রামকেলি মেলা ২০২৬ : কামাখ্যায় সিদ্ধি লাভের আগে মালদার ঐতিহ্যবাহী মেলা

 বিবিধের মাঝে মহামিলনের এই দেশ ভারতবর্ষ আজও মানুষের ভিড়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ধর্ম, মত, বর্ণ, আধ্যাত্মিক উপচারের বিভেদ। তাই শাক্ত সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য তন্ত্রপীঠ কামাখ্যায় যাওয়ার আগে মোক্ষলাভের লক্ষ্যে বৈষ্ণব তীর্থ রামকেলির হাজির হন ভক্তবৃন্দেরা।  রবিবার (১৪. ০৬. ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে গৌড়বঙ্গের আস্থা ও আবেগের উৎসব, রামকেলির মেলা। তার আগে এখন সাজোসাজো রব জেলাজুড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মহদিপুরের রামকেলিধামে আসেন পুণ্যার্থীরা। এমনকি, ভিড় থাকে কারবারি দেরও। হরেক পসরা নিয়ে তাঁরাও হাজির এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। প্রায় সাতদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের। সেই প্রস্তুতি শেষ হবে ১৭ তারিখ, মেলা ভাঙার পরেই।



রামকেলি হয়ে অনেকেই চলে যান অসমের কামাখ্যায়, 'অম্বুবাচির মেলায় অংশ নিতে। কিন্তু, রামকেলি আর কামাখ্যার মধ্যে মিল কোথায়? বিশ্বাস যে, সবের মধ্যেই রয়েছে মোক্ষলাভ আর সিদ্ধিলাভ। তাই প্রতি বছর কামাখ্যা যাওয়ার আগে একবারের জন্য হলেও রামকেলি ভক্ত বৃন্দ ঘুরে যাই।' 


ভারতের অন্য সব মেলার মতো রামকেলির মেলার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে হরেক কিংবদন্তি। রামকেলির মেলার নামকরণ প্রসঙ্গে  'কথিত আছে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র বনবাসে যাওয়ার সময় সীতাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়ভূমেও এসেছিলেন। জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি তিথিতে একটি কুণ্ডে সীতাদেবীর সঙ্গে জলকেলি করেন তিনি। সেই থেকেই নাম রামকেলি।' 



সীতাদেবী এই গয়েশ্বরী মন্দিরে তাঁর মাতৃকুলের উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন। তারপর থেকেই এই জায়গাটি মাতৃগয়া নামে পরিচিতি পায়।' 


এখানেই শেষ নয়। এই মেলার সঙ্গে মিশে রয়েছে আরও অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী। গৌড়ে হুসেন শাহের আগে রাজত্ব করেছিলেন পাল ও সেন বংশের রাজারা। তাঁদের রাজবাড়ি আজও রয়েছে এখানে। সেই সময় এই রামকেলি ছিল হিন্দু আচার সংস্কারের কেন্দ্র। সেই সময় তৈরি অনেক দেবদেবীর মূর্তি এখনও মাটির নীচ থেকে পাওয়া যায়। 



ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের পরে আধুনিককালে শ্রীচৈতন্যও জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে এখানে এসে ভক্তদের কৃপা করেছিলেন। ইতিহাস গবেষকরা বলেন, '১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুন রামকেলিতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। আর ১৫ জুন, হুসেন শাহের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সাকর মল্লিক আর দবির তাঁদের নামকরণ হয় রূপ গোস্বামী খাসকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন। আর সনাতন গোস্বামী।' এই তীর্থে বলে একে অনেকে গুপ্ত বৃন্দাবন বৃন্দাবনের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নামেও চেনেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে পরিবারের সব সদস্যের খুঁটিয়ে তথ্য কেন জেনে নিচ্ছে সরকার? আসল কারণ কি?


অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। কোন ওয়েবসাইটে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পাওয়া যাবে, সেই তথ্যও জানানো হয়েছে। তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অন্যতম আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রকল্পের ফর্ম।


https://socialsecurity.wb.gov.in এই পোর্টাল থেকে ১১ পাতার এই ফর্মে শুধুমাত্র আবেদনকারী নয়, আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও বিশদে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফর্ম টি সহজেই ডাউনলোড করে ফিল আপ করতে পারবেন।


পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, উপার্জনের মাধ্যম, কর্মসংস্থানের ধরন, পরিবারের কেউ রাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করেন কি না, পেনশন পান কি না, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেউ কোনও পদে আছেন কি না, স্বাস্থ্য বিমা, পরিবারের কেউ আয়কর দেন কি না, এরকম একাধিক তথ্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

পরিবারের কতজন সদস্য, বাড়ির ধরন, তাঁদের মোট জমির পরিমাণ, বাড়িতে কোনও যানবাহন আছে কি না, পরিবারের সদস্যদের ভোটার কার্ডের নম্বর, প্যান কার্ড থাকলে তার নম্বর দিতে হবে।

শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ সিএএ-তে আবেদন করেছে কি না, এসআইআর-এ কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, বাদ পড়লেও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে কি না, এই তথ্যগুলিও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।


কিন্তু কেন পরিবারের সদস্যদের তথ্য ফর্মে চাইছে সরকার?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ফর্মে বিশদে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সরকার মা, বোনেদের মাসে ৩ হাজার টাকাও দিতে চায় এবং পরিবারের তথ্যও সংগ্রহ করতে চায়। কারণ সরকার রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দিতে চায়।'


মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশদে তথ্য দিতে হলেও ফর্ম ফিল আপ করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ফর্মে অনেকগুলি তথ্য চাওয়া হয়েছে, ফর্ম পূরণে আমরা সহযোগিতা করব। বিডিও অফিস থেকে বিধায়কদের এই কাজে যুক্ত করা হবে। বিধায়কদের এটা একটি বড় কাজ। বিডিওদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কর্মসূচি হবে। ১৫ থেকে ১৭ জনকল্যাণ শিবিরেও ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করা হবে।'


লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে নেয়া শিক্ষা :

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে শুরু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ এমন উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে, যাঁরা আদৌ সরকারি এই অনুদান পাওয়ার যোগ্য নন। তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে রাজ্য সরকার। ফর্ম থেকে সংগৃহীত পরিবারের সব সদস্যদের বিশদ তথ্য থেকেই তাই আবেদনকারী মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করে নেবে রাজ্য সরকার।


অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নয়

১লা জুন, ২০২৬ থেকে টাকা পাওয়ার আগে জেনে নিন আসল সত্য, পাড়ার চায়ের দোকানের আলোচনা বা হোয়াটসঅ্যাপের ভুলভাল মেসেজে কান দিয়ে প্যানিক করবেন না,কোনো যোগ্য মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।


নিচের নিয়মগুলো ভালো করে মিলিয়ে নিন:

কারা এই টাকা পাবেন না (বয়সের শর্ত):

যাদের বয়স ২৫ বছরের কম কিংবা ৬০ বছরের বেশি, তারা এই সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারাই এই টাকা পাওয়ার যোগ্য।


স্বামীর বা পরিবারের অন্য কারো চাকরি/উপার্জন কি বাধা হবে?

একেবারেই নয়! আপনার স্বামী সরকারি বা বেসরকারি যত বড় অফিসারই হোন না কেন, কিংবা পরিবারের অন্য কেউ (বাবা, দাদা, ভাই, মা, বোন) যত ইচ্ছাই উপার্জন করুক বা ইনকাম ট্যাক্স দিক—তাতে আপনার টাকা পেতে কোনো অসুবিধা হবে না। শর্ত শুধু একটাই, আপনার নিজের যেন কোনো সরকারি ফিক্সড বেতনের চাকরি বা নিজস্ব ট্যাক্স দেওয়ার মতো আয় না থাকে।


কারা এই অনুদান পাবেন না (চাকরি ও করের শর্ত):

কোনো মহিলা যদি এই মুহূর্তে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, সরকারি স্কুল, পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপালিটির অধীনে কোনো ফিক্সড বেতনে চাকরি করেন, তবে তিনি টাকা পাবেন না।


যারা সরকারি চাকরি থেকে নিজে সরাসরি পেনশন পান, তারাও পাবেন না।


যারা বেসরকারি চাকরি বা নিজস্ব ব্যবসা (দোকান, বুটিক ইত্যাদি) করেন এবং বছরে ১২ লক্ষ টাকার ওপর আয় করে ইনকাম ট্যাক্স (Income Tax) দেন, তারা এই ৩০০০ টাকা পাবেন না। (তবে ব্যবসা/চাকরি থাকা সত্ত্বেও যদি আপনি ট্যাক্স স্ল্যাবের নিচে থাকেন এবং ইনকাম ট্যাক্স না দেন, তবে আপনি অবশ্যই টাকা পাবেন)।


পেনশন ও ফ্যামিলি পেনশনের নিয়ম:

স্বামী জীবিত আছেন এবং পেনশন পান, কিন্তু স্ত্রী গৃহবধূ—সেক্ষেত্রে স্ত্রী অবশ্যই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন।


কিন্তু, স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী যদি তাঁর জায়গায় 'ফ্যামিলি পেনশন' সরাসরি নিজের নামে পান, তবে তিনি আর এই যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।


নাগরিকত্ব ও স্পেশাল ছাড় (এসআইআর/সিএএ নিয়ম):

২০২৬ সালের এসআইআর (SIR)-এ যাদের নাম বৈধ নাগরিক হিসেবে কাটা গেছে, তারা এই টাকা পাবেন না।


তবে দুটি বিশেষ ছাড় রয়েছে: ১) যারা সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেছেন (সার্টিফিকেট এখনো পাননি), তারা টাকা পাবেন। ২) যাদের নাম ভুলবশত এসআইআর-এ ওঠেনি বা কাটা গেছে এবং তারা ট্রাইব্যুনালে অ্যাপিল করেছেন, তারাও টাকা পাবেন।


নতুন করে কি আবেদন করতে হবে?

হ্যাঁ। যারা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পাচ্ছিলেন, তারা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা ভাণ্ডার’-এর ৩০০০ টাকা পাবেন। কিন্তু নতুন করে আবেদন করতে হবে। 


যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি বা যাদের সবেমাত্র ২৫ বছর বয়স হলো, তারা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজে বা সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে নতুন রেসিপিয়েন্ট হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।


ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দুটি জরুরি কাজ (অবশ্যই করুন):

১) আধার লিঙ্ক: আপনার যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, সেটির সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে কোনো ভুতুড়ে অ্যাকাউন্ট আপনার টাকা না খেতে পারে।


২) ডিবিটি (DBT) অ্যাক্টিভেশন: আপনার যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে যে অ্যাকাউন্টে সরকারি সুবিধা পেতে চান, সেটিতে ব্যাংকে গিয়ে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি অপশনটি চালু করে নিন। এটি মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ।

~~~

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০২৬ বিজেপির উত্থান

 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬‑এ বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং প্রায় ২০৭টি আসন, পরবর্তী ফলতা উপনির্বাচনে ১ লাখের বেশি ব্যাবধানে জয় রাজ্যের রাজনীতির “ঐতিহাসিক ভূমিকম্প” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 




এই ফলাফল শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের পতনই নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ভূ‑পরিচয়ে বিজেপির একটি নতুন যুগের সূচনা নির্দেশ করেছে। 

বিশদে অন্নপূর্ণা ভান্ডার 

ফলাফল: কী ঘটেছে?

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি প্রায় ২০৮টি আসন জয় করে সরাসরি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।  


অন্যদিকে ক্ষমতাবাহী তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র আশি পার কিছুটা আসনে সীমাবদ্ধ, যা ২০২১ সালের ২১৫ আসনের জয়ের প্রেক্ষিতে এক বিরাট পতন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। 


ভোটাংশের দিক থেকে বিজেপি ৪৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূলের ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশের থেকেও এগিয়ে থাকে। 




উত্থানের মূল কারণগুলি কি কি? 


বিজেপির বাংলায় এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে কয়েকটি মূল রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, বিজেপি কেন্দ্রীয় “নরেন্দ্র মোদি–নীতি” এবং পরিবর্তনের বার্তাকে স্থানীয় স্তরে বিপুল প্রচারণা ও রাজ্যের বিরোধী শক্তির ঘাটতি কাজে লাগিয়েছে। 



দ্বিতীয়ত, তৃণমূল বনাম বিজেপি বিতর্কে বিজেপি কখনও “উন্নয়ন‑গোষ্ঠী”, কখনও “জাতীয় সংহতির পক্ষে” এই চিত্র গড়ে তুলেছে, যা বিশেষত হিন্দু ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। 



এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভৌগোলিক ও সামাজিক কারণ: সীমান্তবর্তী এলাকা, স্থানান্তরিত জনসংখ্যা, নাগরিকত্ব আইন‑সংক্রান্ত বিতর্ক, এবং স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের দূর্নীতি ও সন্ত্রাস‑বিষয়ক অভিযোগ। 


অনেক বিশ্লেষক এই ফলাফলকে “বিরোধী শক্তির অভাবে বিজেপির আগুয়ানি” হিসেবেও দেখছেন, কারণ রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী বাম বা কংগ্রেস জোট গঠিত হতে পারেনি। 



রাজনৈতিক ভেঙেছে কোন কোন ধারণা?

বিজেপির এই উত্থান কেবল আসন‑সংখ্যা নয়, বাংলার “রাজনৈতিক মানচিত্র” পুনর্নির্মাণ করেছে।


 একসময় যেখানে বাংলা ছিল বাম ও কংগ্রেসের দুর্গ, তারপর তৃণমূলের একচেটিয়া রাজনীতি; এখন বিজেপি সেই স্থানে নতুন প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। 


এই পরিবর্তনের সাথে সঙ্গত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ভোট‑ব্যবহার, স্থানীয় নেতৃত্ব ও দলের কাঠামোও পাল্টে যাচ্ছে। 



সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

এই উত্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। বাংলার কিছু অঞ্চলে হিন্দু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রবণতা বাড়ছে, যা বিজেপির “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ” বার্তার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। 


একইসঙ্গে, মুসলিম ভোটব্যাংকের মধ্যে ভাঙন ঘটেছে বলে অনেক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই ভাঙন সম্পূর্ণ কোনো দলের দিকে না গিয়ে কিছু অংশ স্বতন্ত্র বা অন্য দলের দিকে চলে গেছে। 



ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ


বিজেপির এই জয় ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় নীতি ও উন্নয়ন মডেলের সাথে যেমন ঘনিষ্ঠ করবে, তেমনি স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সমালোচনা ও চাপও বাড়তে পারে। 


বিশেষত, উন্নয়ন‑প্রকল্প, নাগরিক অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং স্থানীয় স্বয়ংশাসন বিষয়গুলিতে বিজেপির নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা রাজ্যের অপর রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নতুন কৌশল ও প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করবে।

কীভাবে পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? ১ জুন থেকে ব্যাঙ্কে টাকা! , জানাচ্ছে সরকার

কীভাবে আবেদন করতে হবে, পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা কী করবেন?


কারা পাবেন, কত টাকা মিলবে?


কোনও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু হয়েছে?


আজকে তারিখ ১৮. ০৫. ২০২৬ এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু হয়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়া বা ভুয়ো লিঙ্কে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। সরকারি নির্দেশিকা আসলেই তা নিউসপেপার গুলির মাধ্যমে জানা যাবে।


ভুয়ো ওয়েবসাইট নিয়ে সতর্কতা কেন?


সাবধান থাকুন, অনলাইন প্রতারণার স্বীকার হবে না। ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর নামে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট ও প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে , সরকার এখনও কোনও অনলাইন ফর্ম প্রকাশ করেনি। তাই OTP, ব্যাঙ্ক ডিটেলস বা আধার তথ্য অপরিচিত সাইটে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কী?


অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন মহিলাকেন্দ্রিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারে আসার পূর্বে বিজেপি রাজ্যের মহিলাদের ৩০০০ টাকা প্রতি মাসে দেয়ার প্রতিশ্রুতি বদ্ধ চলো। টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।


বর্তমানে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের সকলকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় চলে আসবে। সম্পূর্ণ অর্থই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকেই টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করবে। তবে তার আগে উপভোক্তাদের তালিকা খতিয়ে দেখে একটি বিশদ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে, মৃত ব্যক্তি বা দেশের নাগরিক নন এমন কেউ ভুলবশত সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। সেই প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।


কবে থেকে চালু হবে প্রকল্প?


রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই ঘোষণা করা হয়।


কত টাকা পাবেন উপভোক্তারা?


এই প্রকল্পে প্রত্যেক যোগ্য মহিলা মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। বছরে মোট ৩৬,০০০ টাকা দেওয়া হবে।


কারা এই সুবিধা পাবেন?


সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে চূড়ান্ত গাইডলাইন এখনও প্রকাশিত হয়নি।


লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?


প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অনেককেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তর করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা রয়েছে।


কী কী নথি লাগতে পারে?


সরকার এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করলেও সম্ভাব্য নথির মধ্যে থাকতে পারে—


আধার কার্ড

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

আধার-লিঙ্কড মোবাইল নম্বর

ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড

বাসস্থানের প্রমাণপত্র


কীভাবে আবেদন করা যাবে?


সরকারি ভাবে এখনও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অনলাইন এবং সরকারি ভাবে শিবির (ক্যাম্প )—দু’টি মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ হতে পারে বলে বিভিন্ন খবরে প্রকাশ হয়েছে।



লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার?


রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা থাকলেও সরকার জানিয়েছে, পুরনো প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়েও আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো সুবিধা বজায় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


কবে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ হতে পারে?


সরকারি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন পদ্ধতি এবং যোগ্যতার মানদণ্ড প্রকাশ করা হতে পারে। জুন মাস থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

ছোটদের জন্য তৈরি হয় একটি অসাধারণ বাংলা ছবি ২০০৩ সালে

আমাদের দেশে এবং বিদেশেও ছোটদের জন্য বেশ কিছু অসাধারণ সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। এখানে যে সিনেমার কথা উল্লেখ করবো তা অসাধারণ একটি ছবি। এই ছবির নাম 'পাতালঘর'। এটি বাংলা ভাষার একটি জনপ্রিয় সায়েন্স-ফিকশন ও অ্যাডভেঞ্চার ভিত্তিক সিনেমা।

ছোটদের জন্য তৈরি হয় একটি অসাধারণ বাংলা ছবি ২০০৩ সালে।



বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সিনেমাটি মজা, রহস্য এবং অ্যাডভেঞ্চারের এক সুন্দর মিশ্রণ। এটি ২০০৩ সালে মুক্তি পায়। 

ছবির পরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী। এই ছবির গল্প শুরু হয় এক রহস্যময় ঘরকে কেন্দ্র করে, যার নাম 'পাতালঘর'। 


বহু বছর আগে বিজ্ঞানী ক্লাউড মূলার শব্দের শক্তি ব্যবহার করে একটি বিশেষ অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরীক্ষার পর তিনি রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক বছর পর কয়েকজন মানুষ আবার সেই পাতালঘর আর মুলারের আবিষ্কার খুঁজতে শুরু করেন। তাঁদের পিছু নেয় কিছু লোভী লোক, যারা এই শক্তিশালী আবিষ্কার দখল করতে চায়। এরপর শুরু হয় রহস্য, অভিযান, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল আর দারুণ থ্রিলের গল্প। 

বর্তমানে কোথায় দেখতে পাবেন?
বর্তমানে সিনেমা টি হৈচৈ (hoichoi) তে পাওয়া যাচ্ছে।

এই সিনেমার কাস্ট
সৌরভ বন্দোপাধ্যায় -  কার্তিক
বিপ্লব চ্যাটার্জী - ভিক
সৌমিত্র চ্যাটার্জী as অঘোর সেন
কেটাকি দত্ত as পিসিমা 
মনু মুখার্জী - গোবিন্দ বিশ্বাস
খরাজ মুখোপাধ্যায় - শুবুদ্ধি
জয় সেনগুপ্ত - Dr. ভূতনাথ নন্দী
মিতা ভাসিষ্ট - বেগম
রমাপ্রসাদ বণিক
সুনীল মুখার্জী - উকিল
রতন সরখেল - গুন

Dhurandhar 2025 Review in Bengali: রণবীর সিংয়ের নকআউট অ্যাকশন ও মুভির বিশ্লেষণ

ধুরন্ধর আদিত্য ধরের পরিচালনায় নির্মিত একটি দীর্ঘ, রাজনৈতিকভাবে টানটান স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে রণবীর সিংয়ের পারফরম্যান্স এবং অ্যাকশন সেট-পিসই মূল আকর্ষণ। পারফরম্যান্স ও অ্যাকশন দারুণ, কিন্তু অতিরিক্ত লম্বা রানটাইম ও সেকেন্ড হাফের স্লো পেস বড় দুর্বলতা।

বাংলার মেলা ও উৎসব ২০২৬

 ধুরন্ধর: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:


ধুরন্ধর”, আদিত্য ধর পরিচালিত একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন থ্রিলার আজ প্রেক্ষাগৃহ গুলিতে মুক্তি পেয়েছে , যেখানে রণবীর সিং, অক্ষয় খন্না, অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত সারা অর্জুনের দারুণ অভিনয় দেখা গেছে  

ছবির মূল কেন্দ্রবিন্দু হল দেশের নিরাপত্তা গোপন মিশনের মধ্যে ঘটিত রাজনৈতিক-বল গত মিশ্রণ।

প্রেক্ষাপট মিশনের সূচনা:

এই সিনেমার মুল প্রেক্ষাপট পাকিস্তানের লিয়ারি অঞ্চলে গোপন মিশনে পাঠানো এক ভারতীয় স্পাইকে ঘিরে, যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে প্রতিটি লিঙ্ক ভেঙে দেয়। 

১৯৯৯-এর কান্দাহার হাইজ্যাক থেকে 26/11 মুম্বাই হামলার মতো জাতীয় সংকটগুলোর পটভূমি ব্যবহার করে সিনেমা বাস্তব ঘটনার অনুপ্রাণিত, গ্রিটি ক্রসবর্ডার স্পাই থ্রিলারকে গ্যাংস্টার আন্ডারওয়ার্ল্ড সাগার সাথে মিশিয়েছে।

২০০০-এর দশকে দেশ জুড়ে সন্ত্রাস জাতীয় নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয় এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা বিভাগ রাজনৈতিক স্তর থেকে গোপন অপারেশনের পরিকল্পনা করা হয়। লক্ষ্য হল শত্রু অঞ্চলে প্রবেশ করে মূল ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস করা।

হামজার নিয়োগ পরিচয়

হামজা (রণবীর সিং) হলেন একজন সাহসী কিন্তু গোপন এজেন্ট, যিনি দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক মিশনের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। তাঁর আসল পরিচয় খুব কম মানুষই জানে—বাইরে থেকে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী বা পর্যটক বলেই মনে হয়। কিন্তু এই ছদ্মবেশের আড়ালে তিনি একজন প্রশিক্ষিত গুপ্তচর, যাঁর কাজ হচ্ছে দেশের জন্য অমূল্য তথ্য সংগ্রহ করা এবং বিপদের মোকাবিলা করা।মিশন শুরু হয় যখন গোয়েন্দা সংস্থা একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়, যারা ভারতের নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

হামজাকে পাঠানো হয় সীমান্তের ওপারে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই হতে পারে প্রাণঘাতী। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যান, শত্রুপক্ষের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং ধীরে ধীরে সংগঠনের অন্তরে প্রবেশ করেন।তবে যতই তিনি গভীরে প্রবেশ করেন, সত্য ততই জটিল হয়ে ওঠে। নেটওয়ার্কের শিকড় শুধু সীমান্তের ওপারে নয়, দেশের ভেতরেও বিস্তার লাভ করেছে। 

হামজাকে বুঝতে হয়—এই মিশন শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, নিজের ভেতরের ভয়, বিশ্বাসঘাতকতা ও নৈতিক দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধেও এক লড়াই।শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশের মাটির প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রমাণ করতে হয় এক কঠিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে—যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের সব সম্পর্ক, বিশ্বাস, এমনকি নিজের নিরাপত্তাকেও ত্যাগ করতে হয় দেশের ভবিষ্যতের জন্য।

অনুপ্রবেশ সন্ধান

হামজা শত্রু অঞ্চলে কৌশলে প্রবেশ করেন এবং স্থানীয় গ্যাংস্টারদের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ধীরে ধীরে সন্ত্রাসী সংযোগগুলোর সীমারেখা বিচ্ছিন্ন করেন, ছোট থেকে বড় সংযোগ পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান।

রেহমান আঘাতের উত্থান

গ্যাংস্টার রেহমান (অক্ষয় খন্না) ছবির অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র। ব্যক্তিগত ট্রমা থেকে তিনি প্রতিশোধবোধে পরিচালিত হন এবং নিজেকে এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলেন।

মেজর ইকবালের আবির্ভাব

হামজার অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন আইএসআই-এর মেজর ইকবাল (অর্জুন রামপাল), যিনিঅ্যাঞ্জেল অফ ডেথনামে পরিচিত। তার উপস্থিতি মিশনকে অপ্রত্যাশিত জটিলতায় ঠেলে দেয়।

গ্যাং-ওয়ার, রাজনৈতিক চাপ সংঘাত

হামজার কার্যকলাপ প্রকাশ পেতেই গ্যাং-ওয়ার ছড়ায়। রাজনৈতিক স্বার্থ ষড়যন্ত্রের ছায়া মাথা তুলে ধরে। প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা আসলাম খান (সঞ্জয় দত্ত) আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন।

ঝুঁকি, ধাঁধা পরিচয়ের ঝুঁকি

হামজা ক্রমশ শত্রুদের নজরে আসেন; পরিচয় ধরা পড়ার ভয় বাড়ে। মনস্তাত্ত্বিক চাপ, বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া জীবন-হারানোর আশঙ্কা তাকে প্রতিমুহূর্তে পরীক্ষা করে।

চরম মুখোমুখি ক্লাইম্যাক্স

হামজা মেজর ইকবালের সরাসরি সংঘর্ষ দেখা যায়। ছবির দ্বিতীয়ার্ধে গতি কিছুটা ধীর হয়, যুদ্ধ আবেগের উত্তেজনা ধাপে ধাপে মাথা তুলে ধরা হয়।


পরিণতি ফলাফল

মিশন সমাপ্তি ষড়যন্ত্রের পরিণতি দেখানো হয়। কিছু চরিত্রের জীবনে স্থায়ী প্রভাব পড়ে। শেষে প্রশ্ন থেকে যায়মিশন কি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে? দর্শকদের মনে কৌতূহল রেখে যায়।


পারফরম্যা সারাংশ

  • রণবীর সিং ছবির কেন্দ্রে থেকে কাঁচা শক্তি ও আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ে দেখা যায় উন্মাদনার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত তীব্রতার অসাধারণ ভারসাম্য। প্রতিটি দৃশ্যে তিনি চরিত্রের মানসিক টানাপোড়েনকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা দর্শককে গল্পের ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। রণবীরের শরীরী ভাষা, চোখের চাহনি ও সংলাপের টান সবকিছু মিলে তাঁকে করে তুলেছে ছবির প্রাণ।

  • অক্ষয় খন্না এখানে একদম ভিন্ন ছন্দে খেলেছেন। তাঁর চরিত্রের ভেতরে যেমন দুর্বলতা ও মানসিক ভাঙন রয়েছে, তেমনি আছে এক গভীর উপস্থিতি। অক্ষয় নিজের মিতভাষী ও স্থির অভিব্যক্তির মাধ্যমে চরিত্রের গভীর যন্ত্রণাকে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করেছেন। দর্শক তাঁর প্রতিটি নীরব মুহূর্তেও অনুভব করতে পারে এক প্রবল অস্থিরতা।

  • অর্জুন রামপাল ছবিতে আছেন এক ভয়াবহ কিন্তু ক্ষমতাধর চরিত্রে। তাঁর রূঢ় কণ্ঠস্বর, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি ও পরিমিত সংলাপ ব্যবহারে চরিত্রটি আরও বাস্তব ও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। তিনি গল্পের উত্তেজনা ধরে রাখেন, এমনকি রণবীরের মতো এনার্জেটিক চরিত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়েও নিজের জায়গা শক্ত করে রাখেন।

  • সঞ্জয় দত্ত তাঁর স্বাক্ষরশৈলীতেই গল্পে আনেন এক অন্য মাত্রা। তীব্র কাহিনির মাঝেও তাঁর উপস্থিতি দর্শককে দেয় কিছুটা হাস্যরস, হালকা ভাব, এবং পুরোনো সঞ্জয় দত্ত-স্টাইলের ডায়ালগ ডেলিভারি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্বাচ্ছন্দ্য গল্পের ভারসাম্য রক্ষা করে।

  • সারা ছবিতে অর্জুনের ভূমিকা ছোট ও সংযত হলেও, তাঁর অভিনয়ে সংবেদনশীলতার ছোঁয়া রয়েছে। তবে চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু দর্শকের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে যায়—এ ধরনের চরিত্রে তাঁকে নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, নাকি অন্য কেউ আরও প্রভাব ফেলতে পারতেন। তবুও সারা নিজের সীমিত পরিসরেও যথেষ্ট সংবেদন আনতে পেরেছেন।

কি কাজ করে / কি কাজ করে না

কাজ করে

কাজ করে না

উচ্চ-ভোল্টেজ অ্যাকশন

দীর্ঘ রানটাইম (প্রায় 214 মিনিট)

শক্তিশালী কেন্দ্রীয় পারফরম্যান্স

দ্বিতীয়ার্ধের ধীরগতি

অ্যাড্রেনালাইন বাড়ানো ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর

কিছু দৃশ্য ছেঁটে দিলে ভালো হত

সারা অর্জুনের কাস্টিং কিছু দর্শকের মনে খটকা


ধুরন্ধর মূলত রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী পরদর্শন। রানটাইম গল্পের গতি সবসময় সমান মাত্রায় কাজ না করলেও, অ্যাকশন সিকোয়েন্স, পারফরম্যান্স পটভূমি সঙ্গীত দর্শকদের জন্য ভ্রমণকে মূল্যবান করে তোলে। যারা উচ্চ-স্তরের অ্যাকশন বড়ো হতাশা-মিশ্র নাটক দেখতে চান, তাদের জন্য এটি দেখার মতো। তবে টাইট, কম দৈর্ঘ্যের থ্রিলার পছন্দ করলে ধৈর্য পরীক্ষা হতে পারে।