দুর্গাপূজা ২০২৬ : ৬ টি বিখ্যাত দুর্গাপূজা যেখানে আমিষ প্রসাদ মা কে নিবেদন করা হয় পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া কেবল আদা, ঘি এবং বিশেষ মশলা দিয়ে তৈরি ‘নিরামিষ মাংসের ভোগ’

পূজোর মধ্যে আমিষ খাওয়া বা পুজোয় মায়ের কাছে পিয়াজ রসুন ছাড়া প্রসাদে মাছ মাংস নিবেদন করা বাঙালি হিন্দুদের বহুদিনের রীতি। দুর্গাপূজায় পূজা উপাচারেও বাঙালির এই রীতি থেকে অটুট থাকে। বিগত দিনে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন এই একটি বিষয়ের উপরে যেটা হলো বিজেপি ক্ষমতায় আসলে বাঙালির মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। কিন্তু সেই সময় পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বে বৃন্দ রাস্তায় মাছ নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রচার করতে থাকেন যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে মাছ মাংসের উপর কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করা হবে না।



মা আসছেন, আর কিছুদিন বাকি, সারা কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পূজা প্রস্তুতির ব্যাস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় বাগেশ্বর বাবার  বক্তবে দূর্গা পূজায় আমিষ খাওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা একটি আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভক্তির এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র। মহালয়ার দেবীপক্ষ থেকে শুরু করে বিজয়া পর্যন্ত মায়ের আবেশ বাঙলি কে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে রাখে। এখানে মা দূর্গা ঘরের মেয়ে, সারা বছর পর বাপের বাড়িতে বেরোতে আসেন, আর সেই সময় বাঙালি মাছ মাংস খাবে না, সেটা হবে না। এই নিয়ম নীতি হয়তো বাগেশ্বর বাবার জানার বাইরে। 


মহাতীর্থ কামাখ্যা (আসাম ) মন্দিরে পাঁঠা বলি হওয়ার পর যে প্রসাদ পাওয়া যায় সেখানে পিয়াজ রসুন ছাড়া মাছ মাংস ভোগ দেয়া হয়। 


বহু বছর থেকে চলে আসা কিছু দূর্গা পূজার ভোগে মাছ মাংস দেয়ার রীতি গুলি দেখে নেয়া যাক।


তমলুকের বর্গভীমা মন্দির - 


সতীর একান্নপীঠের অন্যতম একটি পীঠ তমলুকের বর্গভীমা মন্দির। তন্ত্রচূড়ামণি অনুসারে এখানেও দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে। এখানে প্রতিদিন দুবেলা শোলমাছের টক নিবেদন করা হয়।

Durgapuja 2026 Edik Odik


বীরভূমের নলহাটির নলাটেশ্বরী - 


৫১ সতীপীঠের অন্যতম নলহাটির নলাটেশ্বরী। এখানেও দেবীর ভোগে সাদা ভাতের সাথে নিবেদন করা হয় মাছ।


লাভপুরের ফুল্লরা দেবীর মন্দির - 


মাকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় আরেক সতীপীঠ লাভপুরের ফুল্লরা দেবীর মন্দিরেও। বর্তমানে এখানেও চালু রয়েছে বলিপ্রথা। এই মন্দিরে মাছের ঝোল ও মাছ ভাজা দু পদ দেওয়া হয় মাছের।


তারাপীঠ - 


তারাপীঠেও বিশেষ বিশেষ দিনে পাঁঠাবলিও হয়।হয় 'আমিষ-ভোগ'। তারাপীঠে দেবীর সারা বছরের ভোগেই থাকে শোল পোড়ার আয়োজন। 


কালীঘাট - 


শুধু বাড়ির পুজো গুলিতে আমিষ হয় এমন নয়, ৫১ সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ কালীঘাটে প্রতিদিন থাকে আমিষ ভোগের আয়োজন। দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে মহাপ্রসাদ হিসাবে থাকে মাংস ভোগের আয়োজন। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া কেবল আদা, ঘি এবং বিশেষ মশলা দিয়ে তৈরি এই ‘নিরামিষ মাংসের ভোগ’ কালীঘাটের শতবর্ষের রীতি। এছাড়া প্রতিদিনই কালীঘাট মন্দিরের ভোগে থাকে ১৫ কেজি মাছ, যার মধ্যে থাকে রুই-পারশে। বর্ষাকালে মা-কে দেওয়া হয় ইলিশ ভোগ। তবে আঁশ ছাড়া কোনও মাছ ভোগে দেওয়া হয় না।


কালীঘাট মন্দিরে প্রসাদে মাছ বলতে কাতলা, চিংড়ি, পার্শে প্রভৃতি মাছ মায়ের প্রসাদে দেয়া হয় এছাড়াও যে মাছে গুলি থাকে তা হল কই মাছ এবং ইলিশ মাছ থাকতে পারে। যে মাছে আঁশ আছে, সেই মাছই আপনি মাকে নিবেদন করা যায়। 


কলকাতা শোভাবাজার রাজবাড়ী- 


দীর্ঘ আড়াইশো বছরের পারিবারিক ঐতিহ্য শোভাবাজার রাজবাড়ির দূর্গা পুজো, মা দুর্গাকে তারা শাকম্ভরী রূপে আরাধনার পাশাপাশি নিবেদন করেন জোড়া মাগুর মাছ। এবারও সেই রীতি মেনেই দুর্গাপুজো করা হবে। রাজবাড়ির রীতি অনুযায়ী নবমীতে জোড়া মাগুর মাছ বলি হয়, এ বছর তার অন্যথা হবে না। সেই মাগুর মাছ ঠাকুরদালানেও তোলা হয়। নিয়ম মেনে ওই মাগুর মাছ বলি হয়, নিবেদন করা হয় মা দুর্গাকে। শুধুমাত্র যাঁরা সঙ্কল্প করছেন তাঁরা বাদে পরিবারের অন্যরা যে যার মতো আমিষ খান।'