ষিকী আমাজন, ফ্লিপকার্ট থেকে জলদি অর্ডার করুন Bengali Saradiya Puja Sanka 2026

 বাঙালির পূজোর গন্ধ ইতিমধ্যেই গায়ে লেগে গেছে। আর মাত্র কদিন বাকি, মা আসছেন একটি বছর পরে। ঢাকে কাঠি পরে গিয়েছে। বই পড়তে বা বই গিফট করতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। আর বাঙালির ঘরে পূজো সংখ্যা থাকবে না তা কি হয়? বাংলা ১৪৩৩ সন অর্থাৎ ইংরেজি ২০২৬ সালের বড় বড় প্রকাশক ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব পূজো সংখ্যা পূজো বার্ষিকী নিয়ে হাজির হয়েছে। বাজারে, বই এর দোকানে সমস্ত বই পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দ বাজার, দেশ, সানন্দা, প্রসাদ বিভিন্ন সংস্থার পূজা সংখ্যার বই অনলাইন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। লিমিটেড এডিশন, দ্রুত বুক না করলে স্টক পাওয়া মুশকিল হবে। নিচে ১২ টি জনপ্রিয় পূজা সংখ্যার আমাজন লিংক দেয়া হলো। লিংক গুলো ক্লিক করে নিদৃষ্ট বইটি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এছাড়া একসাথে কম্বো ৬ টি বই অর্ডার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট কিছুটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। 



আনন্দলোক পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬),

 আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে মোট ৩৬০ পৃষ্ঠা রয়েছে। বইটির মূল্য ₹৩২০ এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। এটি মূলত বিনোদন, টলিউড-বলিউড খবর, গসিপ, সংস্কৃতি ও উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা ও ছবি-সহ একটি জনপ্রিয় পুজোবার্ষিকী। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ একটি প্রকাশনা।

অর্ডার করুন : ANANDALOK PUJABARSHIKI 1433 (2026) : Rs.320.00

আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দমেলা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি মূলত শিশু-কিশোরদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ধাঁধা, কার্টুন ও বিভিন্ন রঙিন ফিচারে ভরপুর। বইটির মূল্য প্রায় ₹৩১৫–৩৫০ এবং এটি পেপারব্যাক বা সফটকভার ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী বাঙালি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা, যা উৎসবের মেজাজে নতুন নতুন লেখা ও ছবি-গল্প নিয়ে সাজানো হয়।

অর্ডার করুন : Anandamela Pujabarshiki 1433 (2026) 340.00


বিষাকা থ্রিলার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের তরফে প্রকাশিত একটি বিশেষ শারদীয়া সংকলন, যা মূলত রোমাঞ্চকর থ্রিলার ও রহস্যঘন গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৬ সালের এই পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকের লেখা অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম, সাসপেন্স ও মিস্ট্রি ধাঁচের গল্প স্থান পেয়েছে, যা পাঠকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহল জাগিয়ে তুলবে। আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, আনন্দলোক-সহ আনন্দ পাবলিশার্সের অন্যান্য পুজোবার্ষিকীর মতোই বিষাকা থ্রিলার সংখ্যাটিও বাঙালি পাঠকদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যাটিতে থাকে নতুন নতুন চরিত্র, অজানা রহস্য ও রোমাঞ্চকর প্লট, যা পাঠকদের পুজোর ছুটিতে উপভোগ্য পড়ার অভিজ্ঞতা দেয়।

অর্ডার করুন : Bivashika Thriller Patrika 1433 : Pujabarshiki 1433  Rs. 259.00

প্রসাদ পূজা বার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ২০০–৪০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ content রয়েছে, যেখানে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, শিল্প-সংস্কৃতি, উৎসবের বিশেষ ফিচার এবং নানা ধরনের লাইফস্টাইল ও বিনোদনমুখী লেখা থাকে। প্রদাস পুজোবার্ষিকী মূলত পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের কথা ভেবে তৈরি—এতে ছোটদের জন্য আলাদা বিভাগ, রান্নার রেচিপি, ভ্রমণকাহিনি, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ এবং উৎসবের সাজসজ্জা নিয়ে টিপসও থাকে। বাঙালি সংস্কৃতি ও শারদোৎসবের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পত্রিকাটি প্রতি বছর পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহযোগ্য আইটেম হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Prasad 1433 (2026) || Pujabarshiki 223.00

কিশোর জানা বিজ্ঞান পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখা নিয়ে তরুণ পাঠকদের জন্য তৈরি।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা—যেমন মহাকাশ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন আবিষ্কার—সহ সহজ ভাষায় উপস্থাপিত প্রবন্ধ, কুইজ, ধাঁধা ও রঙিন ছবি থাকে।  প্রতি বছরের মতো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই পুজোবার্ষিকীটিও দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয় এবং বাঙালি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ জাগিয়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৮৫–₹৩০০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।


অর্ডার করুন : Puja Barshiki Kishore Jnan Bigyan, 46th Year (2026) Rs. 299.00


মহাদেবী পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

দুর্গাপুজো উপলক্ষে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় বাংলা শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা মূলত রোমাঞ্চ, সাসপেন্স ও ছোটগল্পের সমাহার নিয়ে পাঠকদের কাছে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৪২–৫০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু রয়েছে, প্রকাশকের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ দেখা যায়।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৭০–₹৩৫০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  মহাদেবী পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন লেখকের লেখা থ্রিলার, রহস্য, সামাজিক গল্প ও উৎসবভিত্তিক লেখা থাকে, যা দুর্গাপুজোর সময় পাঠকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।  এটি বাংলা পাঠকদের মধ্যে একটি চাহিদাপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী পুজোবার্ষিকী হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Pujabarshiki Mahadevi 1433 || Bengali Thriller, Suspense, Stories & Poetry Collection || Parul Prakashani : 350.00

শারদীয়া আনন্দবাজার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দবাজার পত্রিকার বছরের শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৬০ পৃষ্ঠার সমৃদ্ধ content রয়েছে। এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available এবং মূল্য ₹৩৪০ (কিছু দোকানে ₹২৮৯-এও পাওয়া যাচ্ছে)। শারদীয়া আনন্দবাজারে থাকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভ্রমণ, রান্না, শিল্প-সংগীত, উৎসবের বিশেষ লেখা, বিখ্যাত লেখকদের গল্প-প্রবন্ধ, পাশাপাশি পুজোর সাজসজ্জা ও উদযাপনের নানা আইডিয়া। বাঙালি পাঠকদের জন্য এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ প্রকাশনা, যা পুজোর আমেজ বাড়িয়ে তোলে এবং পরিবারের সবাই মিলে পড়ার মতো একটি special collection।


অর্ডার করুন : Saradiya Anandabazar Patrika Pujabarshiki 2026 Rs. 320.00


দেশ পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পুজোবার্ষিকী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, উৎসব, ভ্রমণ, শিল্প-সাহিত্য ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের লেখা ও ছবি থাকে।  দেশ পুজোবার্ষিকী মূলত একটি ম্যাগাজিন ধাঁচের প্রকাশনা, যেখানে গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, সাক্ষাৎকার এবং উৎসবের বিশেষ ফিচারসহ নানা বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে।  এটি অনলাইন বুকস্টোর ও বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পেপারব্যাক বা হার্ডব্যাক ফরম্যাটে available এবং সাধারণত ₹৩০০–₹৩৫০ রেঞ্জে বিক্রি হয়।  বাঙালি পাঠকদের মধ্যে শারদীয়া পত্রিকার ঐতিহ্যবাহী চাহিদার অংশ হিসেবে দেশ পুজোবার্ষিকীও প্রতি বছর জনপ্রিয়তা পায়।


অর্ডার করুন : Sharadiya Desh Pujabarshiki 2026 || 1433 (Desh Sharadiya) - Rs.340.00


কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া সাহিত্য সংকলন, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে পাঠকদের হাতে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য লেখকদের ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।  মূলত ছুটির সময়ের পাঠের জন্য উপযোগী করে সাজানো এই বার্ষিকীতে থাকে বিনোদনধর্মী ও সাহিত্যমানসম্পন্ন লেখার সমাহার।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২০০–₹২৫০ এর মধ্যে হয়ে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক বা ম্যাগাজিন ফরম্যাটে available।  কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত ও চাহিদাপূর্ণ শারদীয়া প্রকাশনা হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Sharadiya Katha Sahitya 1433 || Bangla Pujabarshiki 2026 || Rs. 300.00

সানন্দা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

সানন্দা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে উপন্যাস, ছোটগল্প, ফ্যাশন, বিউটি, রান্না, ফিটনেস, সেলিব্রিটি সাক্ষাৎকার এবং বিশেষ ফিচারসহ নানা ধরনের লেখা রয়েছে।  এটি মোট ৬৯২ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার সংস্করণ এবং এর মূল্য ₹৩২০ (ছাপা মূল্য) ও ₹২৫৬ (বিক্রয় মূল্য)।  সানন্দা পুজোবার্ষিকী বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি শারদীয়া প্রকাশনা, যা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন নিয়ে সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে।

অর্ডার করুন : Saradiya Sananda Pujabarshiki 2026 320.00


টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

ছোটোদের জন্য প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাজারে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি মধুসূদন ঘাটী সম্পাদনা করেছেন এবং এটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।  বইটির মূল্য ₹১৮০ (মূল্য তালিকা অনুযায়ী ₹২০০ থেকে ১০% ছাড়ে) এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত ছোটোদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া, ধাঁধা, রঙিন ছবি ও বিভিন্ন মজাদার লেখা থাকে, যা শিশুপাঠকদের উৎসবের মেজাজে আনন্দ দেয়।  আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর অন্যান্য শারদীয়া সংখ্যার মতো এটিও বাঙালি পরিবারে পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অর্ডার করুন : Tapur Tupur Pujabarshiki 1433 (2026) Rs. 200.00


উমা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যাগুলির মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রকাশনা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ৪০৮ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার বই হিসেবে available এবং এর মূল্য প্রায় ₹৩৪০–৩৯৯।  উমা পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ, রান্না-ফ্যাশন-সৌন্দর্য এবং উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা থাকে, যা পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের পছন্দ হয়।  আনন্দ পাবলিশার্সের এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ধারাকে বহন করে এবং পুজোর মরসুমে পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহ হিসেবে গণ্য হয়।


অর্ডার করুন : Uma Pujabarshiki 1433 (2026)  - Rs. 385.00

Combo : Rs. 2499.00 Sananda, Anandabazar, Shardiya Patrika, Anandalok, Anandamela and Desh Pujabarshiki 2026 With Sananda & Desh 1-1 Copy Total 8 (Saradiya Anandabazar Pujabarshiki)

পশ্চিমবঙ্গের জন্য চালু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা, ৭৮০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি || এদিক-ওদিক

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এবং পরিবেশের ওপর ন্যূনতম ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এমন এক শক্তির উৎস যা সবুজ শক্তি বা গ্রিন এনার্জি । কয়লা, তেল বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির বিপরীতে সবুজ শক্তি বায়ু দূষণ ও কার্বন নির্গমন কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সাহায্য করে।



সর্বপড়ি পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভবিষ্যত কে সুরক্ষিত করতে গ্রিন এনার্জির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। আগামী ভারতের পরিবেশ ও অর্থনীতি অনেকটা গ্রিন এনার্জির উপর নির্ভর করে ভবিষ্যত গড়ে উঠবে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি উপযুক্ত মহিলার একাউন্টে ৩০০০ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে দিয়ে অভূতপূর্ব সারা ফেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার গ্রীন এনার্জির উপর সফল ভাবে কাজ করে চলেছে। এবারে বাড়ী বাড়ী প্রধানমন্ত্রী মুফত বিজলি। এবারে আপনার বিদ্যুৎ বিল হতে চলেছে শুন্য। আসুন পুরো বিষয় টি জেনে নেয়া যাক।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য চালু হয়ে গেছে
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা

₹৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি
বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনার সুবিধা, ভর্তুকি ও আবেদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন।
☀️ সৌর বিদ্যুৎ • 💰 সরকারি ভর্তুকি • ⚡ বিদ্যুৎ সাশ্রয়
বিস্তারিত জানুন →
এদিক-ওদিক | edik-odik.blogspot.com

পশ্চিমবঙ্গের জন্য চালু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা, ৭৮০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিটি সরকারি অফিসে রুফ টফ সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আর কিছুদিনের মধ্যে সমস্ত সরকারি দপ্তরে সোলার প্যানেল বসে যাবে এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে।


এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা প্রতিনিয়ত ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। দপ্তর বিভিন্ন অফিসে মিটিং, মাইকিং ইত্যাদি অবিলম্বে শুরু করে দিয়েছে, যার ফল স্বরূপ সাধারণ মানুষ এই যোজনার লাভ ঘরে তুলতে শুরু করছেন।

এই যোজনা মোতাবেক যে সকল ব্যাক্তি / উপভোক্তার বাড়িতে ২০০ ইউনিট এর কম বিদ্যুৎ ব্যাবহার হয় সেই উপভোক্তার মাসিক ৭০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা সশ্রয় হবে। ২০০-৩০০ ইউনিট এবং ৩০০ এর বেশি বিদ্যুৎ ব্যাবহার হয় সেই উপভোক্তার মাসিক যথাক্রমে ১৪০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা সাশ্রয় হবে।

খরচ কত পড়বে?

বাড়িতে যদি প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ আপনার বাড়িতে যদি লাইট, ফ্যান, টিভি সমস্ত চালিয়ে ২০০ ইউনিট কারেন্ট পরে তবে আপনি ১ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল বাড়ীর ছাদে বসাতে পারেন। যার দাম পড়বে ৭০০০০/- টাকা, এর মধ্যে সরকারি ভর্তুকি ৩০০০০/- টাকা। অর্থাৎ আপনার খরচা ৪০০০০ টাকা। প্যানেল বসানোর জন্য খরচের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ব্যাংক থেকে সুলভ সুদে লোন পেয়ে যাবেন।

এক্ষেত্রে উল্লেখ থাকে যে প্যানেল বসানোর সময় ইউনিট বাড়িয়ে নিয়ে অর্থাৎ সোলার প্যানেল ২ থেকে ৩ কিলোওয়াট নেয়া যেতে পারে, কারন আপনার যদি ফ্রিজ, এ সি, ওয়াটার মটর পাম্প ইত্যাদি থেকে থাকে বা পরবর্তীতে নেয়ার সুযোগ হয় তবে এটি কাজে লেগে যাবে। এক্ষেত্রে খরচ পড়বে ১৪০০০০ থেকে ২১০০০০ টাকা। ভর্তুকি এর পরিমান ৬০০০০ থেকে ৭৮০০০ টাকা।

খরচ কিভাবে উঠে আসবে?

সোলার প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ গোটা বাড়ীর লাইট, ফ্যান ও অন্যান্য সরঞ্জামে সরবরাহ করার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগের মাধ্যমে সাথে সাথেই ভর্তুকি ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে। কোনো বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। সময়ে গ্রিড এর বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে সমস্ত ব্যাপার টি মনিটর করা যাবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা হল কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প  যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ চালু করেন। এর উদ্দেশ্য হল ভারত জুড়ে ১ কোটি বাড়িতে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধে পাবেন

- পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- আয়ের উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ নেই, সকল পরিবার যোগ্য।
- অবশ্যই WBSEDCL-এর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে (অথবা কলকাতার জন্য CESC-এর)।
- যেখানে প্যানেল স্থাপন করা হবে, সেই সম্পত্তির মালিক অবশ্যই হতে হবে (বাড়ির মালিক)।
- সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ছাদটি কাঠামোগত ভাবে মজবুত হতে হবে।
- প্রতি পরিবারে একটি ভর্তুকি (একটি বিদ্যুৎ গ্রাহক নম্বর)
- (ডিবিটি ভর্তুকির জন্য) আধার কার্ড অবশ্যই একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করা থাকতে হবে।

ছাদে প্যানেল বসানোর জন্য কতটা জায়গার প্রয়োজন:

প্রতি ১ কিলোওয়াট সোলার প্যানেলের জন্য ১০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা প্রয়োজন, অর্থাৎ আপনার বাড়িতে যদি ৩ কিলো ওয়াট সোলার প্যানেল অর্থাৎ বিদ্যুৎ খরচা প্রতি মাসে ৩০০ ওয়াট হয় তবে ৩০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে ছাদ যেন শক্তপোক্ত থাকে।

আবেদনের পদ্ধতি

অফিসিয়াল পোর্টালে যান : pmsuryaghar.gov.in

নিবন্ধন করুন: “রুফটপ সোলারের জন্য আবেদন করুন”-এ ক্লিক করুন → আপনার রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ), জেলা, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা (WBSEDCL/CESC), গ্রাহক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি লিখুন।

লগইন করুন ও আবেদনপত্র পূরণ করুন: আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন এবং আপনার বিবরণ পূরণ করুন।

সম্ভাব্যতা অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন: WBSEDCL ৩০ দিনের মধ্যে পর্যালোচনা করে অনুমোদন/বাতিল করবে।

তালিকাভুক্ত বিক্রেতা নির্বাচন করুন: আপনার জেলার জন্য MNRE-অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা থেকে বেছে নিন।

সিস্টেম ইনস্টল করুন: বিক্রেতা আপনার ছাদের সোলার প্যানেল ইনস্টল করে দেবে।

নেট মিটারের জন্য আবেদন করুন: পোর্টালে ইনস্টলেশন সার্টিফিকেট জমা দিন এবং নেট মিটারের জন্য আবেদন করুন।

ভর্তুকি পান: পরিদর্শন এবং চালু করার পর, ভর্তুকি ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি আপনার আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।

আবেদনের পর করণীয় কাজ :

অনলাইন আবেদন করার পর বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে ভেন্ডর এর প্রতিনিধি গণ আপনার বাড়ী পরিদর্শন করবে এবং প্যানেল এর কোয়ালিটি ও কি জিনিস পত্র লাগবে এবং তাঁরা কবে কাজ শুরু করবে সেই বিষয়ে আলোচনা করে নেবে। আপনার বাড়িতে কত ইউনিট প্রয়োজন এবং কত কিলো ওয়াট পর্যন্ত আপনি প্যানেল বসানোর উপযুক্ত টা দেখে নেবে। ফাইনাল কথা হয়ে গেলে ভেন্ডর কে সমস্ত পেমেন্ট দিয়ে দিতে হবে। বা ব্যাংক ভেন্ডর কে পেমেন্ট দিয়ে দেবে। নির্দিষ্ট সময়ে ভেন্ডর ও বিদ্যুৎ দপ্তর সংসাপত্র দিলে পর ভর্তুকির টাকা ব্যাংক একাউন্ট এ চলে আসবে।

ভাদ্র মাসের পূজা-উপাচার : Festivals of August & September 2026

ভাদ্র মাসের পূজা-উপাচার:



| ইংরেজি তারিখ | বাংলা (ভাদ্র) | উৎসব/অনুষ্ঠান | বিবরণ |

| ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১ ভাদ্র | লুণ্ঠনষষ্ঠী (লুণ্ঠনষষ্ঠী) | ষষ্ঠী তিথি চলছে — শুরু: ১৭ অগস্ট বিকেল ৫:০২, শেষ: ১৮ অগস্ট বিকেল ৫:৫১। |

আরও পড়ুন : গরমে চটজলদি শরবত বোরহানি 

| ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৬ ভাদ্র | পুত্রদা একাদশী; ঝুলনযাত্রা আরম্ভ | একাদশী তিথি চলছে — শুরু: ২২ অগস্ট রাত ২:০২, শেষ: ২৩ অগস্ট ভোর ৪:১৯। ঝুলনযাত্রা শুরু। |

| ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১ ভাদ্র (পূর্ণিমা) | রাখি-বন্দন / পূর্ণিমা | পূর্ণিমা তিথি চলছে — শুরু: ২৭ অগস্ট সকাল ৯:১০, শেষ: ২৮ অগস্ট সকাল ৯:৪৯। ঝুলনযাত্রা সমাপন। |

| ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮ ভাদ্র | শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী | অষ্টমী তিথি চলছে — শুরু: ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ২:২৭, শেষ: ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৪ (জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠিত)। |

| ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১ ভাদ্র | অজা একাদশী | একাদশী তিথি চলছে — শুরু: ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭:৩১, শেষ: ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫:০৫। |

| ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৪ ভাদ্র | অমাবস্যার নিশি পালন (অমাবস্যা) | অমাবস্যা তিথি আরম্ভ: ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:৩৫। |

| ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র | অমাবস্যা তিথি শেষ | অমাবস্যা তিথি শেষ: ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, সকাল ৭:৫৭। |

| ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র | শ্রীশ্রী গণেশপূজা | গণেশপূজার দিন: ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার। চতুর্থী তিথি আরম্ভ: একই দিন সকাল ৭:০৮। |

| ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র | চতুর্থী তিথি শেষ | চতুর্থী তিথি শেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, সকাল ৭:৪৫। |

| ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র | শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মাপূজা | বিশ্বকর্মা পূজার দিন: ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। |


ভাদ্র মাসে বিয়ের শুভ দিন-



৭ ভাদ্র, ২৪ অগস্ট, সোমবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৮টা ২৮ মিনিট গতে রাত ১০টা ১৪ মিনিটের মধ্যে মীন, মেষ লগ্নে। পুনরায়, রাত ১১টা ৩৯ মিনিট গতে মধ্যরাত ৩টে ৪ মিনিটের মধ্যে বৃষ, মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


৮ ভাদ্র, ২৫ অগস্ট, মঙ্গলবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৮টা ৪৮ মিনিট গতে ভোর ৪টে ৪২ মিনিটের মধ্যে মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৩ ভাদ্র, ৩০ অগস্ট, রবিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিট গতে রাত ৯টা ১৮ মিনিটের মধ্যে মেষ লগ্নে, সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৭ ভাদ্র, ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।


বিয়ে- মধ্যরাত ১টা ৩ মিনিট গতে ভোর ৪টে ৭ মিনিটের মধ্যে মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৮ ভাদ্র, ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট গতে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে মীন, মেষ লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৯ ভাদ্র, ৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিট গতে রাত ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে মীন ও মেষ লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


২৬ ভাদ্র, ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিট গতে রাত ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে মীন ও মেষ লগ্নে। পুনরায় ১১টা ২ মিনিট গতে ৩ টে ৩১ মিনিটের মধ্যে মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


২৭ ভাদ্র, ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার।


বিয়ে- রাত ৯টা ১ মিনিটের মধ্যে কুম্ভ, মীন ও মেষ লগ্নে। পুনরায় রাত ১০টা ৫৮ মিনিট গতে মধ্যরাত ১টা ১ মিনিটের মধ্যে মিথুন লগ্নে। পুনরায় মধ্যরাত ২টো ৩০ মিনিট গতে ৩টে ২৭ মিনিটের মধ্যে কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।

বাংলা ভাষার জনপ্রিয় ও নামকরা ম্যাগাজিনগুলি : Famous Magazine 2026 of Bengali Language

বাংলা ম্যাগাজিন বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের প্রকাশনা যা মূলত সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ, রাজনীতি, বিনোদন, বিজ্ঞান, শিল্পকলা ইত্যাদি নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়। এগুলো সাধারণত মাসিক, পাক্ষিক বা সাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পাঠকদের কাছে নতুন চিন্তা, সৃজনশীল লেখা ও সমসাময়িক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই পত্র পত্রিকার প্রকাশক গণ প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় অর্থাৎ বছরের জুলাই আগস্ট মাস নাগাদ তাদের পূজা বার্ষিকী প্রকাশ করে। 

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায় 

বাংলা ম্যাগাজিনের বৈশিষ্ট্য


- সাহিত্যকেন্দ্রিক: গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি প্রকাশিত হয়। যেমন দেশ, কৃত্তিবাস।

- সংস্কৃতি ও সমাজ: সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে লেখা থাকে।

- বিনোদন ও চলচ্চিত্র: সিনেমা, নাটক, সংগীত, তারকা সাক্ষাৎকার ইত্যাদি।

- শিশুদের ম্যাগাজিন: শিশুদের জন্য গল্প, কমিকস, শিক্ষামূলক লেখা। যেমন আনন্দমেলা, রঙিন কাগজ।

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিজ্ঞানচর্চা, নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তি নিয়ে লেখা।


বাংলা ম্যাগাজিনের গুরুত্ব


- পাঠকদের সৃজনশীলতা বাড়ায়।

- সমাজে চিন্তার আদানপ্রদান ঘটায়।

- নতুন লেখক ও শিল্পীদের মঞ্চ তৈরি করে।


বাংলা ভাষার জনপ্রিয় ও নামকরা ম্যাগাজিনগুলির মধ্যে রয়েছে

সাহিত্য পত্রিকা, ছোটদের Anandamela, [Shuktara], মহিলাদের জন্য Sananda ও [Anannya], এবং চলচ্চিত্র ও বিনোদনের জন্য Anandalok।


সাহিত্য ও সাধারণ পত্রিকা

- দেশ (Desh): দীর্ঘকাল ধরে চলা শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য পত্রিকা।

- সানন্দা (Sananda): আধুনিক জীবনযাত্রা ও ফ্যাশন বিষয়ক পত্রিকা।

- অনন্যা (Anannya): নারী ও পরিবার কেন্দ্রিয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন।


কিশোর ও শিশু পত্রিকা

- আনন্দমেলা (Anandamela): ছোট ও কিশোরদের জন্য গল্প-কমিকসের বিখ্যাত কাগজ।

- শুকতারা (Shuktara): কিশোর উপযোগী ঐতিহ্যবাহী গল্প ও কমিকসের মাসিক পত্রিকা।


বিনোদন ও অন্যান্য


- আনন্দলোক (Anandalok): সিনেমা ও তারকাদের খবরের বিনোদন পত্রিকা।

FlipHTML5 LightBox Embed Demo

- ভ্রমণ (Bhraman): ঘোরার জায়গার খোঁজখবর ও ভ্রমণকাহিনী বিষয়ক মাসিক পত্রিকা।

প্রকৃতি মিত্রম: প্রতিটি ঘর থেকে পরিচ্ছন্ন পৃথিবীর পথে প্লাস্টিক বর্জনে বিজ্ঞান ভারতী উত্তরবঙ্গ শাখার বিশেষ উদ্যোগ

প্লাস্টিক দূষণ আজ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে একসঙ্গে যুক্ত করে “প্রকৃতি মিত্রম” নামে একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো উৎসস্থল থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করা এবং মানুষের মধ্যে টেকসই জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা।



প্রকৃতি মিত্রম কী?


“প্রকৃতি মিত্রম” হলো স্কুলভিত্তিক প্লাস্টিকমুক্ত বাড়ি ও সম্প্রদায় গড়ার একটি উদ্যোগ। এর মূল বার্তা— “প্রতিটি ঘর থেকে পরিচ্ছন্ন পৃথিবীর পথে”। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি, পাড়া, স্থানীয় দোকান, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিষ্কার ও শুকনো পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করবে।


এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শুধু প্লাস্টিক সংগ্রহে যুক্ত করা হবে না; বরং তাঁদের পরিবেশ সচেতনতা, নেতৃত্বের গুণ, দলগত কাজ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন : ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন 

উদ্যোগটির লক্ষ্য


প্রকৃতি মিত্রম প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্যগুলি হল—


- উৎসস্থল থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো।

- বাড়ি ও সম্প্রদায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস তৈরি করা।

- প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে উৎসাহ দেওয়া।

- শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা।

- পরিবেশ রক্ষার কাজে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানে সক্ষম করে তোলা।


প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব


প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে এটি মাটি, জল ও বায়ুতে থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।


মাটির উপর প্রভাব


প্লাস্টিক মাটির গুণমান নষ্ট করে, মাটির উর্বরতা কমায় এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। জমিতে প্লাস্টিক জমে থাকলে জল ও বায়ু চলাচলও ব্যাহত হয়।


জলদূষণ


নদী, পুকুর, খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক জমে জলদূষণ ঘটায়। এর ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় প্লাস্টিক জলনিকাশির পথ বন্ধ করে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


বায়ুদূষণ


প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এই ধোঁয়া মানুষের শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।


জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি


অনেক প্রাণী প্লাস্টিককে খাদ্য মনে করে খেয়ে ফেলে। এতে তাদের অসুস্থতা, শ্বাসরোধ এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। প্লাস্টিকে পাখি, মাছ ও অন্যান্য প্রাণী জড়িয়ে পড়ে আহত হয়। প্লাস্টিক প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও নষ্ট করে।


মানব স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ


প্লাস্টিক বর্জ্য মানুষের স্বাস্থ্যেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ধোঁয়া শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে।


এ ছাড়া প্লাস্টিক জমে জল আটকে থাকলে মশার বংশবিস্তার বাড়ে। এর ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন : পাহাড়ের কোলে শান্ত বনোবীথি 

কেন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী


প্রকৃতি মিত্রম কর্মসূচিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী কে প্রকৃতি মিত্রম ক্লাবের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হবে।


১১ থেকে ১৫ বছর বয়সকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করার কয়েকটি কারণ হল—


- এই বয়সে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস তৈরি করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

- শিক্ষার্থীরা শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে প্লাস্টিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও হিসাব রাখতে পারে।

- দায়িত্ব গ্রহণ, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকাশের সুযোগ পায়।

- তারা নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের পরিবেশ সচেতন করতে পারে।

- বিজ্ঞান, ভূগোল ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠের সঙ্গে বাস্তব কাজের যোগসূত্র তৈরি হয়।

- নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে কাজ করার মতো পরিণত বোধ তাদের মধ্যে থাকে।


প্লাস্টিক সংগ্রহের ব্যবস্থা


প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে—


- একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য সুতির সংগ্রহের ব্যাগ।

- প্লাস্টিক সংগ্রহের রেকর্ড শিট।

- প্রকৃতি মিত্রম পরিচয়পত্র।


শিক্ষার্থীরা বাড়ি, পাড়া, স্থানীয় দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কেবল পরিষ্কার ও শুকনো প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করবে।


কোন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হবে


প্রকল্পের আওতায় নিম্নলিখিত ধরনের প্লাস্টিক সংগ্রহ করা যেতে পারে—


- প্লাস্টিকের বোতল।

- দুধের প্যাকেট।

- খাবার ও চিপসের প্যাকেট।

- প্লাস্টিকের পাত্র ও কনটেনার।

- প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ।

- একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের কাপ।

- প্লাস্টিকের চামচ ও কাঁটা।

- শ্যাম্পুর বোতল।

- ডিটারজেন্টের কনটেনার।


প্রকল্পের কার্যপ্রবাহ


প্রকৃতি মিত্রম প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হবে—


1. শিক্ষার্থী ও পরিবারের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

2. বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিষ্কার, শুকনো প্লাস্টিক সংগ্রহ।

3. সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের পরিমাণ ও ধরন নথিভুক্ত করা।

4. বিদ্যালয়ে প্লাস্টিক ওজন করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা।

5. অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারকারী সংস্থার কাছে তা পাঠানো।

6. সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের তথ্য পর্যালোচনা করা।

7. পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা।


নিরাপত্তা নির্দেশিকা


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই—


- শুধু পরিষ্কার ও শুকনো প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে হবে।

- চিকিৎসা-বর্জ্য, বিপজ্জনক বর্জ্য ও ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা যাবে না।

- প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

- ডাস্টবিন, নর্দমা বা বর্জ্যভূমি থেকে বর্জ্য তুলতে যাওয়া যাবে না।

- বর্জ্য শোঁকা বা খালি হাতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

- সংগ্রহের সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

- শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হবে।


সাপ্তাহিক সংগ্রহ ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা


প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করবে। বিদ্যালয়ে সেই প্লাস্টিক ওজন করা হবে, পরিমাণ নথিভুক্ত করা হবে এবং পৃথক স্থানে নিরাপদে রাখা হবে।


এই ব্যবস্থায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাজের হিসাব রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় বুঝতে পারবে কোন এলাকা থেকে কত পরিমাণ প্লাস্টিক সংগ্রহ হচ্ছে এবং সচেতনতা কর্মসূচির কী প্রভাব পড়ছে।


সচেতনতা ও প্রচার কর্মসূচি


প্রকৃতি মিত্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে—


- মিছিল ও পথনাটিকা।

- দেওয়ালচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনী।

- প্লাস্টিক দূষণবিরোধী স্লোগান প্রতিযোগিতা।

- বাড়ি বাড়ি সচেতনতা অভিযান।

- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার।

- পরিবেশ রক্ষার শপথ গ্রহণ।

- বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি।


পুরস্কার ও স্বীকৃতি


শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়গুলিকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন—


- সেরা প্লাস্টিক সংগ্রাহক।

- সেরা শ্রেণি।

- সেরা প্রকৃতি মিত্রম বিদ্যালয়।

- সবুজ পরিবার পুরস্কার।

- সবুজ সম্প্রদায় পুরস্কার।

- প্লাস্টিকমুক্তির চ্যাম্পিয়ন।


এই ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে এবং পরিবেশ রক্ষার কাজকে আনন্দদায়ক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করবে।


প্রাথমিক বাস্তবায়ন


প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার ৩০টি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও বিদ্যালয় ও এলাকায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।


প্রত্যাশিত ফলাফল


প্রকৃতি মিত্রম কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—


- বাড়ি ও সম্প্রদায়ে প্লাস্টিক দূষণ কমবে।

- শিক্ষার্থী ও পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

- বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

- শিশু-কিশোরদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বিকাশ ঘটবে।

- পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে উঠবে। [1]


উপসংহার


“প্রকৃতি মিত্রম” কেবল একটি প্লাস্টিক সংগ্রহ কর্মসূচি নয়; এটি শিক্ষার্থী, পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে একত্রিত করে পরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আজকের ছোট ছোট অভ্যাস—প্লাস্টিক কম ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ—আগামী দিনের পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।


আসুন, আমরা শপথ নিই—প্লাস্টিক কম ব্যবহার করব, দায়িত্বশীলভাবে পুনর্ব্যবহার করব এবং পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়তে সক্রিয় ভূমিকা নেব।

এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা || ২০২৬ এর এক অভিনব উদ্যোগ || ৫০০০ এর বেশি কর্মসংস্থান

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি"—এটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত 'হে মহাজীবন' কবিতার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি পঙ্‌ক্তি সেখান থেকেই টেনে নিয়ে বলতে হয় এই পশ্চিমবাংলায় লাখে লাখে বেকার! এর জ্বালা কবে মিটবে? পশ্চিমবঙ্গের বিগত সরকারের বা তার আগের সরকারের বেকার যুবক যুবতীদের হাতে রোজগারের সুযোগ করে দেয়ার মতো উদ্যোগ আদতেই চোখে পরেনি। হাজারে হাজারে দক্ষ কর্মী রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী হতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান বিজেপি সরকার মাত্র ১০০ দিন পার করেছে, এবং এই ধরনের একটি উদ্যোগ অর্থাৎ এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বালুরঘাট স্টেডিয়াম ১৮.০৮.২০২৬ তারিখ হতে চলেছে।

এক আকাশের নিচে রোজগার মেলা ২০২৬-এর ব্যানার, ৫০০০-এর বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ


"কুশল ভারত, বিকশিত ভারত"—এটি কেবল স্লোগান নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলনীতি। দক্ষ কর্মীশক্তি গড়ে তুললেই শিল্প-উন্নয়ন, স্টার্টআপ পরিবেশ ও গ্লোবাল বাণিজ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। তাই ব্যক্তিগত স্তরে সার্বক্ষণিক শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়া, স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানো—এসবই ভবিষ্যতের কাজকেই নিশ্চিত করবে। 



আমাদের যুব সমাজকে নমনীয় ও সক্ষম করে তোলা আজকের সময়ের প্রধান অনিবরণীয় প্রয়োজন; শুধু একদমই নতুন দক্ষতা শেখা নয়, বরং দ্রুত বদলানো চাকরির চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠন (reskilling) ও উন্নত করা (upskilling) আবশ্যক। প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কাজের সংস্কৃতিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে—এমন অবস্থায় ধারাবাহিক শিক্ষণ, অনলাইন কোর্স এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তরুণেরা কেবল প্রতিযোগী থাকতে পারবেন না, বরং নিজেদের কর্মজীবন দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ করতে পারবেন। 



বালুরঘাট কৌশল মহোৎসব হল এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে তরুণরা শুধু শেখার সুযোগই পাচ্ছে না, বরং বাস্তবে নিজেদের দক্ষতা পরীক্ষার সুযোগও পাবেন—লাইভ ওয়ার্কশপ, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডেমো সেশন, প্রকল্প-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-মেন্টরদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং হবে মূল আকর্ষণ। এতে শিক্ষাব্রতী ছাত্রছাত্রী ও নবপ্রবীণ পেশাজীবী—উভয়েই উপকৃত হতে চলেছেন। 


এই ইভেন্টে প্রস্তাবিত ৫০০০+ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের সুযোগ কেবল সংখ্যাতত্ত্ব নয়; এগুলো ডিজিটাল দক্ষতা, কোডিং বেসিক, UI/UX, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ছোটো-মোটো প্রযুক্তি প্রকল্পের ওপর কেন্দ্রীভূত থাকবে। প্রশিক্ষণগুলো বাস্তব-মুখী এবং কর্মপ্রদায়ক সংস্থাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সাজানো থাকবে, ফলে প্রশিক্ষণ শেষে কার্যকর সার্টিফিকেশন ও কর্মসংস্থানের পথ উভয়ই সুগম হবে।


 

৫০ এর বেশি কোম্পানির উপস্থিতি মানে সরাসরি নিয়োগ ও ইন্টারভিউয়ের সুযোগ—কোম্পানিগুলো বিভিন্ন খাতে (IT, BPO, রিটেইল, মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ, এগ্রো-টেক) ট্যালেন্ট স্কাউট করবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রাথমিক স্ক্রিনিং, বায়োডাটা সাবমিশন ও অন-স্পট ইন্টারভিউতে অংশ নিতে পারবেন; কিছু ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ ও ট্রায়াল-অফারের মাধ্যমে স্থায়ী চাকরির পথও খুলে যেতে পারে। 



অনুষ্ঠানটি একটি সরকারি ও সমাজ কল্যাণ উদ্যোগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা; মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ও নেতৃত্ব স্থানীয় প্রকল্পগুলোর প্রতি গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তরের নীতি-নির্ধারক বা অতিথি উপস্থিতি থাকলে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের মান নিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ আনা সম্ভব হবে। 



বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য ও প্যানেল আলোচনায় থাকবে দক্ষতা উন্নয়ন নীতিগত বাধা, অর্থায়ন মডেল, স্টার্টআপ-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজলভ্য রিসোর্স কিভাবে তৈরি করা যায়—এসব বিষয়ে বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তাদের প্রশ্ন করতেও পারবেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য ভূমিকা-নির্ধারণে সহায়ক হবে। 



লজিস্টিক তথ্য: স্থান—বালুরঘাট স্টেডিয়াম, দক্ষিণ দিনাজপুর; তারিখ—১৮ আগস্ট ২০২৬। 



আগ্রহীরা অনলাইনে রেজিস্টার করে নিন

(https://nsdcjobx.com/jobseeker/QuickReg)

অবিলম্বে ১৮.০৮.২০২৬ বিকেল ৪ ঘটিকার মধ্যে ১৭৭৬ জন চাকুরী প্রার্থীকে নিয়োগপত্র বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রদান করা হয়েছে। 



মা আসছেন ২০২৬: দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ, আয়োজন ও উৎসবের আবহ

বাঙালির আবেগ দুর্গাপূজা। আর মাত্র কটা দিন। মা আসছেন। টাক কুর কুর ঢাক বাজা শুরু হয়ে যাবে মণ্ডপে মণ্ডপে। মাঠ ঘাট চারপাশ কাশ বনে ঢেকে যাবে। আকাশে বাতাসে মায়ের আগমনের ঘন ঘটা উপচে পড়বে। 



কুমোরটুলি

সরকারি ছুটি

পূজার বিনোদন

নতুন কেনা কাটা 

দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট

সরকারের ভূমিকা

কুমোরটুলি 

রথ যাত্রা শেষ হবার পরেই কুমোরটুলি গুলিতে প্রতিমা তৈরির হিড়িক পরে গিয়েছে। বিশেষত খড়ের খাঁচা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিমা তৈরির জিনিস পত্রের অতিরিক্ত দাম কিছু কুমোরটুলির কাজ থমকে গিয়েছে। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।


সরকারি ছুটি 

এবারের সরকারি ছুটি আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে। যারা দূরে চাকুরী করেন সকলেই বাড়ী ফেরার তাগিদে টিকিট কাটতে শুরু করেছেন। শুরুতেই এখন টিকিট কেটে না নিলে ওয়েটিং এর ঝামেলায় পড়তে হবে। 


বিনোদন 

দুর্গাপূজা মানেই বিনোদন, সংস্কৃতি আর আনন্দের উৎসব—প্যান্ডেল হপিং, নাচ-গান, নাটক, নতুন গান, নতুন পূজা বার্ষিকী পত্রিকা, বিশেষ অনুষ্ঠান আর পারিবারিক আড্ডা সব মিলিয়ে পূজার আবহ তৈরি হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলা বিনোদন মাধ্যমে সাধারণত বিশেষ নাটক, গান, ইউটিউব ভিডিও এবং পূজা-নির্ভর কনটেন্ট প্রকাশ পায়।


পূজার বিনোদন

পূজার সময় বিনোদনের মধ্যে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক, সংগীতানুষ্ঠান, এবং মন্ডপে আয়োজন করা নানা পারফরম্যান্স। অনেকেই বাড়িতে থেকেও পরিবার নিয়ে হাতের কাজ, গল্প, খেলা, গান আর ছোটখাটো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পূজার আনন্দ উপভোগ করেন।


নতুন কেনা কাটা 

দুর্গাপূজা কেনাকাটা বলতে সাধারণত উৎসবের আগে নতুন পোশাক, শাঁখা-সিঁদুর, গয়না, পূজার সাজসজ্জা, উপহার এবং পুজোর সামগ্রী কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পূজাকে ঘিরে শপিংমল ও বিশেষ বাজারগুলোতে কেনাকাটার ভিড় বাড়ে, আর শাঁখারী বাজার/মার্কেটগুলোতে শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, শাড়ি, মুকুট, ধুতি, পাঞ্জাবি, প্রদীপসহ নানা জিনিস বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ দেখার মতো।


কী কী কেনা হয়

পোশাক: শাড়ি, পাঞ্জাবি, ধুতি, ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা।

পূজার সামগ্রী: শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, মালা, মুকুট, প্রদীপ, আগরবাতি।

উপহার ও সাজসজ্জা: গয়না, কসমেটিকস, ঘর সাজানোর জিনিস, মিষ্টি।

অনলাইন ও অফলাইন কেনাকাটা: অনেকেই দোকানে যান, আবার অনেকে ক্যাশব্যাক অফার পেলে অনলাইনেও কেনেন। আর পূজোর আগে বাড়িতে কিনে রাখেন একটা বা কয়েকটা পূজা বার্ষিকী পত্রিকা। 


কেনার সময় কী দেখবেন

- বাজেট আগে ঠিক করুন, নাহলে উৎসবের ভিড়ে খরচ বেড়ে যেতে পারে।

- পরিবারের সবার জন্য একসঙ্গে তালিকা বানালে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে।

- দামের সঙ্গে মান যাচাই করুন, বিশেষ করে শাড়ি, পাঞ্জাবি, গয়না ও পূজার সামগ্রীতে।

- অফার থাকলে তা মিলিয়ে নিন, তবে শুধু ছাড় দেখে কিনবেন না ।


সহজ কেনাকাটা পরিকল্পনা

১. প্রথমে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা করুন।

২. বাজেট ভাগ করুন: পোশাক, পূজার সামগ্রী, উপহার, অতিরিক্ত খরচ।

৩. বাজার ও অনলাইন—দুই জায়গার দাম তুলনা করুন।

৪. শেষ মুহূর্তে নয়, আগে কিনলে ভিড় ও দাম দুটোই কম চাপ দেবে 


দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট:

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী মহালয়া ১০ অক্টোবর, এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। এই বছর পূজা কিছু পঞ্জিকা মতে ৬ দিনের হয়ে যাচ্ছে, তাই সপ্তমী ২ দিন ধরে পড়তে পারে .

প্রধান তিথি

মহালয়া: ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার

মহাষষ্ঠী: ১৬ বা ১৭ অক্টোবর ২০২৬, পঞ্জিকা ভেদে একদিনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

মহাসপ্তমী: ১৭–১৮ অক্টোবর ২০২৬।

মহাঅষ্টমী: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার।

মহানবমী: ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার।

বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার।


দুর্গাপুজো ও সরকারের ভূমিকা:


দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই সরকার সাধারণত পুজোর আগে প্রশাসনিক বৈঠক করে মণ্ডপে নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, রাস্তা, আলো, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। কলকাতার বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।


সরকারি অনুদান নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকদের বক্তব্য, অনুদান পুজো কমিটিগুলির আর্থিক চাপ কমায় এবং সাধারণ মানুষের উৎসবকে আরও সুন্দর করে; বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যয় না করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা কর্মসংস্থানে ব্যবহার করা উচিত। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন সরকার আগের মতো সব পুজো কমিটিকে অনুদান দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে মন্দারমণিতে EDM-এর ধামাকা—জেনে নিন Sunburn Reload-এর সব তথ্য

Sunburn Reload Sundowner 2026 — ১৬ আগস্ট মন্দারমণির কে সি ভিউ রিসর্টে অনুষ্ঠিত হবে, দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। গোয়ায় জনপ্রিয় সানবার্ন ফেস্টিভ্যালের এই স্পেশাল এডিশনটা এবার বঙ্গের বে অফ বেঙ্গলের সি বিচে আয়োজন করা হয়েছে, তাই মন্দারমণি এবং আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলিতে বড় রেভিনিউ ও ভিড় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইভেন্টের কনসেপ্ট সানডাউনারের থিমকে কেন্দ্র করে — দুপুর থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের ডান্স সেশনগুলোতে আলোকসজ্জা ও মঞ্চের নকশা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রধান পারফরমারদের মধ্যে আছেন DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি এবং Antim — যারা ইলেকট্রিফাইং ইলেকট্রোনিক ডান্স মিউজিক পরিবেশন করবেন। লাইভ পারফর্ম্যান্সের পাশাপাশি হাই-এনার্জি সেট, লেজার শো এবং দর্শনীয় স্টেজ ডিজাইন থাকবে; যার ফলে সানডাউনের মোমেন্ট এবং রাতের পার্টির ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা বাড়বে। আন্তর্জাতিক দর্শক ও মিউজিক লোভারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়েছে, তাই ডি-জে সেটগুলোতে ট্রেন্ডিং EDM ট্র্যাক ও কাস্টম মিক্স শোনা যাবে।



টিকেট সম্পর্কে: ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ১৮ বছর ও তার বেশি বয়স প্রয়োজন। দুই ধরনের টিকেট পাওয়া যাবে — সাধারণ টিকিট ₹1,499 এবং প্রিমিয়াম টিকিট ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)। প্রিমিয়াম টিকিটে সাধারণত উন্নত ভিউ, ফাস্ট-ট্র্যাক এন্ট্রি বা নির্দিষ্ট সেকশনে বসবাসের সুবিধা থাকতে পারে; নির্দিষ্ট সুবিধাগুলো কনফার্ম করতে BookMyShow-এ তালিকাভুক্ত ইভেন্ট ডিটেইল চেক করা উত্তম। টিকিট কাটা যাবে BookMyShow-এ, এবং ইভেন্টের প্রতি অংশগ্রহণের সময় ID দেখিয়ে এন্ট্রি নিশ্চিত করতে হতে পারে।


এই আয়োজনটি বিশেষ কারণ হলো—Sunburn ব্র্যান্ডটি এশিয়ার বৃহত্তম ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হিসেবে পরিচিত, যা মূলত গোয়ার আরব সাগর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতো। ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে সানবার্ন শুরু করেন, এবং এরপর এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত ও প্রসার লাভ করে। যদিও মূল সানবার্ন ডিকেম্বরে — মুম্বই মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে (১৮–১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে, তবু এই সময়ের বাইরে গ্র্যান্ড—সানডাউনর থিমে একটি বিশেষ এডিশন মন্দারমণিতে আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পার্কিং , ক্যাম্পিং, খাবারের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল সার্ভিস—এসব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রতিষ্ঠানিক ঘোষণায় দেওয়া না হলে BookMyShow বা ইভেন্টের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট চেক করতে হবে। ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে আগেই টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিন, কারণ উৎসবে ট্যুরিস্ট ভিড় বেশি হবে। স্থানীয় পরিবহন, হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ নিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।


গোয়ার বিখ্যাত সানবার্ন ফেস্টিভ্যাল এবার বাংলার মন্দারমণির সি বিচে — নাম দেওয়া হয়েছে "Sunburn Reload Sundowner"। স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে, ১৬ আগস্ট মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্টে এই ইলেকট্রিফাইং ডান্স-মিউজিক ইভেন্ট হবে। আয়োজনটি লোকাল পর্যটন ও আয় বৃদ্ধির আশায় বড় আকর্ষণ হবে; লাইভ পারফর্ম্যান্স ও মঞ্চসজ্জা থাকবে হাই-এনার্জি সেটে। মূল সানবার্ন স্থায়ীভাবে সাধারণত ডিসেম্বরেই মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হয় (১৮–১৯ ডিসেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্স) — কিন্তু এই বিশেষ সানডাউনার-এ বঙ্গবাসীও অংশ নিতে পারবেন।


- ইভেন্ট নাম: Sunburn Reload Sundowner  2026

- দিন ও সময়: ১৬ আগস্ট, দুপুর ১২টা — রাত ১০টা  

- স্থান: মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্ট, সি বিচ (Mandarmani KC View Resort)  

- অংশগ্রহণযোগ্যতা: বয়স ১৮ এবং তার উপরে  

- টিকেট টাইপ ও মূল্য: দুই ধরণের — ₹1,499 এবং ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)  

- টিকেট কোথায় পাওয়া যাবে: BookMyShow  

- হেডলাইন আর্টিস্টরা: DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি, Antim (ও আরও সেলিব্রিটি পারফর্মাররা)  

- ইভেন্ট বৈশিষ্ট্য: লাইভ পারফর্ম্যান্স, ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক (EDM), আকর্ষক স্টেজ ডিজাইন ও সন্ধ্যাবেলা সানডাউন থিম  

- কেন আলাদা: সাধারণত সানবার্ন গোয়ার আরব সাগরের তীরে আয়োজন করা হয়; এবার এটা বে অফ বেঙ্গলের তটে এবং বাংলার পর্যটনকে টানবে  

- মূল সানবার্ন সম্পর্কে: এশিয়ার অন্যতম বড় ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল; ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে শুরু করেন


গোয়ার পর এবার মন্দারমণিতে সানবার্নের ঝড়—১৬ আগস্ট জমবে EDM সানডাউনার


- বে অফ বেঙ্গলের তীরে প্রথমবার সানবার্ন—মন্দারমণিতে ১৬ আগস্ট মিউজিকের মহোৎসব

- মন্দারমণিতে নামছে সানবার্ন Reload: Sartek থেকে Houdini, থাকছে তারকাখচিত লাইনআপ


- গোয়ার সানবার্ন এবার বাংলায়: মন্দারমণিতে কখন, কোথায়, কত টাকার টিকিট?

- সমুদ্র, সূর্যাস্ত আর ইলেকট্রনিক মিউজিক—মন্দারমণিতে আসছে Sunburn Reload

- বাংলার বিচে সানবার্নের অভিষেক: ১৬ আগস্ট মন্দারমণিতে বসছে মিউজিকের আসর

- মন্দারমণির বুকে সানবার্নের উন্মাদনা—Sartek, Houdini-দের সঙ্গে জমবে রাত

- Sunburn Reload Mandarmani 2026: বাংলার সমুদ্রসৈকতে EDM পার্টির বড় ঘোষণা

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ২০২৬ : নীরব গতির এক নতুন যুগ

ভোরের আলো যখন রেলের লাইন ছুঁয়ে যায়, তখন এক নতুন ধরনের ট্রেন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। না এতে থাকে ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা গর্জন, না বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের কড়া শব্দ; বরং এটি এগোয় এক প্রায় নীরব, মসৃণ ও আধুনিক ভঙ্গিতে। ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি পরিবেশবান্ধব যাত্রার এক নতুন প্রতীক।



এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর জ্বালানি ব্যবস্থা। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, আর সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই চলে ট্রেনটি। ফলস্বরূপ, এর নির্গমন হিসেবে বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। অর্থাৎ, দূষণ কমে, আকাশ থাকে পরিষ্কার, আর রেলের ধারে দাঁড়ানো মানুষ এক ভিন্ন রকমের যাত্রার অভিজ্ঞতা পায়। ট্রেনের শব্দ কম হওয়ায় ভ্রমণও হয় শান্ত ও আরামদায়ক।


ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশে এই ট্রেনের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এখানে দূরত্ব অনেক, জনসংখ্যা অনেক, আর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপও ব্যাপক। তাই এমন একটি প্রযুক্তি দরকার, যা একদিকে পরিবেশ বাঁচাবে, অন্যদিকে যাত্রীসেবাও উন্নত করবে। হাইড্রোজেন ট্রেন সেই দিকেই এক সাহসী পদক্ষেপ।


ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রুট হলো হরিয়ানার জিন্দ–সোনিপত লাইন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯–৯০ কিলোমিটার। 


এই রুটে ট্রেনটি জিন্দ, জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভাম্ভেওয়া, বুটানা, খান্দরাই, রাবরাহ, লাথ, মোহানা এবং বাওয়াসনির মতো স্টেশনে থামতে পারে। 


সংক্ষিপ্তভাবে, এটি উত্তর রেলের দিল্লি ডিভিশনের একটি ট্রায়াল/প্রথম পর্যায়ের অপারেশনাল রুট হিসেবে বেছে নেওয়া 


এই ট্রেনের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর নকশা। হালকা ওজনের কোচ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাটারি-সহায়িত পরিচালনা, এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সবকিছু মিলিয়ে এটি আধুনিক রেলযাত্রার এক নমুনা। অনেক ক্ষেত্রে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে ব্রেক করার সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরায় কাজে লাগানো যায়। এতে জ্বালানি খরচ কমে এবং কার্যক্ষমতা বাড়ে।


যাত্রীদের আরামকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতরের বসার ব্যবস্থা, প্রশস্ত দরজা, আধুনিক তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা, এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং একটি উন্নত অভিজ্ঞতা। গ্রাম, শহর, পাহাড় বা সমতল—সব ধরনের রুটে এমন ট্রেন ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।


হাইড্রোজেন ট্রেনের খরচ: 


ধোঁয়ার পরিবর্তে নির্গত হবে শুধু জল ও জলীয় বাষ্প

১০ কোচের ট্রেনটির ক্ষমতা ১,২০০ কিলোওয়াট।

ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৪–৬ টাকা।

সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০–১৪০ কিলোমিটার।

একবার হাইড্রোজেন ভর্তি করলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম।


মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা প্রতি কিমিতে! ৪–৬ টাকা যাত্রীর টিকিটের ভাড়া নয়—এটি প্রতি কিলোমিটারে ট্রেন চালানোর জ্বালানি খরচ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক নির্মাণ ও পরিকাঠামোর ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তি দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। 

তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, এবং অবকাঠামো তৈরি—সবকিছুই সময় ও বিনিয়োগ দাবি করে। তবু এটি অস্বীকার করা যায় না যে, ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এটি দেখায়, উন্নয়ন আর পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে চলতে পারে।


এই ট্রেন যেন এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে—যে ভবিষ্যতের ভারত শুধু দ্রুত চলবে না, বরং আরও সবুজ, আরও শান্ত, এবং আরও বুদ্ধিমান হবে। রেলের পাটাতনে তার ছুটে চলা যেন এক নতুন সময়ের পদধ্বনি, যেখানে প্রযুক্তি আর প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস, স্রষ্টা শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি নির্মাণ

আগামী ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসঃ 


আগামী ২০ জুন বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ শিরোপায় ঘোষণা করেছেন। যদিও পূর্ববর্তী শাসক সরকার বিনা যুক্তিতে ১ বৈশাখকে একই নামে ভূষিত করেছিলেন। তাল মিলিয়েছিল চটিচাটা কবি, বুদ্ধিজীবি ও শিল্পীকূল। কিন্তু ২০ জুন নিয়ে আমরা, রাস্ট্রবাদীরা এত সংবেদনশীল কেন? কী ঘটেছিল সেদিন? 


কী ঘটেছিল সেদিন? 


ব্রিটিশ সরকারের ৩ জুনের ঘোষণায় দেশভাগের সেই সঙ্গে বাংলা ভাগের কথা বলা হয়। ঠিক হয় বিধানসভার সদস্যরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ—এই দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। 

তথ্য তালিকা :

- ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট : ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে 

- ১৯৪৬ সালের ১৮ ও ১৯ আগস্ট: হিন্দুরা প্রতিহত করে, ১০০০০ মানুষ মারা যায়।

- ১৯৪৬ সালের ১০ ই অক্টোবর : নোয়াখালীর দাঙ্গা, ১০০০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। 

- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি হিন্দু মহা সভার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন।

- ১৯৪৭ সালের ১৫ ই মার্চ হিন্দু মহা সভার ২ দিন ব্যাপী আলোচনা শোভা বসে কলকাতায়।

- ১৯৪৭ সালের ৪ ঠা এপ্রিল তারকেশ্বরে ৩ দিন ব্যাপী কনফারেন্স চলে এবং ৫০০০০ মানুষের সমাগম হয়।

- ১৯৪৭ সালের ১২ এপ্রিল মাউন্ট ব্যাটেন কে বারোজ গোপন চিঠি লেখেন ও তারকেশ্বরের সভার বিষয়ে জানান।

- ১৯৪৭ সালের ১৩ মে শ্যামা প্রসাদ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন ও এই বিষয়ে আলোকপাত করেন।

- ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন পরিষদের সভায় বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গ এর প্রস্তাব ৫৮ : ২১ ভোটে পাশ করান হয়।


বাংলা ভাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার জন্য বিধানসভার ঐতিহাসিক অধিবেশন বসে ২০ জুন, ১৯৪৭। ওই সভায় দলগত অবস্থান ছিল এরকম : মুসলিম লিগ-১১৪, কংগ্রেস–৮৬, ফজলুল হকের কৃষক প্রজাপার্টি-৩, নির্দল মুসলমান-৩, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান-৪, ভারতীয় খ্রিষ্টান-৩, নির্দল তপসিলি–২, কমিউনিস্ট পার্টি-৩। সেদিন বিধানসভায় একটি নয়, কার্যত তিনটি অধিবেশন বসেছিল। 



১) প্রথমটি অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন। অবিভক্ত বিধানসভার শুরুতেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমগ্র বাংলা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে বলে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু ওই প্রস্তাব ১২৬-৯০ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ বাংলা ভারতে যাবে না। 


২) দ্বিতীয়টি হিন্দুপ্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। এই অধিবেশনে হিন্দু সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নেন। হিন্দু সদস্যদের ভোটে এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জন্ম স্থির হল। স্থির হল তারা ভারতের সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 

   

৩) তৃতীয়টি মুসলমান প্রধান অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অধিবেশন। একই দিনে মুসলমান সদস্যরা স্বতন্ত্র কক্ষে মিলিত হয়ে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন ও তারা বলেন বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের নতুন সংবিধান সভায় যোগ দেবে। 


পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে ভোট কমিউনিস্টদেরঃ


সেই সময় ১৯৪১ সালের জনগণনা অনুযায়ি অবিভক্ত বাংলার ১৬টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে। এগুলি হল — রংপুর, দিনাজপুর, মালদা, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ। 


বাংলার অবশিষ্ট অংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিনিধিত্ব সেভাবেই হত। তখম হিন্দু কক্ষের সভাপতিত্ব করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা স্যার উদয়চাঁদ মহতাব। বিপক্ষের ২১ জন সদস্যের সকলেই ছিলেন মুসলিম লিগের সদস্য। হিন্দু সদস্যদের মধ্যে অকংগ্রেসি ছিলেন ৫ জন। এঁরা হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (হিন্দু মহাসভা), উদয়চাঁদ মহতাব (নির্দল), মুকুন্দবিহারি মল্লিক (তপশিল নির্দল), রতন লাল ব্রাহ্মণ ও জ্যোতি বসু (কমিউনিস্ট)। মুসলমান সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এইচ এস সুরাবর্দি (বাংলার প্রধানমন্ত্রী), লিগের সর্বভারতীয় নেতা ইস্পাহানি, বাংলা মুসলিম লিগের সম্পাদক আবুল হাসেম প্রমুখ। সেদিন কমিউনিস্ট দু’জন নেতা দলীয় মতের বিপক্ষে ভোট দেন পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে। 


শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা কেন বলা হয় : 


কিন্তু প্রশ্ন একটাই তা হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা বলা হয় কেন? শ্যামাপ্রসাদ প্রথমে ভারত বা বাংলা কোনও বিভাগেরই সমর্থক ছিলেন না। ভারত ভাগের অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ শ্যামাপ্রসাদ তখন বাংলা ভাগে সোচ্চার হলেন। তাঁর দাবি—যে হিন্দু-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ হচ্ছে, সে একই ভিত্তিতে প্রদেশও ভাগ করতে হবে। বাংলার গভর্নর বারোজের বুদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দী ‘স্বাধীন যুক্তবঙ্গের’ ধুয়া তোলেন। পূর্বাপর ভালমন্দ না বুঝে তার সঙ্গে গলা মেলান শরৎচন্দ্র বসু; এবং কিঞ্চিৎ দ্বিধাগ্রস্তচিত্তে কিরণশঙ্কর রায়। জিন্না-সুরাবর্দীর এই অভিসন্ধি একমাত্র বুঝেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। হিন্দু সমাজকে আহ্বান করে তিনি বলেন - "আমরা আমাদের মাতৃভূমি চাই এবং আমরা তা অর্জন করব—এটাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র। হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়—এটাই হোক আমাদের স্লোগান।" কোথায় ও কবে বলেন? ১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ৫ এপ্রিল তিনদিন ধরে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভা কনফারেন্স তারকেশ্বরের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার বৈঠকে। 


স্বাধীনতায় আধা পশ্চিমবঙ্গ প্রাপ্তি হিন্দুদেরঃ 


জিন্না একসময় খোস মেজাজে মাউন্টব্যাটেনকে বলেছিলেন - “You must carry out a surgical operation” তখন জিন্না স্বপ্নেও ভাবেননি যে সে ছুরিকা শ্যামাপ্রসাদ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিবেন এবং তাঁকে কাতরকণ্ঠে “ দয়া করে আমাকে পোকা-খাওয়া পাকিস্তান দেবেন না।" বলতে বাধ্য করবেন। কিন্তু কীভাবে পাকিস্তানকে কীটদ্রষ্ট করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ? সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই বাটোয়ারার সময় পাঞ্জাবের মুসলমান গরিষ্ঠ গুরুদাসপুর জেলা ভারতে আনার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বাংলা ভাগের সময় কংগ্রেসের ও মুসলিম লিগের পক্ষে ছিলেন দুইজন করে বিচারপতি।


বাংলাভাগের সময় সম্পূর্ণ নদীয়া জেলা, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুর দেওয়া হল পাকিস্তানকে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিনবঙ্গ বিচ্ছিন্ন। র‍্যাডক্লিফ সীমানা টানার সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাকে পাকিস্তানকে দেওয়ায় এই বিপত্তি। ১৪ অগাস্ট এই চার জেলার মুসলিমরা আনন্দে পাকিস্তানের পতাকা তোলেন। হিন্দুরা এদিকে ফুঁসতে থাকেন কংগ্রেসের ওপরে ক্ষোভে। 


শ্যামাপ্রসাদ ছিনিয়ে আনলেন চার জেলাঃ 


শ্যামাপ্রসাদের সাথে কৃষ্ণনগরের মহারানী জ্যোতির্ময়ী দেবী প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপরে। ভাগ হয় নদীয়া জেলা। ইছামতী ও মাথাভাঙা নদীকে সীমান্ত বিবেচনা করে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙা বাদ দিয়ে বাকিটা আনেন ভারতে। ওদিকে অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ ঢোকে ভারতে। 


কিন্তু মালদা ও মুর্শিদাবাদ? একে তো মুসলিম প্রধান জেলা, তার ওপরে বাংলার নবাবদের প্রাক্তন রাজধানী, মুসলিম সেন্টিমেন্ট জড়িত ছিল। শ্যামাপ্রসাদ বিষয়টি বুঝেছিলেন। তিনি আরো বুঝেছিলেন যে ভাগীরথীর উৎসমুখ যদি পাকিস্তানে যায় তাহলে কলকাতা নদীবন্দর শুকিয়ে যাবে। জল টেনে নেবে পাকিস্তান। শ্যামাপ্রসাদ তখন স্থানীয় নেতা কৃষ্ণজীবন সান্যাল ও বিনয় সরকারকে নিয়ে কংগ্রেস ও লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় হিন্দু মহাসভার নেতা স্বামী বলদেব আনন্দ গিরি। তিনি কলকাতায় দলবল নিয়ে এসে সীমানা কমিশনের অফিস ঘিরে সারারাত অবস্থান করেন। চাপের চোটে মালদার ১৫ টি থানার মধ্যে ১০ টি থানা ভারতে ঢোকে। 


কিন্তু মুর্শিদাবাদ? জিন্নাও অনড় ছিলেন। অনড় ছিলেন সর্দার প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদ। তখন রফাসূত্র দেন নেহরু। হিন্দুপ্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ঢুকল ভারতে। তাতে শ্যামাপ্রসাদ আপত্তি তুললেও কংগ্রেস আর ঝামেলা বাড়াতে চাইল না। ১৮ অগাস্ট এই বাটোয়ারা চুড়ান্ত হল। শ্যামাপ্রসাদ তাই নেহরুকে বলেছিলেন “আপনি ভারত ভাগ করেছেন, আর আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি”।  


নেহরুর ভারতভাগ ও শ্যামাপ্রসাদের পাকিস্তান ভাগঃ 


বাটোয়ারার রাজনীতিতে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পাশে পেয়েছেন একমাত্র সর্দার প্যাটেলকে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দুদের পক্ষে এই লড়াই দীর্ঘদিনের। তিনি না থাকলে নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ বা দিনাজপুর ছেড়েই দিলাম, কলকাতার ওপরে অধিকার দু’দেশেরই কায়েম থাকত। জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ভোটে নয় (সেখানে তার জামানত জব্দ হয়েছিল), গান্ধীর একনায়কোচিত নির্দেশে। কাশ্মীর ও চট্টগ্রাম ভারতের অংশ হত প্রথমে যদি সর্দার প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হতেন।


শুধুমাত্র শ্যামাপ্রসাদের এই লড়াকু অবদানের জন্যে হিন্দু মহাসভার সাংসদ কম হলেও জনমতের চাপে তাকে মন্ত্রীত্ব দিতে বাধ্য হন নেহরু। আজ এইজন্যে গুজরাটের নর্মদা জেলার ছোট্ট একটি দ্বীপে তৈরি করা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি তৈরি করেন নরেন্দ্র মোদি যা এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি - স্ট্যাচু অফ লিবার্টির প্রায় দ্বিগুণ। এর নাম 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি' বা 'ঐক্যের মূর্তি।' 


কলকাতায় বসতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট স্ট্যাচু। সম্ভবত  আগামী ৬ জুলাই কলকাতায় এই স্ট্যাচু স্থাপনার জন্য ভূমি পূজন করা হবে। 

রামকেলি মেলা ২০২৬ : কামাখ্যায় সিদ্ধি লাভের আগে মালদার ঐতিহ্যবাহী মেলা

 বিবিধের মাঝে মহামিলনের এই দেশ ভারতবর্ষ আজও মানুষের ভিড়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ধর্ম, মত, বর্ণ, আধ্যাত্মিক উপচারের বিভেদ। তাই শাক্ত সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য তন্ত্রপীঠ কামাখ্যায় যাওয়ার আগে মোক্ষলাভের লক্ষ্যে বৈষ্ণব তীর্থ রামকেলির হাজির হন ভক্তবৃন্দেরা।  রবিবার (১৪. ০৬. ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে গৌড়বঙ্গের আস্থা ও আবেগের উৎসব, রামকেলির মেলা। তার আগে এখন সাজোসাজো রব জেলাজুড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মহদিপুরের রামকেলিধামে আসেন পুণ্যার্থীরা। এমনকি, ভিড় থাকে কারবারি দেরও। হরেক পসরা নিয়ে তাঁরাও হাজির এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। প্রায় সাতদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের। সেই প্রস্তুতি শেষ হবে ১৭ তারিখ, মেলা ভাঙার পরেই।



রামকেলি হয়ে অনেকেই চলে যান অসমের কামাখ্যায়, 'অম্বুবাচির মেলায় অংশ নিতে। কিন্তু, রামকেলি আর কামাখ্যার মধ্যে মিল কোথায়? বিশ্বাস যে, সবের মধ্যেই রয়েছে মোক্ষলাভ আর সিদ্ধিলাভ। তাই প্রতি বছর কামাখ্যা যাওয়ার আগে একবারের জন্য হলেও রামকেলি ভক্ত বৃন্দ ঘুরে যাই।' 


ভারতের অন্য সব মেলার মতো রামকেলির মেলার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে হরেক কিংবদন্তি। রামকেলির মেলার নামকরণ প্রসঙ্গে  'কথিত আছে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র বনবাসে যাওয়ার সময় সীতাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়ভূমেও এসেছিলেন। জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি তিথিতে একটি কুণ্ডে সীতাদেবীর সঙ্গে জলকেলি করেন তিনি। সেই থেকেই নাম রামকেলি।' 



সীতাদেবী এই গয়েশ্বরী মন্দিরে তাঁর মাতৃকুলের উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন। তারপর থেকেই এই জায়গাটি মাতৃগয়া নামে পরিচিতি পায়।' 


এখানেই শেষ নয়। এই মেলার সঙ্গে মিশে রয়েছে আরও অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী। গৌড়ে হুসেন শাহের আগে রাজত্ব করেছিলেন পাল ও সেন বংশের রাজারা। তাঁদের রাজবাড়ি আজও রয়েছে এখানে। সেই সময় এই রামকেলি ছিল হিন্দু আচার সংস্কারের কেন্দ্র। সেই সময় তৈরি অনেক দেবদেবীর মূর্তি এখনও মাটির নীচ থেকে পাওয়া যায়। 



ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের পরে আধুনিককালে শ্রীচৈতন্যও জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে এখানে এসে ভক্তদের কৃপা করেছিলেন। ইতিহাস গবেষকরা বলেন, '১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুন রামকেলিতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। আর ১৫ জুন, হুসেন শাহের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সাকর মল্লিক আর দবির তাঁদের নামকরণ হয় রূপ গোস্বামী খাসকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন। আর সনাতন গোস্বামী।' এই তীর্থে বলে একে অনেকে গুপ্ত বৃন্দাবন বৃন্দাবনের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নামেও চেনেন।