‏إظهار الرسائل ذات التسميات উৎসব পূজা পার্বন. إظهار كافة الرسائل
‏إظهار الرسائل ذات التسميات উৎসব পূজা পার্বন. إظهار كافة الرسائل

দুর্গাপূজা ২০২৬ : কলকাতার ৬০ টি জনপ্রিয় পূজা কমিটির এবারের পূজো থিম ভাবনা

দূর্গা পূজার আমেজ শুরু হয়ে গেছে, আর কিছুদিন পরেই মহালয়া। বাঙালি পরিবার গুলোতে জামাকাপড় কেনার ধুম শুরু হয়ে গিয়েছে। গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে প্যান্ডেল গড়ার মুহূর্ত গুলো অনুভব করা যাচ্ছে। আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর পূর্বে দূর্গা পূজো গুলো জমিদার বাড়ী পর্যন্ত সীমিত ছিল। ১৯১০ সাল নাগাদ এই পূজো জমিদার বাড়ীর দালান থেকে আস্তে আস্তে বারোয়ারি পুজোর দিকে অগ্রসর হয়। ১৯৬০ সাল নাগাদ দূর্গা পুজোয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে থিম পূজোর চল শুরু হয়। ২০২৬ সালের কলকাতার ৬০ টি পূজোর থিম নিয়ে এখানে আলোচিত হল। 



1) হরিদেবপুর অজেয় সংহতি-র পুজোয় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতের শিল্পচর্চায় জাতীয়তাবাদের প্রকাশ ঘটার যে সূচনা হয়, তাকেই স্মরণ করে বিষয়ভাবনা: ‘স্বতন্ত্র’।


2) সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক : দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রকৃতি থেকে আহরিত নবপত্রিকা ছাড়া পুজো শুরু হয় না। বাঙালির কাছে শরৎ ঋতুর সব থেকে বড় পরিচায়ক কাশ আর শিউলি, যা দুর্গাপুজোরও বার্তাবহ। সর্বোপরি গ্রামবাংলার চিরন্তন মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি হয় প্রায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে যা বিসর্জনের পরে আবার প্রকৃতিতেই মিশে যায়। এই চেতনা নিয়েই পুজোর বিষয়ভাবনা: ‘প্রকৃতি’।


3) মাস্টারদা স্মৃতি সংঘ : সীতাহরণের পরে রামের যে সংকল্প, শুধু সীতা-উদ্ধারই নয় রাবণের হাত থেকে সমগ্র পৃথিবীকে রক্ষা করা, সেই লক্ষ্যপুরণের কাহিনি নিয়েই উপস্থাপনা। এই অভীষ্টসিদ্ধির পথে তিরধনুকই তাঁর প্রধান সহায়। শত্রুদমনেও যেমন, দেবীর আরাধনাতেও ঠিক ততটাই। রামের তিরধনুককে লক্ষ্যভেদের মূল প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়ে বিষয়ভাবনা: ‘সংকল্প’।


4) খিদিরপুর পল্লি শারদীয়া দুর্গোৎসব : বিষয়ভাবনা: ‘চল যাব তোকে নিয়ে’। নিছক আহ্বান নয়, এ যেন স্মৃতির হাত ধরে ফিরে যাওয়ার আমন্ত্রণ। ফিরে যাওয়া সেই কলকাতায়, যেখানে ট্রামের ঘণ্টাধ্বনি ছিল শহরের হৃদস্পন্দন।


5) রাজডাঙা নব উদয় সংঘ: পৃথিবীর সামনে আজকে ঘোর দুর্দিন। নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে পশুপাখিদের বাসস্থান, প্রাকৃতিক বনভূমি। স্বাভাবিক ভৌগোলিক পরিবেশকে মানুষ ধীরে ধীরে কৃত্রিম, বন্ধ্যা করে তুলছে। সেটা অনুভব করা যাচ্ছে না তা নয়, নানা ভাবে হয়তো তা শুধরে নেওয়ারও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রয়াস নানা কারণে এখনও সঠিক বা যথেষ্টর ধারেকাছেও নয়। এই নিয়েই বিষয়ভাবনা: ‘শোধন’।


6) উত্তর কলকাতা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি-র বিষয়ভাবনা: ‘জলছাপের কলকাতা’। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের সন্ধিক্ষণে উত্তর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র চিতপুরে জন্ম নিয়েছিল এক অনন্য শৈল্পিক ধারা। সেই ঐতিহাসিক সময়ের জলরং ও তুলির টান বিশেষত কোম্পানির আমলে দেশীয় পটশিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ দক্ষতায় ব্রিটিশ রুচির সংমিশ্রণে যে ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল, তাতে ধরা পড়েছিল সমকালীন কলকাতার জনজীবন আর পুরনো স্থাপত্যের নিখুঁত রূপরেখা। এই শিল্পধারাই নতুন করে তুলে ধরা হবে পুজোর মণ্ডপে।


7) দক্ষিণের ৭১ পল্লি বৈশাখী সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি-র মণ্ডপের বিষয়ভাবনা: ‘মন্থন-দর্পণ’। আধুনিক সভ্যতার চরম ভোগবাদ ও দায়িত্বহীনতার জেরে নদী, সমুদ্র আর জলাশয়গুলো ঢেকে গেছে বিষাক্ত প্লাস্টিক, রাসায়নিক বর্জ্য আর আবর্জনার স্তূপে। মণ্ডপসজ্জায় এই সংকটকেই তুলে ধরা হয়েছে রূপক দর্পণ হিসেবে।


8) খিদিরপুরের গোপাল ডাক্তার রোড যুবক সংঘ: বিষয়ভাবনা: ‘মানবতা’। বেঁচে থাকার জন্যে মানুষের ন্যূনতম কাম্য খাদ্য, বস্ত্র আর বাসস্থান। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক মানুষেরই হয়তো কোনও না কোনওটার অভাব আছে। সমাজের দেখা উচিত যাতে যার যা অভাব সেটা মেটানো যায়, আর যতক্ষণ সেটা না হচ্ছে, ততক্ষণ যেটুকু আছে তা যেন কেড়ে না নেওয়া হয়। ধর্ম জাতি ভেদাভেদ ভুলে এইটা করতে পারাটাই মানবতা। 


9) গান্ধী কলোনির অভিযান ক্লাব: -এর পুজোয় বিষয়ভাবনা: ‘শুভ্র শান্তি’। তিন হাজার কৃত্রিম শুভ্র শতদলে ঘেরা মণ্ডপে বিরাজ করবে অপার শান্তির ভাব।


10) বাঁশদ্রোণীর সূর্যনগর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মূল ভাবনা ‘উদযাপন’। মণ্ডপশৈলীতে থাকবে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ, দুই প্রতিবেশী রাজ্যের দুই পটচিত্র গ্রাম মধুবনী আর পিংলার শিল্পকলার মেলবন্ধন।


11) কালীঘাট মিলন সংঘ: দেশ-কাল-সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয় ভাবনা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা রবীন্দ্রনাথের রূপকধর্মী নাটক তাসের দেশ। উপস্থাপনার মধ্যে নিহিত থাকবে শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়মের আগড় ভেঙে মুক্ত মনের ধারাকে প্রতিষ্ঠা করার চেতনা।


12) বাঘাযতীন বিবেকানন্দ মিলন সংঘ : ৭৭ তম বর্ষ, এবারের ভাবনা 'প্রণতিতে জয় ' রামচন্দ্রের ডাকে অকালে মা জগৎ জননীর আগমন। 


13) চালতা বাগান লোহাপট্টি : বিষয় ভাবনা 'নিশান' উলকি বা ট্যাটু 


14) অবসর সর্বজনীন-এর বিষয়ভাবনা: অন্য যেখানে অনন্য


15) দমদম তরুণ দল : শিল্পে, মহাকাব্যে, সমাজে, রাজনীতিতে, প্রকৃতিতে, সব জায়গায় আমরা দেখতে পাই পারস্পরিক নির্ভরতা আর সংযোগের সফল মেলবন্ধন। দেবী দুর্গার সৃজনই যেমন দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির জোট। এই সমষ্টিবদ্ধতা নিয়েই দমদম তরুণ দল-এর বিষয়ভাবনা: ‘জোট’।


16) রাজডাঙা আমরা কজন কল্যাণ সমিতি: রাজডাঙা আমরা কজন কল্যাণ সমিতি-র পুজো উৎসর্গীকৃত গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি। তাঁর জন্মের ১৬০ বছরের প্রারম্ভে তাঁর বহুমুখী জীবনের নানা দিক এবং অবশ্যই চিত্রকলা ফুটে উঠবে মণ্ডপের উপস্থাপনায়। গগনেন্দ্রনাথের ধারায় প্রভাবিত পরবর্তীকালের চিত্রীদেরও কাজ দেখা যাবে মণ্ডপে। বিষয়ভাবনা: ‘উৎসারিত আলো’।


17) চালতাবাগান সর্বজনীন: বিষয়ভাবনা: ‘পরম্পরা’। মা দুর্গা মুক্তকেশী, রণরঙ্গিণী। এই মুক্তকেশ নারীজীবনের আবেগ, আত্মসম্মান, শক্তি ও ক্ষতের প্রতীক। এই চুলই নারীর দুর্বলতার অঙ্গ হয়ে সমাজের হাতে মুষ্টিলগ্ন হয়। ক্যান্সারের মতো নিষ্ঠুর বাস্তবতার সামনে কখনও আত্মপরিচয় নিয়ে ঝরে পড়ে, আবার চুল দানের মাধ্যমে এক নারী অন্য এক নারীর বুকে ফিরিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস ও বাঁচার ইচ্ছা। চুল নিয়েই তাই এবারের বিষয়ভাবনা: পরম্পরা।


18) দক্ষিণ কলকাতার সমাজসেবী সংঘ: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের উদযাপনে সমাজসেবী-র পুজো মহানায়ক উত্তমকুমারের উদ্দেশে নিবেদিত। উত্তমকুমারের অভিনীত চলচ্চিত্রের রোমন্থন, তাঁর জীবনের খণ্ডস্মৃতি, তুলে ধরা হবে তাঁরই সময়ের প্রেক্ষাপটে। বিষয়ভাবনা: ‘মহাপূজায় মহানায়ক’।


19) নাগেরবাজার সন্নিহিত তেলিপুকুর নার্সারিবাগান যুব সংঘ: পাড়ার মাঝখানে ফুসফুসের মতো একটা ছোট্ট পুকুর। পরিস্থিতির চাপে ছোট হয়ে গেলেও সে হারিয়ে যায়নি। এই পুকুরকে ঘিরেই উপস্থাপনা। মানুষের জীবনের সঙ্গে পুকুর যেরকম ওতপ্রোতভাবে জুড়ে আছে, সেই উপলব্ধি, মানুষের ও পুকুর উভয়ের সত্তার সেই চিরন্তন যোগসূত্র ধরেই বিষয়ভাবনা: ‘এক পুকুর ভালোবাসা’।


20) লেকটাউন অধিবাসী বৃন্দ: বিষয়ভাবনা: ‘আর্তি’। মানুষের নির্বিচার দহনের ফলে পৃথিবীর বনজঙ্গল আজ ধ্বংস হতে চলেছে। জীবজন্তুরা তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান হারিয়ে বিপন্ন থেকে বিপন্নতর হয়ে বিলুপ্তির মুখে। শিল্পী প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পরিবেশবান্ধব মণ্ডপে তাদেরই অন্তরের আর্তনাদ ফুটিয়ে তুলবেন। বন্দে মাতরম গীত রচনার ১৫০ বছর পূর্তিতে গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন-এর এ-বছরের পুজো ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি উৎসর্গীকৃত। বিষয়ভাবনা: নাম ‘বঙ্কিম’।


21) নিউটাউন সার্বজনীন : বিষয়ভাবনা: ‘পদ্মভূষণ’। পদ্মভূষণ যে শুধু ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান তাই নয়, দেবীর ভূষণও। বাংলাও যেন একদিন সেভাবেই দেশমাতৃকার ভূষণ হয়ে ওঠে সেই চেতনাই রূপ পাবে মণ্ডপে।


22) সন্তোষপুর লেক পল্লি-র বিষয়ভাবনা: ‘তাণ্ডব’। সতীর দেহত্যাগের শোকে উন্মত্ত মহাদেব যে তাণ্ডব নাচ নেচেছিলেন অভিনবতম আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই প্রলয়-প্রাবল্য ফুটে উঠবে কলকাতার বুকে।


23) বাগুইহাটি অশ্বিনীনগর বন্ধুমহল ক্লাব: বাগুইহাটির উপস্থাপনা প্রবীণ নারীদের অদৃশ্য অথচ চিরন্তন শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা। সমাজ প্রায়শই তাঁদের অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করলেও, তাঁদের জীবন, অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা ও ত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের অস্তিত্বের ভিত গড়ে তোলে। দেবী দুর্গা তাঁদের মধ্যেই উপস্থিত থাকেন, যাঁদের নীরব শক্তি সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে। এই কাজ সেই চিরন্তন অধরা শক্তিকেই অনুভব করার একটি প্রচেষ্টা। বিষয়ভাবনা: ‘রোপণ’।


24) হাতিবাগান নবীন পল্লি: এবারের কাজ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। বিষয়ভাবনা: ‘হাসিখুশি পুজো’।বাঙালির ঘরে ঘরে একটা সময় শিশুশিক্ষা শুরু হত যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘হাসিখুশি’ বইটি দিয়ে। কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ‘অ-এ অজগর আসছে তেড়ে’-র সেই পরিচিত সুর। শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে মাতৃভাষা বাংলায় অক্ষর চেনানোর কাজ যাঁরা শুরু করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে যোগীন্দ্রনাথ পথিকৃৎ। 


25) সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি: -র ৯১তম পুজোর সামগ্রিক সৃজনের গুরুদায়িত্বে আছেন শিল্পী। এ-বছরের পুজো ভারতবর্ষের সনাতন সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। বিষয়ভাবনা: ‘সনাতন চেতনায় বন্দে মাতরম্’। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা দেশের জন্যে আত্মোৎসর্গ করেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে


26) দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ইয়ংমেন্স অ্যাসোসিয়েশন- নদীমাতৃক দেশে নদীর সমস্যা, জলদূষণ ইত্যাদি নিয়ে নান্দনিক কাজ। বিষয়ভাবনা: 'জললিপি'। 


27) সল্টলেক ই সি ব্লক-এর সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ: মহাভারতকে কেন্দ্র করে একটা পূর্ণাঙ্গ কাজ। মহাভারতের প্রতিটি ঘটনাই আজকের সমাজব্যবস্থাতেও প্রবল ভাবে প্রাসঙ্গিক। সেই সূত্রই তুলে ধরে দেখানো থাকবে মহাভারতের আঠারোটি পর্বের প্রতিটি থেকে। বিষয়ভাবনা: 'অক্ষৌহিণী'।


29) চেতলা অগ্রণী: খড় আর পেপার পাল্প দিয়ে গড়ে উঠবে মণ্ডপ। বিষয়ভাবনা: ‘বিশ্বরূপে বিশ্বরূপিণী’। একই নারী তিনি দশভুজা। কখনও যুদ্ধ করছেন, কখনও বা গঙ্গা হয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছেন, কখনও গৃহিণী হয়ে সংসার চালাচ্ছেন। এই আমাদের দেবীর বিশ্বরূপ, যা আলো করে তুলবে অগ্রণীর পুজো প্রাঙ্গণ।


30) চেতলার প্রসন্নময়ী ঘাট: এর দুর্গোৎসবের এ-বছর শতবর্ষ পূর্তি। মায়ের অবস্থান ঘাটের উপরেই। ঘাটের একশো বছরের ইতিবৃত্ত নিয়ে বিষয়ভাবনা: ‘শুদ্ধি-সমৃদ্ধি’। 


31) লেকটাউন নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাব: বিষয়ভাবনা: 'নগর কথা'। একসময় প্রায় মেনেই নেওয়া হয়েছিল ১৬৯০ সালে ভিনদেশি জোব চার্নকের পদার্পণেই নাকি শহর কলকাতার জন্ম। কিন্তু ১৫৯৬ সালে দিল্লি দরবারের তোষাখানায় জমা পড়েছিল 'পরগনা কলিকাতা'-র রাজস্ব। ১৬১০ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের জায়গিরদারি পাওয়ার আগে থেকেই ওলন্দাজ, ফরাসি আর পর্তুগিজদের পদচারণায় মুখরিত হত সুতানুটি বন্দর। ২০০৩ সালের ১৬ মে, কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিষ্ঠিত হয়, এই নগরের অস্তিত্ব কোনও বিদেশির দান নয়, ১৬৯০-এর আগেও সে স্বমহিমাতেই ছিল। সেই আত্মপরিচয়ের দলিল হয়েই এবার সেজে উঠবে লেকটাউন নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাব-এর মণ্ডপ। 


32) পার্ক স্ট্রিট অ্যালেন পার্ক: ভাবনায় পূর্ণতা পাবে শিব-তাণ্ডব।


33) চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন: এর মাঠে এবার সৃজিত হবে পদ্মদীঘি। মায়ের অধিষ্ঠান যেন জলের তলায়। ৯০০টি পাতা আর ১০৮টি পদ্মফুল দিয়ে তৈরি কৃত্রিম পদ্মবনের মধ্যে দিয়ে নেমে যাবেন দর্শকেরা, মাথার উপরে খেলে বেড়াবে কৃত্রিম মাছ। বিষয়ভাবনা: ‘পদ্মদীঘির ঘাটে’।


34) পূর্বাচল আমরা সবাই ক্লাব: এখানে বিষয়টা খুবই চিত্তাকর্ষক। ছোট শিশুদের বড় করার সময়ে তাদের সাবধান করতে বা তাদেরই ভালোর জন্যে তাদের দিয়ে কিছু করাতে মায়েদের অনেক সময়ে নানা রকম ছোট ছোট মিথ্যে কথার আশ্রয় নিতে হয়— এই নিয়েই বিষয়ভাবনা: ‘মায়েরা মিথ্যা বলে’।


35) বিরাটির কিশোরপাড়া সর্বজনীন: বাউলগ্রাম। বাউলদের অঙ্গে ধারণের বস্ত্রখণ্ডের স্বাভাবিক রং নিয়ে বিষয়ভাবনা: ‘এবার গেরুয়া’।


36) বেহালা প্লেয়ার্স কর্নার-এর বিষয়ভাবনা: ‘বিবর্তন’। দুর্গাপুজোর বনেদিয়ানা থেকে আজকের কর্পোরেট ইভেন্ট-এর যে যাপন, তাকেই তুলে ধরা হচ্ছে ফটো-আর্কাইভের মাধ্যমে। 


37) শ্যামা পল্লি শ্যামা সংঘ: বিষয় ‘তুরঙ্গ’


38) জোড়াসাঁকো ৭-এর পল্লির বিষয়ভাবনা: ‘লিপন কাম’। গুজরাতের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাধারণের বাড়ির দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা ‘মাটি ও-মুকুর’ শিল্প বিখ্যাত। সৌন্দর্যকে সর্বজনীন করা এবং সেই সব দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোই পুজোর উদ্দেশ্য। 


39) বাগুইহাটি উদয়ন সংঘ: মণ্ডপসজ্জায় দেখা যাবে মধ্যপ্রদেশের গোন্ড শিল্পকলা এবং আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন-এর একশৈল্পিক সংমিশ্রণ। বিষয়ভাবনা: ‘পুনর্জীবন’।


40) বেলেঘাটা সন্ধানী: মণ্ডপ গড়ে উঠবে শান্তিনিকেতনের কাছের উপাসনা মন্দিরের ধাঁচে। আবার ভিতরে দেবীর অধিষ্ঠানের প্রেক্ষাপট নির্মিত হবে বেনারসের অন্নপূর্ণা মন্দিরের আদলে। বিষয়ভাবনা: ‘দেবায়তন’।


41) বেহালা নূতন দল: পূজাপ্রাঙ্গণে এবারে শিল্পীর নিবেদন ‘পার্বণ’। 


42) চালতাবাগান সর্বজনীন : বিষয়ভাবনা: ‘পরম্পরা’। মা দুর্গা মুক্তকেশী, রণরঙ্গিনী। এই মুক্তকেশ নারীজীবনের আবেগ, আত্মসম্মান, শক্তি ও ক্ষতের প্রতীক। এই চুলই নারীর দুর্বলতার অঙ্গ হয়ে সমাজের হাতে মুষ্টিলগ্ন হয়। ক্যানসারের মতো নিষ্ঠুর বাস্তবতার সামনে কখনও আত্মপরিচয় নিয়ে ঝরে পড়ে, আবার চুল দানের মাধ্যমে এক নারী অন্য এক নারীর বুকে ফিরিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস ও বাঁচার ইচ্ছা। চুল নিয়েই তাই এবারের বিষয়ভাবনা: পরম্পরা।


43) খিদিরপুর ৭৫ পল্লি : বিষয়ভাবনা: ‘পরাশ্রয়— এক চিরন্তন সত্য’ পরভৃত কোকিল অন্যের বাসায় ডিম পেড়ে রেখে যায় নিজের ভবিষ্যতে, অনাত্মীয় কেউ অজান্তেই তাকে বড় করে তোলে। মানুষও তেমনই এই পৃথিবীর বুকে এক আশ্রিত প্রাণ। প্রকৃতির দানে তার অস্তিত্ব। অথচ তারাই আবার নিজের লোভে সেই আশ্রয়কে ধ্বংস করে। পরিবর্তে মানুষ যদি সহাবস্থানের ভাষা শেখে, মানবতার ভবিষ্যৎ এখনও বেঁচে যায়। 


44) পশ্চিম পুটিয়ারি পল্লি উন্নয়ন সমিতি-র পুজোর বিষয়ভাবনা: ‘অনামিকা’।


45) পল্লি শারদীয়া : কলকাতার প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রামের যাত্রা। মণ্ডপের প্রতিটি শিল্পরূপ দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে পুরনো কলকাতার অলিগলি, ট্রামের কাঠের কামরা, ঘণ্টাধ্বনি আর পুজোর পরিচিত আবেগে।


46) রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘের পুজো: পৃথিবীর সামনে আজকে ঘোর দুর্দিন। নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে পশুপাখিদের বাসস্থান, প্রাকৃতিক বনভূমি। স্বাভাবিক ভৌগোলিক পরিবেশকে মানুষ ধীরে ধীরে কৃত্রিম, বন্ধ্যা করে তুলছে। সেটা অনুভব করা যাচ্ছে না তা নয়, নানা ভাবে হয়তো তা শুধরে নেওয়ারও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রয়াস নানা কারণে এখনও সঠিক বা যথেষ্ট ধারেকাছেও নয়। এই নিয়েই বিষয়ভাবনা: ‘শোধন’।


47) উত্তর কলকাতা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি-র বিষয়ভাবনা: ‘জলছাপের কলকাতা’। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের সন্ধিক্ষণে উত্তর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র চিতপুরে জন্ম নিয়েছিল এক অনন্য শৈল্পিক ধারা। সেই ঐতিহাসিক সময়ের জলরং ও তুলির টান বিশেষত কোম্পানির আমলে দেশীয় পটশিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ দক্ষতায় ব্রিটিশ রুচির সংমিশ্রণে যে ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল, তাতে ধরা পড়েছিল সমকালীন কলকাতার জনজীবন আর পুরনো স্থাপত্যের নিখুঁত রূপরেখা। এই শিল্পধারাই নতুন করে তুলে ধরা হবে পুজোর মণ্ডপে।


48) দক্ষিণে ৭১ পল্লি বৈশাখী সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি-র মণ্ডপের বিষয়ভাবনা: ‘মন্থন-দর্পণ’। আধুনিক সভ্যতার চরম ভোগবাদ ও দায়িত্বহীনতার জেরে নদী, সমুদ্র আর জলাশয়গুলো ঢেকে গেছে বিষাক্ত প্লাস্টিক, রাসায়নিক বর্জ্য আর আবর্জনার স্তূপে। মণ্ডপসজ্জায় এই সংকটকেই তুলে ধরা হয়েছে রূপক দর্পণ হিসেবে।


49) যোধপুর পার্ক ৯৫ পল্লি : মানসিকভাবে পুরুষ ও নারী উভয় সত্তাই বর্তমান, তাঁদের নিয়ে উপস্থাপনা। মণ্ডপের নির্মাণে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হবে এমন সব প্রাত্যহিক জীবনের উপকরণ যা দ্বৈত-সত্তার সংযোগ ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না, যেমন ইউ-এস-বি পোর্ট, নাট-বল্টু, জিপার ইত্যাদি।


50) ত্রিধারা সম্মিলনী-র পটভূমি তিব্বতের ল্যান্ডস্কেপ, সেখানকার জনজীবন আর শিল্প-সংস্কৃতি। 


51) এন্টালি ১৪-র পল্লির মণ্ডপ গড়ে উঠবে দুর্গামন্দিরের পরিকল্পনায়, বিষয়ভাবনা: ‘বেদভূমি’।


52) কেষ্টপুর প্রফুল্লকানন (পশ্চিম) অধিবাসীবৃন্দের পুজোয়। বিষয়ভাবনা: ‘যাঁহাতে মন রমি’। প্রায় দুই শতাব্দীপ্রাচীন এক দলিত সম্প্রদায়কে যখন জাতিভেদের জন্য মন্দিরে ঢোকার অনুমতি না দেওয়া হয়, তখন ঈশ্বরপ্রেম হয়ে ওঠে তাদের প্রতিবাদের ভাষা। ছত্তীসগড়ের রামনামী সম্প্রদায়ের মানুষেরা শারীরিক দেবতা বা মূর্তির পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভাবে রামের নামের উপর মনোযোগ দেন। তাঁদের কাছে রাম হলেন সর্বব্যাপী এবং রূপহীন পরম সত্য। রামনামকে আগলে ধরে তাঁদের সাধনা। 


53) উল্টোডাঙা অরবিন্দ সেতু-র সুবর্ণ জয়ন্তী। বিষয়ভাবনা: ‘সুবর্ণ রূপমালা’। ভারতীয় শিল্প, লোকঐতিহ্য ও সমকালীন সৃজনশীলতার ভাণ্ডারে দেবী দুর্গা অগণিত রূপে, অসংখ্য শিল্পভাষায় প্রকাশিত হয়েছেন। মাটির মূর্তি, পটচিত্র, টেরাকোটা, ধাতু, কাঠ, বস্ত্র, মুখোশ, আল্পনা কিংবা আধুনিক বিমূর্ত শিল্পে। পুজোর পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে মণ্ডপে উপস্থাপিত হবে পৃথক শৈলী এবং পৃথক নন্দনচেতনায় শিল্পিত পঞ্চাশটি দুর্গার রূপ। 


54) গড়পাড়ের হরিনাথ দে রোড-এর পুজোর শতবর্ষে বিষয়ভাবনা: ‘শাশ্বত বন্ধন’। মাটির গভীরে থাকা শিকড়ের নীরব অস্তিত্বেই গাছের পরিচয়। বাকি অংশ যতই দৃষ্টিনন্দন হোক না কেন, তার সমস্ত সৌন্দর্যের উৎস হল শিকড়। মানুষের পরিবারও তেমনই এক শিকড় বাকি সবাই গাছের শাখাপ্রশাখা। উপস্থাপনার মধ্যে নিহিত থাকবে মানুষের এই শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার বার্তা।


55) বেলেঘাটার সুরা স্পোর্টিং ক্লাব-এর ৪৫তম বর্ষের পুজোয় বিষয়ভাবনা: ‘চিরন্তনী’। জমিদারবাড়ির আঙিনা ছেড়ে দুর্গাপূজোর বারোয়ারি হয়ে ওঠা আর তার ধর্মীয় সত্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সত্তার অসামান্য বিকাশ দুর্গাপুজোকে এক অন্য স্তরে উত্তীর্ণ করেছে। দেবী দুর্গা আজ শুধু আরাধ্যাই নন, তিনি জনজীবনের নানা ভাবনার প্রতীক। চিরন্তনীর এই দীর্ঘযাত্রাই ধরা থাকবে মণ্ডপে।


56) দমদম পার্ক সর্বজনীন-এ। বিষয়ভাবনা: ‘পঞ্চালিকা’। বাংলার দুই হারিয়ে যেতে বসা পুতুলনাচের সংস্কৃতি বেণী-পুতুল আর ডাং-পুতুল নিয়ে কাজ। শুধু পুতুলনাচই নয়, তার নেপথ্যে থাকা শিল্পীদের পরিশ্রম, কুশলতা, সুখ-দুঃখ ইত্যাদিও ফুটে উঠবে কাজের মধ্যে দিয়ে।


57) উল্টোডাঙা বিধান সঙ্ঘ: মহাবিশ্বের যা কিছু জাগতিক বা মহাজাগতিক তার অধিকাংশই মূর্ত, আর বাকি যা যা পড়ে থাকে তাই অমূর্ত। পৌরাণিক কাল থেকেই দেবদেবীদের মূর্ত রূপ কল্পনা করা হলেও, ঈশ্বর বা সর্বশক্তিমান যিনি সর্বত্র বিরাজমান, তিনি আসলে অমূর্ত। উল্টোডাঙা বিধান সংঘে এবারে দৈবীশক্তির সেই অমূর্ত রূপই ফুটে উঠবে শৈল্পিক আঙ্গিকে। বিষয়ভাবনা: ‘অমূর্ত’।


58) সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক সর্বজনীন দুর্গাপূজোর সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রকৃতি থেকে আহরিত নশ্বরপ্রক্রিয়া ছাড়া পুজো শুরু হয় না। বাঙালির কাছে শরৎ ঋতুর সব থেকে বড় পরিচায়ক কাশ আর শিউলি, যা দুর্গাপূজোরও বার্তাবহ। সর্বোপরি গ্রামবাংলার চিরন্তন মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি হয় প্রায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে যা বিসর্জনের পরে আবার প্রকৃতিতেই মিশে যায়। এই চেতনা নিয়েই পুজোর বিষয়ভাবনা: ‘প্রকৃতি’।


59) উত্তর কলকাতার মাণিকতলা স্মৃতি সংঘের মণ্ডপ। সীতাহরণের পরে রামের যে সংকট, শুধু সীতা-উদ্ধারই নয় রাবণের হাত থেকে সমগ্র পৃথিবীকে রক্ষা করা, সেই লঙ্কাপুরের কাহিনী নিয়েই উপস্থাপনা। এই অভীষ্টসিদ্ধির পথে তিরধনুকই তাঁর প্রধান সহায় শত্রুদমনেও যেমন, দেবীর আরাধনাতেও ঠিক ততটাই। রামের তিরধনুককে লক্ষাভেদের মূল প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়ে বিষয়ভাবনা: ‘সংকল্প’।


60) দক্ষিণের ৭১ পল্লি বৈশাখী সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি: -র মণ্ডপের বিষয়ভাবনা: ‘মন্থন-দর্পণ’। আধুনিক সভ্যতার চরম ভোগবাদ ও দায়িত্বহীনতার জেরে নদী, সমুদ্র আর জলাশয়গুলো ঢেকে গেছে বিষাক্ত প্লাস্টিক, রাসায়নিক বর্জ্য আর আবর্জনার স্তূপে। মণ্ডপসজ্জায় এই সংকটকেই তুলে ধরা হয়েছে রূপক দর্পণ হিসেবে।

দুর্গাপূজা ২০২৬ : ৬ টি বিখ্যাত দুর্গাপূজা যেখানে আমিষ প্রসাদ মা কে নিবেদন করা হয় পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া কেবল আদা, ঘি এবং বিশেষ মশলা দিয়ে তৈরি ‘নিরামিষ মাংসের ভোগ’

পূজোর মধ্যে আমিষ খাওয়া বা পুজোয় মায়ের কাছে পিয়াজ রসুন ছাড়া প্রসাদে মাছ মাংস নিবেদন করা বাঙালি হিন্দুদের বহুদিনের রীতি। দুর্গাপূজায় পূজা উপাচারেও বাঙালির এই রীতি থেকে অটুট থাকে। বিগত দিনে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন এই একটি বিষয়ের উপরে যেটা হলো বিজেপি ক্ষমতায় আসলে বাঙালির মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। কিন্তু সেই সময় পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বে বৃন্দ রাস্তায় মাছ নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রচার করতে থাকেন যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে মাছ মাংসের উপর কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করা হবে না।



মা আসছেন, আর কিছুদিন বাকি, সারা কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পূজা প্রস্তুতির ব্যাস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় বাগেশ্বর বাবার  বক্তবে দূর্গা পূজায় আমিষ খাওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা একটি আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভক্তির এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র। মহালয়ার দেবীপক্ষ থেকে শুরু করে বিজয়া পর্যন্ত মায়ের আবেশ বাঙলি কে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে রাখে। এখানে মা দূর্গা ঘরের মেয়ে, সারা বছর পর বাপের বাড়িতে বেরোতে আসেন, আর সেই সময় বাঙালি মাছ মাংস খাবে না, সেটা হবে না। এই নিয়ম নীতি হয়তো বাগেশ্বর বাবার জানার বাইরে। 


মহাতীর্থ কামাখ্যা (আসাম ) মন্দিরে পাঁঠা বলি হওয়ার পর যে প্রসাদ পাওয়া যায় সেখানে পিয়াজ রসুন ছাড়া মাছ মাংস ভোগ দেয়া হয়। 


বহু বছর থেকে চলে আসা কিছু দূর্গা পূজার ভোগে মাছ মাংস দেয়ার রীতি গুলি দেখে নেয়া যাক।


তমলুকের বর্গভীমা মন্দির - 


সতীর একান্নপীঠের অন্যতম একটি পীঠ তমলুকের বর্গভীমা মন্দির। তন্ত্রচূড়ামণি অনুসারে এখানেও দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে। এখানে প্রতিদিন দুবেলা শোলমাছের টক নিবেদন করা হয়।

Durgapuja 2026 Edik Odik


বীরভূমের নলহাটির নলাটেশ্বরী - 


৫১ সতীপীঠের অন্যতম নলহাটির নলাটেশ্বরী। এখানেও দেবীর ভোগে সাদা ভাতের সাথে নিবেদন করা হয় মাছ।


লাভপুরের ফুল্লরা দেবীর মন্দির - 


মাকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় আরেক সতীপীঠ লাভপুরের ফুল্লরা দেবীর মন্দিরেও। বর্তমানে এখানেও চালু রয়েছে বলিপ্রথা। এই মন্দিরে মাছের ঝোল ও মাছ ভাজা দু পদ দেওয়া হয় মাছের।


তারাপীঠ - 


তারাপীঠেও বিশেষ বিশেষ দিনে পাঁঠাবলিও হয়।হয় 'আমিষ-ভোগ'। তারাপীঠে দেবীর সারা বছরের ভোগেই থাকে শোল পোড়ার আয়োজন। 


কালীঘাট - 


শুধু বাড়ির পুজো গুলিতে আমিষ হয় এমন নয়, ৫১ সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ কালীঘাটে প্রতিদিন থাকে আমিষ ভোগের আয়োজন। দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে মহাপ্রসাদ হিসাবে থাকে মাংস ভোগের আয়োজন। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া কেবল আদা, ঘি এবং বিশেষ মশলা দিয়ে তৈরি এই ‘নিরামিষ মাংসের ভোগ’ কালীঘাটের শতবর্ষের রীতি। এছাড়া প্রতিদিনই কালীঘাট মন্দিরের ভোগে থাকে ১৫ কেজি মাছ, যার মধ্যে থাকে রুই-পারশে। বর্ষাকালে মা-কে দেওয়া হয় ইলিশ ভোগ। তবে আঁশ ছাড়া কোনও মাছ ভোগে দেওয়া হয় না।


কালীঘাট মন্দিরে প্রসাদে মাছ বলতে কাতলা, চিংড়ি, পার্শে প্রভৃতি মাছ মায়ের প্রসাদে দেয়া হয় এছাড়াও যে মাছে গুলি থাকে তা হল কই মাছ এবং ইলিশ মাছ থাকতে পারে। যে মাছে আঁশ আছে, সেই মাছই আপনি মাকে নিবেদন করা যায়। 


কলকাতা শোভাবাজার রাজবাড়ী- 


দীর্ঘ আড়াইশো বছরের পারিবারিক ঐতিহ্য শোভাবাজার রাজবাড়ির দূর্গা পুজো, মা দুর্গাকে তারা শাকম্ভরী রূপে আরাধনার পাশাপাশি নিবেদন করেন জোড়া মাগুর মাছ। এবারও সেই রীতি মেনেই দুর্গাপুজো করা হবে। রাজবাড়ির রীতি অনুযায়ী নবমীতে জোড়া মাগুর মাছ বলি হয়, এ বছর তার অন্যথা হবে না। সেই মাগুর মাছ ঠাকুরদালানেও তোলা হয়। নিয়ম মেনে ওই মাগুর মাছ বলি হয়, নিবেদন করা হয় মা দুর্গাকে। শুধুমাত্র যাঁরা সঙ্কল্প করছেন তাঁরা বাদে পরিবারের অন্যরা যে যার মতো আমিষ খান।'

বাংলায় ২০২৬ সালের এক ডজন পূজাবার্ষিকী আমাজন, ফ্লিপকার্ট থেকে জলদি অর্ডার করুন Bengali Saradiya Puja Sanka 2026

 বাঙালির পূজোর গন্ধ ইতিমধ্যেই গায়ে লেগে গেছে। আর মাত্র কদিন বাকি, মা আসছেন একটি বছর পরে। ঢাকে কাঠি পরে গিয়েছে। বই পড়তে বা বই গিফট করতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। আর বাঙালির ঘরে পূজো সংখ্যা থাকবে না তা কি হয়? বাংলা ১৪৩৩ সন অর্থাৎ ইংরেজি ২০২৬ সালের বড় বড় প্রকাশক ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব পূজো সংখ্যা পূজো বার্ষিকী নিয়ে হাজির হয়েছে। বাজারে, বই এর দোকানে সমস্ত বই পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দ বাজার, দেশ, সানন্দা, প্রসাদ বিভিন্ন সংস্থার পূজা সংখ্যার বই অনলাইন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। লিমিটেড এডিশন, দ্রুত বুক না করলে স্টক পাওয়া মুশকিল হবে। নিচে ১২ টি জনপ্রিয় পূজা সংখ্যার আমাজন লিংক দেয়া হলো। লিংক গুলো ক্লিক করে নিদৃষ্ট বইটি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এছাড়া একসাথে কম্বো ৬ টি বই অর্ডার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট কিছুটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। 



আনন্দলোক পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬),

 আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে মোট ৩৬০ পৃষ্ঠা রয়েছে। বইটির মূল্য ₹৩২০ এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। এটি মূলত বিনোদন, টলিউড-বলিউড খবর, গসিপ, সংস্কৃতি ও উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা ও ছবি-সহ একটি জনপ্রিয় পুজোবার্ষিকী। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ একটি প্রকাশনা।

অর্ডার করুন : ANANDALOK PUJABARSHIKI 1433 (2026) : Rs.320.00

আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দমেলা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি মূলত শিশু-কিশোরদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ধাঁধা, কার্টুন ও বিভিন্ন রঙিন ফিচারে ভরপুর। বইটির মূল্য প্রায় ₹৩১৫–৩৫০ এবং এটি পেপারব্যাক বা সফটকভার ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী বাঙালি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা, যা উৎসবের মেজাজে নতুন নতুন লেখা ও ছবি-গল্প নিয়ে সাজানো হয়।

অর্ডার করুন : Anandamela Pujabarshiki 1433 (2026) 340.00


বিষাকা থ্রিলার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের তরফে প্রকাশিত একটি বিশেষ শারদীয়া সংকলন, যা মূলত রোমাঞ্চকর থ্রিলার ও রহস্যঘন গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৬ সালের এই পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকের লেখা অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম, সাসপেন্স ও মিস্ট্রি ধাঁচের গল্প স্থান পেয়েছে, যা পাঠকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহল জাগিয়ে তুলবে। আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, আনন্দলোক-সহ আনন্দ পাবলিশার্সের অন্যান্য পুজোবার্ষিকীর মতোই বিষাকা থ্রিলার সংখ্যাটিও বাঙালি পাঠকদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও থ্রিলারপ্রিয় পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যাটিতে থাকে নতুন নতুন চরিত্র, অজানা রহস্য ও রোমাঞ্চকর প্লট, যা পাঠকদের পুজোর ছুটিতে উপভোগ্য পড়ার অভিজ্ঞতা দেয়।

অর্ডার করুন : Bivashika Thriller Patrika 1433 : Pujabarshiki 1433  Rs. 259.00

প্রসাদ পূজা বার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ২০০–৪০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ content রয়েছে, যেখানে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, শিল্প-সংস্কৃতি, উৎসবের বিশেষ ফিচার এবং নানা ধরনের লাইফস্টাইল ও বিনোদনমুখী লেখা থাকে। প্রদাস পুজোবার্ষিকী মূলত পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের কথা ভেবে তৈরি—এতে ছোটদের জন্য আলাদা বিভাগ, রান্নার রেচিপি, ভ্রমণকাহিনি, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ এবং উৎসবের সাজসজ্জা নিয়ে টিপসও থাকে। বাঙালি সংস্কৃতি ও শারদোৎসবের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পত্রিকাটি প্রতি বছর পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহযোগ্য আইটেম হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Prasad 1433 (2026) || Pujabarshiki 223.00

কিশোর জানা বিজ্ঞান পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখা নিয়ে তরুণ পাঠকদের জন্য তৈরি।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা—যেমন মহাকাশ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন আবিষ্কার—সহ সহজ ভাষায় উপস্থাপিত প্রবন্ধ, কুইজ, ধাঁধা ও রঙিন ছবি থাকে।  প্রতি বছরের মতো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই পুজোবার্ষিকীটিও দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয় এবং বাঙালি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ জাগিয়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৮৫–₹৩০০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।


অর্ডার করুন : Puja Barshiki Kishore Jnan Bigyan, 46th Year (2026) Rs. 299.00


মহাদেবী পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

দুর্গাপুজো উপলক্ষে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় বাংলা শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা মূলত রোমাঞ্চ, সাসপেন্স ও ছোটগল্পের সমাহার নিয়ে পাঠকদের কাছে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি আগস্ট–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৪২–৫০০ পৃষ্ঠার মতো সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু রয়েছে, প্রকাশকের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ দেখা যায়।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২৭০–₹৩৫০ এর মধ্যে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  মহাদেবী পুজোবার্ষিকীতে বিভিন্ন লেখকের লেখা থ্রিলার, রহস্য, সামাজিক গল্প ও উৎসবভিত্তিক লেখা থাকে, যা দুর্গাপুজোর সময় পাঠকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।  এটি বাংলা পাঠকদের মধ্যে একটি চাহিদাপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী পুজোবার্ষিকী হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Pujabarshiki Mahadevi 1433 || Bengali Thriller, Suspense, Stories & Poetry Collection || Parul Prakashani : 350.00

শারদীয়া আনন্দবাজার পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

আনন্দবাজার পত্রিকার বছরের শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৬০ পৃষ্ঠার সমৃদ্ধ content রয়েছে। এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available এবং মূল্য ₹৩৪০ (কিছু দোকানে ₹২৮৯-এও পাওয়া যাচ্ছে)। শারদীয়া আনন্দবাজারে থাকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভ্রমণ, রান্না, শিল্প-সংগীত, উৎসবের বিশেষ লেখা, বিখ্যাত লেখকদের গল্প-প্রবন্ধ, পাশাপাশি পুজোর সাজসজ্জা ও উদযাপনের নানা আইডিয়া। বাঙালি পাঠকদের জন্য এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও চাহিদাপূর্ণ প্রকাশনা, যা পুজোর আমেজ বাড়িয়ে তোলে এবং পরিবারের সবাই মিলে পড়ার মতো একটি special collection।


অর্ডার করুন : Saradiya Anandabazar Patrika Pujabarshiki 2026 Rs. 320.00


দেশ পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাঙালি পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পুজোবার্ষিকী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, উৎসব, ভ্রমণ, শিল্প-সাহিত্য ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের লেখা ও ছবি থাকে।  দেশ পুজোবার্ষিকী মূলত একটি ম্যাগাজিন ধাঁচের প্রকাশনা, যেখানে গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, সাক্ষাৎকার এবং উৎসবের বিশেষ ফিচারসহ নানা বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে।  এটি অনলাইন বুকস্টোর ও বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পেপারব্যাক বা হার্ডব্যাক ফরম্যাটে available এবং সাধারণত ₹৩০০–₹৩৫০ রেঞ্জে বিক্রি হয়।  বাঙালি পাঠকদের মধ্যে শারদীয়া পত্রিকার ঐতিহ্যবাহী চাহিদার অংশ হিসেবে দেশ পুজোবার্ষিকীও প্রতি বছর জনপ্রিয়তা পায়।


অর্ডার করুন : Sharadiya Desh Pujabarshiki 2026 || 1433 (Desh Sharadiya) - Rs.340.00


কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী ১৪৩৩ (২০২৬) 

আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া সাহিত্য সংকলন, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে পাঠকদের হাতে পৌঁছে যায়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য লেখকদের ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।  মূলত ছুটির সময়ের পাঠের জন্য উপযোগী করে সাজানো এই বার্ষিকীতে থাকে বিনোদনধর্মী ও সাহিত্যমানসম্পন্ন লেখার সমাহার।  বইটির মূল্য সাধারণত ₹২০০–₹২৫০ এর মধ্যে হয়ে থাকে এবং এটি পেপারব্যাক বা ম্যাগাজিন ফরম্যাটে available।  কথা সাহিত্য পুজোবার্ষিকী দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত ও চাহিদাপূর্ণ শারদীয়া প্রকাশনা হিসেবে পরিচিত।


অর্ডার করুন : Sharadiya Katha Sahitya 1433 || Bangla Pujabarshiki 2026 || Rs. 300.00

সানন্দা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩)

সানন্দা পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটিতে উপন্যাস, ছোটগল্প, ফ্যাশন, বিউটি, রান্না, ফিটনেস, সেলিব্রিটি সাক্ষাৎকার এবং বিশেষ ফিচারসহ নানা ধরনের লেখা রয়েছে।  এটি মোট ৬৯২ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার সংস্করণ এবং এর মূল্য ₹৩২০ (ছাপা মূল্য) ও ₹২৫৬ (বিক্রয় মূল্য)।  সানন্দা পুজোবার্ষিকী বাঙালি পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রিয় একটি শারদীয়া প্রকাশনা, যা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন নিয়ে সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে।

অর্ডার করুন : Saradiya Sananda Pujabarshiki 2026 320.00


টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

ছোটোদের জন্য প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শারদীয়া বিশেষ সংখ্যা, যা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে বাজারে আসে।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি মধুসূদন ঘাটী সম্পাদনা করেছেন এবং এটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।  বইটির মূল্য ₹১৮০ (মূল্য তালিকা অনুযায়ী ₹২০০ থেকে ১০% ছাড়ে) এবং এটি পেপারব্যাক ফরম্যাটে available।  টাপুর টুপুর পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত ছোটোদের উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া, ধাঁধা, রঙিন ছবি ও বিভিন্ন মজাদার লেখা থাকে, যা শিশুপাঠকদের উৎসবের মেজাজে আনন্দ দেয়।  আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর অন্যান্য শারদীয়া সংখ্যার মতো এটিও বাঙালি পরিবারে পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অর্ডার করুন : Tapur Tupur Pujabarshiki 1433 (2026) Rs. 200.00


উমা পুজোবার্ষিকী ২০২৬ (১৪৩৩) 

আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়া বিশেষ সংখ্যাগুলির মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রকাশনা, যা দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর প্রকাশিত হয়।  ২০২৬ সালের এই সংস্করণটি ৪০৮ পৃষ্ঠার একটি হার্ডকভার বই হিসেবে available এবং এর মূল্য প্রায় ₹৩৪০–৩৯৯।  উমা পুজোবার্ষিকীতে সাধারণত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সেলিব্রিটি ইন্টারভিউ, রান্না-ফ্যাশন-সৌন্দর্য এবং উৎসবভিত্তিক বিভিন্ন লেখা থাকে, যা পরিবারের সব বয়সের পাঠকদের পছন্দ হয়।  আনন্দ পাবলিশার্সের এই শারদীয়া সংখ্যাটি বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ধারাকে বহন করে এবং পুজোর মরসুমে পাঠকদের কাছে একটি প্রিয় সংগ্রহ হিসেবে গণ্য হয়।


অর্ডার করুন : Uma Pujabarshiki 1433 (2026)  - Rs. 385.00

Combo : Rs. 2499.00 Sananda, Anandabazar, Shardiya Patrika, Anandalok, Anandamela and Desh Pujabarshiki 2026 With Sananda & Desh 1-1 Copy Total 8 (Saradiya Anandabazar Pujabarshiki)

ভাদ্র মাসের পূজা-উপাচার : Festivals of August & September 2026

ভাদ্র মাসের পূজা-উপাচার:



| ইংরেজি তারিখ | বাংলা (ভাদ্র) | উৎসব/অনুষ্ঠান | বিবরণ |

| ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১ ভাদ্র | লুণ্ঠনষষ্ঠী (লুণ্ঠনষষ্ঠী) | ষষ্ঠী তিথি চলছে — শুরু: ১৭ অগস্ট বিকেল ৫:০২, শেষ: ১৮ অগস্ট বিকেল ৫:৫১। |

আরও পড়ুন : গরমে চটজলদি শরবত বোরহানি 

| ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৬ ভাদ্র | পুত্রদা একাদশী; ঝুলনযাত্রা আরম্ভ | একাদশী তিথি চলছে — শুরু: ২২ অগস্ট রাত ২:০২, শেষ: ২৩ অগস্ট ভোর ৪:১৯। ঝুলনযাত্রা শুরু। |

| ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১ ভাদ্র (পূর্ণিমা) | রাখি-বন্দন / পূর্ণিমা | পূর্ণিমা তিথি চলছে — শুরু: ২৭ অগস্ট সকাল ৯:১০, শেষ: ২৮ অগস্ট সকাল ৯:৪৯। ঝুলনযাত্রা সমাপন। |

| ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮ ভাদ্র | শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী | অষ্টমী তিথি চলছে — শুরু: ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ২:২৭, শেষ: ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৪ (জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠিত)। |

| ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১ ভাদ্র | অজা একাদশী | একাদশী তিথি চলছে — শুরু: ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭:৩১, শেষ: ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫:০৫। |

| ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৪ ভাদ্র | অমাবস্যার নিশি পালন (অমাবস্যা) | অমাবস্যা তিথি আরম্ভ: ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:৩৫। |

| ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র | অমাবস্যা তিথি শেষ | অমাবস্যা তিথি শেষ: ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, সকাল ৭:৫৭। |

| ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র | শ্রীশ্রী গণেশপূজা | গণেশপূজার দিন: ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার। চতুর্থী তিথি আরম্ভ: একই দিন সকাল ৭:০৮। |

| ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র | চতুর্থী তিথি শেষ | চতুর্থী তিথি শেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, সকাল ৭:৪৫। |

| ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র | শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মাপূজা | বিশ্বকর্মা পূজার দিন: ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। |


ভাদ্র মাসে বিয়ের শুভ দিন-



৭ ভাদ্র, ২৪ অগস্ট, সোমবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৮টা ২৮ মিনিট গতে রাত ১০টা ১৪ মিনিটের মধ্যে মীন, মেষ লগ্নে। পুনরায়, রাত ১১টা ৩৯ মিনিট গতে মধ্যরাত ৩টে ৪ মিনিটের মধ্যে বৃষ, মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


৮ ভাদ্র, ২৫ অগস্ট, মঙ্গলবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৮টা ৪৮ মিনিট গতে ভোর ৪টে ৪২ মিনিটের মধ্যে মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৩ ভাদ্র, ৩০ অগস্ট, রবিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিট গতে রাত ৯টা ১৮ মিনিটের মধ্যে মেষ লগ্নে, সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৭ ভাদ্র, ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।


বিয়ে- মধ্যরাত ১টা ৩ মিনিট গতে ভোর ৪টে ৭ মিনিটের মধ্যে মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৮ ভাদ্র, ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট গতে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে মীন, মেষ লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


১৯ ভাদ্র, ৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিট গতে রাত ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে মীন ও মেষ লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


২৬ ভাদ্র, ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার।


বিয়ে- সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিট গতে রাত ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে মীন ও মেষ লগ্নে। পুনরায় ১১টা ২ মিনিট গতে ৩ টে ৩১ মিনিটের মধ্যে মিথুন, কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।


২৭ ভাদ্র, ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার।


বিয়ে- রাত ৯টা ১ মিনিটের মধ্যে কুম্ভ, মীন ও মেষ লগ্নে। পুনরায় রাত ১০টা ৫৮ মিনিট গতে মধ্যরাত ১টা ১ মিনিটের মধ্যে মিথুন লগ্নে। পুনরায় মধ্যরাত ২টো ৩০ মিনিট গতে ৩টে ২৭ মিনিটের মধ্যে কর্কট লগ্নে সুতহিবুক যোগে বিয়ে।

মা আসছেন ২০২৬: দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ, আয়োজন ও উৎসবের আবহ

বাঙালির আবেগ দুর্গাপূজা। আর মাত্র কটা দিন। মা আসছেন। টাক কুর কুর ঢাক বাজা শুরু হয়ে যাবে মণ্ডপে মণ্ডপে। মাঠ ঘাট চারপাশ কাশ বনে ঢেকে যাবে। আকাশে বাতাসে মায়ের আগমনের ঘন ঘটা উপচে পড়বে। 



কুমোরটুলি

সরকারি ছুটি

পূজার বিনোদন

নতুন কেনা কাটা 

দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট

সরকারের ভূমিকা

কুমোরটুলি 

রথ যাত্রা শেষ হবার পরেই কুমোরটুলি গুলিতে প্রতিমা তৈরির হিড়িক পরে গিয়েছে। বিশেষত খড়ের খাঁচা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিমা তৈরির জিনিস পত্রের অতিরিক্ত দাম কিছু কুমোরটুলির কাজ থমকে গিয়েছে। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।


সরকারি ছুটি 

এবারের সরকারি ছুটি আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে। যারা দূরে চাকুরী করেন সকলেই বাড়ী ফেরার তাগিদে টিকিট কাটতে শুরু করেছেন। শুরুতেই এখন টিকিট কেটে না নিলে ওয়েটিং এর ঝামেলায় পড়তে হবে। 


বিনোদন 

দুর্গাপূজা মানেই বিনোদন, সংস্কৃতি আর আনন্দের উৎসব—প্যান্ডেল হপিং, নাচ-গান, নাটক, নতুন গান, নতুন পূজা বার্ষিকী পত্রিকা, বিশেষ অনুষ্ঠান আর পারিবারিক আড্ডা সব মিলিয়ে পূজার আবহ তৈরি হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলা বিনোদন মাধ্যমে সাধারণত বিশেষ নাটক, গান, ইউটিউব ভিডিও এবং পূজা-নির্ভর কনটেন্ট প্রকাশ পায়।


পূজার বিনোদন

পূজার সময় বিনোদনের মধ্যে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক, সংগীতানুষ্ঠান, এবং মন্ডপে আয়োজন করা নানা পারফরম্যান্স। অনেকেই বাড়িতে থেকেও পরিবার নিয়ে হাতের কাজ, গল্প, খেলা, গান আর ছোটখাটো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পূজার আনন্দ উপভোগ করেন।


নতুন কেনা কাটা 

দুর্গাপূজা কেনাকাটা বলতে সাধারণত উৎসবের আগে নতুন পোশাক, শাঁখা-সিঁদুর, গয়না, পূজার সাজসজ্জা, উপহার এবং পুজোর সামগ্রী কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পূজাকে ঘিরে শপিংমল ও বিশেষ বাজারগুলোতে কেনাকাটার ভিড় বাড়ে, আর শাঁখারী বাজার/মার্কেটগুলোতে শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, শাড়ি, মুকুট, ধুতি, পাঞ্জাবি, প্রদীপসহ নানা জিনিস বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ দেখার মতো।


কী কী কেনা হয়

পোশাক: শাড়ি, পাঞ্জাবি, ধুতি, ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা।

পূজার সামগ্রী: শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, মালা, মুকুট, প্রদীপ, আগরবাতি।

উপহার ও সাজসজ্জা: গয়না, কসমেটিকস, ঘর সাজানোর জিনিস, মিষ্টি।

অনলাইন ও অফলাইন কেনাকাটা: অনেকেই দোকানে যান, আবার অনেকে ক্যাশব্যাক অফার পেলে অনলাইনেও কেনেন। আর পূজোর আগে বাড়িতে কিনে রাখেন একটা বা কয়েকটা পূজা বার্ষিকী পত্রিকা। 


কেনার সময় কী দেখবেন

- বাজেট আগে ঠিক করুন, নাহলে উৎসবের ভিড়ে খরচ বেড়ে যেতে পারে।

- পরিবারের সবার জন্য একসঙ্গে তালিকা বানালে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে।

- দামের সঙ্গে মান যাচাই করুন, বিশেষ করে শাড়ি, পাঞ্জাবি, গয়না ও পূজার সামগ্রীতে।

- অফার থাকলে তা মিলিয়ে নিন, তবে শুধু ছাড় দেখে কিনবেন না ।


সহজ কেনাকাটা পরিকল্পনা

১. প্রথমে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা করুন।

২. বাজেট ভাগ করুন: পোশাক, পূজার সামগ্রী, উপহার, অতিরিক্ত খরচ।

৩. বাজার ও অনলাইন—দুই জায়গার দাম তুলনা করুন।

৪. শেষ মুহূর্তে নয়, আগে কিনলে ভিড় ও দাম দুটোই কম চাপ দেবে 


দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট:

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী মহালয়া ১০ অক্টোবর, এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। এই বছর পূজা কিছু পঞ্জিকা মতে ৬ দিনের হয়ে যাচ্ছে, তাই সপ্তমী ২ দিন ধরে পড়তে পারে .

প্রধান তিথি

মহালয়া: ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার

মহাষষ্ঠী: ১৬ বা ১৭ অক্টোবর ২০২৬, পঞ্জিকা ভেদে একদিনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

মহাসপ্তমী: ১৭–১৮ অক্টোবর ২০২৬।

মহাঅষ্টমী: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার।

মহানবমী: ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার।

বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার।


দুর্গাপুজো ও সরকারের ভূমিকা:


দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই সরকার সাধারণত পুজোর আগে প্রশাসনিক বৈঠক করে মণ্ডপে নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, রাস্তা, আলো, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। কলকাতার বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।


সরকারি অনুদান নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকদের বক্তব্য, অনুদান পুজো কমিটিগুলির আর্থিক চাপ কমায় এবং সাধারণ মানুষের উৎসবকে আরও সুন্দর করে; বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যয় না করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা কর্মসংস্থানে ব্যবহার করা উচিত। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন সরকার আগের মতো সব পুজো কমিটিকে অনুদান দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে মন্দারমণিতে EDM-এর ধামাকা—জেনে নিন Sunburn Reload-এর সব তথ্য

Sunburn Reload Sundowner 2026 — ১৬ আগস্ট মন্দারমণির কে সি ভিউ রিসর্টে অনুষ্ঠিত হবে, দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। গোয়ায় জনপ্রিয় সানবার্ন ফেস্টিভ্যালের এই স্পেশাল এডিশনটা এবার বঙ্গের বে অফ বেঙ্গলের সি বিচে আয়োজন করা হয়েছে, তাই মন্দারমণি এবং আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলিতে বড় রেভিনিউ ও ভিড় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইভেন্টের কনসেপ্ট সানডাউনারের থিমকে কেন্দ্র করে — দুপুর থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের ডান্স সেশনগুলোতে আলোকসজ্জা ও মঞ্চের নকশা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রধান পারফরমারদের মধ্যে আছেন DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি এবং Antim — যারা ইলেকট্রিফাইং ইলেকট্রোনিক ডান্স মিউজিক পরিবেশন করবেন। লাইভ পারফর্ম্যান্সের পাশাপাশি হাই-এনার্জি সেট, লেজার শো এবং দর্শনীয় স্টেজ ডিজাইন থাকবে; যার ফলে সানডাউনের মোমেন্ট এবং রাতের পার্টির ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা বাড়বে। আন্তর্জাতিক দর্শক ও মিউজিক লোভারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়েছে, তাই ডি-জে সেটগুলোতে ট্রেন্ডিং EDM ট্র্যাক ও কাস্টম মিক্স শোনা যাবে।



টিকেট সম্পর্কে: ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ১৮ বছর ও তার বেশি বয়স প্রয়োজন। দুই ধরনের টিকেট পাওয়া যাবে — সাধারণ টিকিট ₹1,499 এবং প্রিমিয়াম টিকিট ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)। প্রিমিয়াম টিকিটে সাধারণত উন্নত ভিউ, ফাস্ট-ট্র্যাক এন্ট্রি বা নির্দিষ্ট সেকশনে বসবাসের সুবিধা থাকতে পারে; নির্দিষ্ট সুবিধাগুলো কনফার্ম করতে BookMyShow-এ তালিকাভুক্ত ইভেন্ট ডিটেইল চেক করা উত্তম। টিকিট কাটা যাবে BookMyShow-এ, এবং ইভেন্টের প্রতি অংশগ্রহণের সময় ID দেখিয়ে এন্ট্রি নিশ্চিত করতে হতে পারে।


এই আয়োজনটি বিশেষ কারণ হলো—Sunburn ব্র্যান্ডটি এশিয়ার বৃহত্তম ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হিসেবে পরিচিত, যা মূলত গোয়ার আরব সাগর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতো। ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে সানবার্ন শুরু করেন, এবং এরপর এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত ও প্রসার লাভ করে। যদিও মূল সানবার্ন ডিকেম্বরে — মুম্বই মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে (১৮–১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে, তবু এই সময়ের বাইরে গ্র্যান্ড—সানডাউনর থিমে একটি বিশেষ এডিশন মন্দারমণিতে আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পার্কিং , ক্যাম্পিং, খাবারের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল সার্ভিস—এসব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রতিষ্ঠানিক ঘোষণায় দেওয়া না হলে BookMyShow বা ইভেন্টের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট চেক করতে হবে। ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে আগেই টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিন, কারণ উৎসবে ট্যুরিস্ট ভিড় বেশি হবে। স্থানীয় পরিবহন, হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ নিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।


গোয়ার বিখ্যাত সানবার্ন ফেস্টিভ্যাল এবার বাংলার মন্দারমণির সি বিচে — নাম দেওয়া হয়েছে "Sunburn Reload Sundowner"। স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তে, ১৬ আগস্ট মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্টে এই ইলেকট্রিফাইং ডান্স-মিউজিক ইভেন্ট হবে। আয়োজনটি লোকাল পর্যটন ও আয় বৃদ্ধির আশায় বড় আকর্ষণ হবে; লাইভ পারফর্ম্যান্স ও মঞ্চসজ্জা থাকবে হাই-এনার্জি সেটে। মূল সানবার্ন স্থায়ীভাবে সাধারণত ডিসেম্বরেই মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত হয় (১৮–১৯ ডিসেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্স) — কিন্তু এই বিশেষ সানডাউনার-এ বঙ্গবাসীও অংশ নিতে পারবেন।


- ইভেন্ট নাম: Sunburn Reload Sundowner  2026

- দিন ও সময়: ১৬ আগস্ট, দুপুর ১২টা — রাত ১০টা  

- স্থান: মন্দারমনির কে সি ভিউ রিসর্ট, সি বিচ (Mandarmani KC View Resort)  

- অংশগ্রহণযোগ্যতা: বয়স ১৮ এবং তার উপরে  

- টিকেট টাইপ ও মূল্য: দুই ধরণের — ₹1,499 এবং ₹3,999 (প্রতি ব্যক্তি)  

- টিকেট কোথায় পাওয়া যাবে: BookMyShow  

- হেডলাইন আর্টিস্টরা: DJ Sartek, Houdini, Rudr ও Arkein জুটি, Antim (ও আরও সেলিব্রিটি পারফর্মাররা)  

- ইভেন্ট বৈশিষ্ট্য: লাইভ পারফর্ম্যান্স, ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক (EDM), আকর্ষক স্টেজ ডিজাইন ও সন্ধ্যাবেলা সানডাউন থিম  

- কেন আলাদা: সাধারণত সানবার্ন গোয়ার আরব সাগরের তীরে আয়োজন করা হয়; এবার এটা বে অফ বেঙ্গলের তটে এবং বাংলার পর্যটনকে টানবে  

- মূল সানবার্ন সম্পর্কে: এশিয়ার অন্যতম বড় ইলেকট্রিক ডান্স মিউজিক ফেস্টিভ্যাল; ২০০৭ সালে শৈলেন্দ্র সিং পারস্পেক্ট লাইভ ব্যানারে শুরু করেন


গোয়ার পর এবার মন্দারমণিতে সানবার্নের ঝড়—১৬ আগস্ট জমবে EDM সানডাউনার


- বে অফ বেঙ্গলের তীরে প্রথমবার সানবার্ন—মন্দারমণিতে ১৬ আগস্ট মিউজিকের মহোৎসব

- মন্দারমণিতে নামছে সানবার্ন Reload: Sartek থেকে Houdini, থাকছে তারকাখচিত লাইনআপ


- গোয়ার সানবার্ন এবার বাংলায়: মন্দারমণিতে কখন, কোথায়, কত টাকার টিকিট?

- সমুদ্র, সূর্যাস্ত আর ইলেকট্রনিক মিউজিক—মন্দারমণিতে আসছে Sunburn Reload

- বাংলার বিচে সানবার্নের অভিষেক: ১৬ আগস্ট মন্দারমণিতে বসছে মিউজিকের আসর

- মন্দারমণির বুকে সানবার্নের উন্মাদনা—Sartek, Houdini-দের সঙ্গে জমবে রাত

- Sunburn Reload Mandarmani 2026: বাংলার সমুদ্রসৈকতে EDM পার্টির বড় ঘোষণা

রামকেলি মেলা ২০২৬ : কামাখ্যায় সিদ্ধি লাভের আগে মালদার ঐতিহ্যবাহী মেলা

 বিবিধের মাঝে মহামিলনের এই দেশ ভারতবর্ষ আজও মানুষের ভিড়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ধর্ম, মত, বর্ণ, আধ্যাত্মিক উপচারের বিভেদ। তাই শাক্ত সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য তন্ত্রপীঠ কামাখ্যায় যাওয়ার আগে মোক্ষলাভের লক্ষ্যে বৈষ্ণব তীর্থ রামকেলির হাজির হন ভক্তবৃন্দেরা।  রবিবার (১৪. ০৬. ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে গৌড়বঙ্গের আস্থা ও আবেগের উৎসব, রামকেলির মেলা। তার আগে এখন সাজোসাজো রব জেলাজুড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মহদিপুরের রামকেলিধামে আসেন পুণ্যার্থীরা। এমনকি, ভিড় থাকে কারবারি দেরও। হরেক পসরা নিয়ে তাঁরাও হাজির এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। প্রায় সাতদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের। সেই প্রস্তুতি শেষ হবে ১৭ তারিখ, মেলা ভাঙার পরেই।



রামকেলি হয়ে অনেকেই চলে যান অসমের কামাখ্যায়, 'অম্বুবাচির মেলায় অংশ নিতে। কিন্তু, রামকেলি আর কামাখ্যার মধ্যে মিল কোথায়? বিশ্বাস যে, সবের মধ্যেই রয়েছে মোক্ষলাভ আর সিদ্ধিলাভ। তাই প্রতি বছর কামাখ্যা যাওয়ার আগে একবারের জন্য হলেও রামকেলি ভক্ত বৃন্দ ঘুরে যাই।' 


ভারতের অন্য সব মেলার মতো রামকেলির মেলার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে হরেক কিংবদন্তি। রামকেলির মেলার নামকরণ প্রসঙ্গে  'কথিত আছে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র বনবাসে যাওয়ার সময় সীতাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়ভূমেও এসেছিলেন। জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি তিথিতে একটি কুণ্ডে সীতাদেবীর সঙ্গে জলকেলি করেন তিনি। সেই থেকেই নাম রামকেলি।' 



সীতাদেবী এই গয়েশ্বরী মন্দিরে তাঁর মাতৃকুলের উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন। তারপর থেকেই এই জায়গাটি মাতৃগয়া নামে পরিচিতি পায়।' 


এখানেই শেষ নয়। এই মেলার সঙ্গে মিশে রয়েছে আরও অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী। গৌড়ে হুসেন শাহের আগে রাজত্ব করেছিলেন পাল ও সেন বংশের রাজারা। তাঁদের রাজবাড়ি আজও রয়েছে এখানে। সেই সময় এই রামকেলি ছিল হিন্দু আচার সংস্কারের কেন্দ্র। সেই সময় তৈরি অনেক দেবদেবীর মূর্তি এখনও মাটির নীচ থেকে পাওয়া যায়। 



ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের পরে আধুনিককালে শ্রীচৈতন্যও জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে এখানে এসে ভক্তদের কৃপা করেছিলেন। ইতিহাস গবেষকরা বলেন, '১৫১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুন রামকেলিতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। আর ১৫ জুন, হুসেন শাহের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সাকর মল্লিক আর দবির তাঁদের নামকরণ হয় রূপ গোস্বামী খাসকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করেন। আর সনাতন গোস্বামী।' এই তীর্থে বলে একে অনেকে গুপ্ত বৃন্দাবন বৃন্দাবনের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় নামেও চেনেন।

বাংলার উৎসব ও মেলা ২০২৫ : বাংলায় কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাসের মেলা ও উৎসব (নভেম্বর) || Edik-Odik

কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহনকারী মাস। কার্তিক মাস বাংলা সনের সপ্তম মাস এবং ধ্রুব শীতের সূচনা হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় যা বাংলার লোকজ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।

বাংলার উৎসব ও মেলা ২০২৫ : বাংলায় কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাসের মেলা ও উৎসব (নভেম্বর) || Edik-Odik


কার্তিক মাসে প্রচলিত অন্যতম বড় উৎসব হল কার্তিক পূর্ণিমা, যা কার্তিক মাসের শেষ দিনে পালিত হয়। এই দিনে গঙ্গা ও অন্যান্য পবিত্র নদীতে স্নান করার প্রচলন আছে, যা পাপ মুছে দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়। 

এছাড়া দীপাবলি বা কালী পূজা ও লক্ষ্মী পূজা এই মাসের উল্লেখযোগ্য উৎসব, যেখানে দেবী কালী ও লক্ষ্মী পূজিত হন। ভাইফোঁটা উৎসবটি কার্তিকের একাদশীতে পালিত হয়, যা ভাই ও বোনের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ প্রকাশের প্রতীক।


অগ্রহায়ণ মাস বাংলা সনের অষ্টম মাস, যা বর্ষবরণের মাস হিসেবেও পরিচিত। অগ্রহায়ণ মাসে বাংলার পুজো ও মেলার মধ্যে শ্রীরাম নবমী, দেবউঠানি একাদশী, শুক্লাপক্ষের বিভিন্ন পুণ্যকাজ এবং বড়ি উৎসব থাকে। এই সময়ে গ্রাম বাংলায় মেলা ও বাজারের জাঁকজমক থাকে, যেখানে লোকশিল্প, বলি দেওয়া এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।


SIR 2025 Effects in West Bengal

সংক্ষেপে, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস বাংলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে উৎসব, পূজা আর মেলার মাধ্যমে মানুষ ধর্মীয় আত্মিকতা ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখে এবং শীতের উৎসবমুখর আনন্দ উপভোগ করে। এই মাসের উৎসবগুলো বাংলার সংস্কৃতির প্রকৃত পরিচয় বহন করে এবং ইহা বাংলার মানুষের জীবনে পরম আনন্দ ও উজ্জীবন নিয়ে আসে।


Explore Bihar's Top 10 Festivals (Bengali)

এখানে জেলা অনুযায়ী বাংলার উৎসব ও মেলার তথ্য দেয়া হল।


১৫ই নভেম্বর (২৮ কার্তিক ): 

বাংলার উৎসব ও মেলা-বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার অন্তর্গত শ্রীখণ্ড গ্রামে শ্রীচৈতন্য পার্ষদ বৈষ্ণব অধিকর্তা নরহরি সরকার ঠাকুরের তিরোভাব মহোৎসব ও মেলা।


১৬ই নভেম্বর (২৯ কার্তিক ) : 

বাংলার উৎসব ও মেলা-উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বরাহনগর আদ্যাপীঠে রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠাতা শ্রীঅন্নদা ঠাকুরের আবির্ভাব মহোৎসব।


১৮ ই নভেম্বর (১ অগ্রহায়ন ): 

বরানগর শ্রীপাটবাড়িতে বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহারাজের তিরোভাব তিথি উৎসব। 


হাওড়া জেলার খড়িয়াগ্রামে শ্রীশ্রী শ্মশানকালীমাতার পূজা উপলক্ষ্যে একমাসব্যাপী মেলা আরম্ভ। 


বর্দ্ধমান জেলার দুর্গাপুরে ফিরীঙ্গি শ্মশানকালীমাতার মন্দিরে বাৎসরিক পূজা ও উৎসব।


২০ নভেম্বর (৩ অগ্রহায়ন ) : 

মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ থানার দোগাছি গ্রামে অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যায় নিশিতে কালীপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। 


নদীয়া জেলার হাঁসখালি থানার পাটুলী গ্রামে অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যায় দক্ষিণা কালীর পূজা ও উৎসব।


২৮ নভেম্বর (৭ অগ্রহায়ন):

চন্দননগরে গোস্বামিঘাটে শ্রীবৃন্তীর মেলা।


দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বেহালায় বড়িশার চণ্ডীর মাঠে চণ্ডীদেবীর বার্ষিক পুজোৎসব ও মেলা। 

ব্রত প্রকরণ। শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর প্রতি বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা Sri Sri Laxmi Devi Bratakatha

 ব্রতকথা-

দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ। 

ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস। 


লক্ষ্মীদেবী বামে করি বসি নারায়ণ। 

করিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন। 


সেইকালে বীণা হস্তে নারদ মুনিবর। 

লক্ষ্মী নারায়ণে নমি কহিল বিস্তর। 


বাংলার ভৌতিক চরিত্রঃ

ঋষি বলে মাগো তব কেমন বিচার। 

সর্বদা চঞ্চলা হয়ে ফির দ্বারে দ্বার। 


মর্ত্যবাসী সন তাই ভুগিছে দুর্গতি। 

ক্ষণেকের তরে তব নাহি কোথা স্থিতি। 


প্রতিদিন অন্নভাবে সবে দুঃখ পায়। 

প্রতি গৃহে অনশন জীর্ণ-শীর্ণকায়। 


নারদের বাক্য শুনি লক্ষ্মী ঠাকুরাণী। 

সঘনে নিঃশ্বাস ত্যজি কহে মৃদুবাণী। 


কভুনা কাহার প্রতি আমি কবি রোষ। 

নরনারী দুঃখ পায় নিজ কর্মদোষ। 


যাও তুমি ঋষিবর ত্রিলোক ভ্রমণে। 

ইহার বিধান আমি করিব যতনে। 


অতঃপর চিত্তি লক্ষ্মী নারায়ণে কয়। 

কিরূপে হরিব দুঃখ কহ দয়াময়। 


হরি কহে শুন সতী বচন আমার। 

মর্ত্যবামে লক্ষ্মী রত করহ প্রচার। 


বৃহস্পতিবারে মিলি যত এয়োগণে। 

সন্ধ্যাকালে পুজি কথা শুনি ভক্তিমনে। 


বাড়িবে ঐশ্বর্য্য তাহে তোমার কৃপায়। 

দুঃখ কষ্ট দূরে যাবে তোমার দয়ায়। 


শ্রীহরির বাক্য শুনি আনন্দিত মনে। 

মর্ত্যে চলিলেন লক্ষ্মী ব্রত প্রচারণে। 


অবন্তী নগরে লক্ষ্মী হ'ল উপনীত। 

দেখিয়া শুনিয়া হ'ল বড়ই স্বস্তিত। 


নগরের লক্ষপতি ধনেশ্বর রায়। 

অগাধ ঐশ্বর্য্য তার কুবেরের প্রায়। 


সোনার সংসার তার শূন্য হিংসা দ্বেষ। 

প্রজাগণে পালিত সে পুত্র নির্বিশেষে। 


এক অন্নে সাত পুত্র রাখি ধনেশ্বর। 

যথাকালে সসম্মানে গেল লোকান্তর। 


পিতার মৃত্যুর পর সপ্ত সহোদর। 

হইল পৃথক অন্ন সপ্ত সহোদর। 


ক্রমে ক্রমে লক্ষ্মীদেবী ছাড়িল সবারে। 

সোনার সংসার সব গেল ছারখারে। 


বৃদ্ধা ধনেশ্বর পত্নী না পারি তিষ্ঠিতে। 

গহণ কাননে যায় জীবন ত্যজিতে। 


হেনকালে ছদ্মবেশে দেবী নারায়ণী। 

বন মাঝে উপনীত হলেন আপনি। 


মধুর বচনে দেবী জিজ্ঞাসে বৃদ্ধারে। 

কিজন্য এসেছ তুমি গ্রহণ কাস্তারে। 


কাঁদিতে কাঁদিতে বৃদ্ধা অতি দুঃখভরে। 

তাহার ভাগ্যের কথা বলিল লক্ষ্মীরে। 


সহিতে না পারি আর সংসার যাতনা। 

ত্যজিব জীবন আমি করেছি বাসনা। 


লক্ষ্মীদেবী বলে শুন আমার বচন। 

মহাপাপ আত্মহত্যা নরকে গমন। 


আমি বলি সাধবী তুমি কর লক্ষ্মীব্রত। 

দুঃখ রবি অস্ত যাবে হবে পূর্বমত। 


মনেতে লক্ষ্মীর মূর্তি করিয়া চিন্তন। 

একমনে ব্রতকথা করিবে শ্রবণ। 


যেই গৃহে লক্ষ্মীব্রত গুরুবারে হয়। 

বাঁধা থকে লক্ষ্মী তথা জানিও নিশ্চয়। 


বলিতে বলিতে দেবী নিজ মূর্তি ধরি। 

দরশন দিল তারে লক্ষ্মী কৃপা করি। 


মূর্তি হেরি বৃদ্ধা তাঁরে প্রণাম করিল। 

আনন্দিত হয়ে বৃদ্ধা গৃহেতে ফিরিল। 


গৃহেতে ফিরিয়া বৃদ্ধা করিল বর্ণন। 

যেরূপে ঘাটল তার দেবী দরশন । 


ব্রতের বিধান সব বধূদের বলে। 

শুনি বন্ধুগণ ব্রত করে কৌতূহলে। 


বধূগণ লয়ে বৃদ্ধা করে লক্ষ্মীব্রত। 

হিংসা দ্বেষ-স্বার্থ ভাব হৈল ডিরোহিত। 


মালক্ষ্মী করিল তথা পুনরাগামন। 

অচিরে হইল গৃহ শাস্তি নিকেতন। 


দৈবযোগে একদিন বৃদ্ধার আলয়ে। 

উপনীত এক নারী ব্রতের সময়ে। 


ব্রতকথা শুনি তার ভক্তি উপজিল। 

লক্ষ্মীব্রত করিবারে মানস করিল। 


স্বামী তার চিররুগ্ন অক্ষম অর্জনে। 

ভিক্ষা করি যাহা পায় খায় দুইজনে। 


এই কথা চিন্তি নারী করিছে কামনা। 

নিরোগ স্বামীরে কর চরণে বাসনা। 


ঘরে গিয়ে এয়ো লয়ে কর লক্ষ্মীব্রত। 

ভক্তিসহ সাধবী নারী পূজে বিধিমত।


দেবীর কৃপায় তার দুঃখ হলো দূর। 

পতি হলো সুস্থ দেহ ঐশ্বর্যা প্রচুর। 


কালক্রমে শুভদিনে জন্মিল তনয়। 

সংসার হইল তার সুখের আলয়।


 দয়াময়ী লক্ষ্মীমাতা সদয় হইল। 

রূপবান পুত্র এক তাহার জন্মিল। 


এইরূপে লক্ষ্মীরত করে ঘরে ঘরে। 

প্রচারিত হয় ক্রমে অবস্তী নগরে। 


শুন শুন এয়োগণ এক অপূর্ব ব্যাপার। 

ব্রতের মাহাত্ম হ'ল যে ভাবে প্রচার। 


অবন্তী নগরে এক গৃহস্থ ভবনে। 

এয়োগণ লক্ষ্মীব্রত করে একমনে। 


সহসা সেখানে এলো বণিক তনয়। 

উপনীত হলো তথা ব্রতের সময়। 


ধনরত্ন আদি করি ভাই পঞ্চজন। 

পরস্পর অনুগত রয় সর্বজন। 


ব্রত দেখি হেলা করি সাধুর তনয়। 

বলে একি রত, ইথে কিবা ফলোসায় । 


সদাগর বাক্য শুনি বলে বামাগণ। 

করি লক্ষ্মীব্রত যাতে কামনা পূরণ। 


এই ব্রত যে করিবে ধনে জনে তার।

লক্ষ্মী বরে হবে তার সোনার সংসার। 


শুনি তাহ্য সদাগর বলে অহঙ্কারে। 

যে জন অভাবে থাকে সে পূজে উহারে। 


ধনৈশ্বর্য্য ভোগ আদি যা কিছু সম্ভবে। 

সবই তো আমার আছে আর কিবা হবে। 


ভাগ্যে না থাকিলে লক্ষ্মী কিবা দিবে ধন। 

হেন কথা কভু আমি না শুনি কখন। 


অহঙ্কার বাক্য লক্ষ্মী সহিতে না পারে। 

গর্বের কারণে লক্ষ্মী ছাড়িল তাহারে। 


ধনমদে মত্ত হয়ে লক্ষ্মী করি হেলা। 

নানা রত্ন পূর্ণ তরী বাণিজ্যেতে গেলা। 


দৈবযোগে লক্ষ্মী কোপে সহ ধনজন। 

সপ্ততরী জলমধ্যে হইল নিমগন। 


গৃহমধ্যে ধনৈশ্বর্য যা ছিল তাহার। 

বজ্রাঘাতে দগ্ধ হয়ে হলো ছারখার। 


দূরে গেল ভ্রাতৃভাব হলো ভিন্ন অন্ন। 

সোনার সংসারে তার সকলে বিপন্ন। 


ভিক্ষাজীবী হয়ে সনে ফিরে ঘরে ঘরে। 

পেটের জ্বালায় ঘোরে দেশ দেশান্তরে।


এরূপ হইল কেন বুঝিতে পারিল। 

কেঁদে কেঁদে লক্ষ্মীস্তব করিতে লাগিল। 


সদয়া হইল লক্ষ্মী তাহার উপরে। 

পুনরায় কৃপা দৃষ্টি দেন সদাগরে। 


মনে মনে মা লক্ষ্মীরে করিয়া প্রণাম। 

রতের সঙ্কল্প করি আসে নিজ ধাম। 


লক্ষ্মীব্রত করে সাধ লয়ে বন্ধুগণ। 

সাধুর সংসার হলো পূর্বের মতন। 


এইভাবে লক্ষ্মীব্রত মর্ত্যেতে প্রচার। 

সদা মনে রেখো সবে লক্ষ্মীব্রত সার। 


এই ব্রত যেই নারী করে একমনে। 

লক্ষ্মীর কৃপায় সেই বাড়ে ধনে জনে।। 


করযোড় করি হাত ভক্তি যুক্ত মনে। 

করহ প্রণাম এবে যে থাক যেখানে। 


ব্রতকথা যেবা পড়ে যেবা রাখে ঘরে। 

লক্ষ্মীর কৃপায় তার মনোবাঞ্ছা পুরে। 


লক্ষ্মীর ব্রতের কথা বড় মধুময়। 

প্রণাম করিয়া যাও যে যার আলয়। 


লক্ষ্মী ব্রতকথা হেথা হৈল সমাপন। 

মনের আনন্দে বল লক্ষ্মীনারায়ণ। 


অথ প্রতি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীদেবীর ব্রতকথা সমাপ্ত-

বিহারের ১০টি প্রধান উৎসব: সময়সীমা এবং উৎসবের বর্ণনা সহ পূর্ণ তালিকা

বিহারের মূল এবং সবচেয়ে পরিচিত উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হল ছট পূজা। এছাড়াও আরও কিছু বিখ্যাত উৎসব ও মেলা প্রতিবছর বিহারে উদযাপিত হয:



বিহারের প্রধান উৎসবছট পূজা: সূর্য দেবতা এবং ছটি মাইয়ার আরাধনায় বিহারের সবচেয়ে পবিত্র ও প্রধান হিন্দু উৎসব। কঠোর উপবাস, নদীর ঘাটে উপাসনা, এবং প্রার্থনা এর বৈশিষ্ট্য।

ভারতের মহিলা ক্রিকেট টীম 

সামা-চাকেভা: প্রধানত মিথিলাঞ্চলে পালিত ভাই-বোনের সম্পর্কের সুন্দর উৎসব 


শ্রাবণী মেলা: দেবঘর, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের ধর্মস্থানে শিবের উপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ সোনাপুর


শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর প্রতি বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা - Laxmi Brata

গরুর মেলা: এশিয়ার বিখ্যাত পশু মেলা


মকর সংক্রান্তি: ফসল তোলার উৎসব, মকর সংক্রান্তি মেলা এবং বিহুলা উৎসব


তীজ ও জিতিয়া: বিশেষত নারীদের উপবাস ও পারিবারিক মঙ্গল কামনায় পালন


রাজগীর মহোৎসব: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকসংস্কৃতির মেলাঅন্যান্য উদযাপিত উৎসব


বুদ্ধ পূর্ণিমা/বুদ্ধ জয়ন্তী: বোধ গয়াতে পালিত ঈদ, হোলি, দীপাবলি: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব এই উৎসবগুলো বিহারি রা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও পরম্পরাগত ভাবে পালন করে, আর এগুলির সঙ্গে বিহারের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন গভীরভাবে জড়িত।


প্রধান উৎসবগুলোর একটি বিশদ তালিকা ও সময় হলো:


ছট পূজা: অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে পালিত হয়, যা বিহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। সূর্য দেব ও ছটি মাইয়ার আরাধনায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।


মকর সংক্রান্তি: প্রতি বছরের ১৩-১৪ জানুয়ারি (কখনো কখনো ১৫ জানুয়ারি), সূর্য কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ উপলে পালিত


হোলি: মার্চ মাসে, বিভিন্ন তারিখে পালিত যার মধ্যে হোলিকার দহন একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ


দীপাবলি: অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে পালিত হয়।


মহাশিবরাত্রি: ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে, বিশেষ করে ভক্তদের মধ্যে প্রচণ্ড জনপ্রিয়


যতিয়া বা যতিয়া ব্রত: সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে পালন করা হয়, এটি মাতৃদেবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত


দশেরা বা বিজয়দশমী: অক্টোবর মাসে পালিত।


করমা ও বিশ্বকর্মা পূজা, বর্ষা আর নবরাত্রি-সহ অন্যান্য উৎসবও বিহারে সফলভাবে পালন হয়।


প্রতিটি উৎসবের নির্দিষ্ট তারিখ মাস ও বর্ষ অনুসারে বদলায়, তাই বছরের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে স্থানীয় ক্যালেন্ডার বা উৎসব তালিকা দেখতে হয়। এই উৎসবগুলোর সময় এবং ধরন বিহারের খাদ্য, সংস্কৃতি, ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। বিশেষত ছট পূজা বিহারের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক।

ইয়াক উৎসব ২০২৫ : সান্দাকফু তে তুষার পাত উৎসবের মেজাজ আলাদা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সমতল থেকে প্রায় ১২০০০ ফুট উঁচু পর্বত সান্দাকফু ও ফালুটের বিভিন্ন হোটেল ও হোমস্টেতে এখন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে। পর্যটকদের কাছে সান্দাকফু ও ফালুটের আকর্ষণ বাড়াতে গত রবিবার (১৩. ০৪. ২০২৫) থেকে ইয়াক বা চমরিগাই পর্যটন উৎসব শুরু হয়েছে। আর এরই মধ্যে দু'দিনের এই উৎসবের সূচনাতেই সান্দাকফুতে তুষারপাত পর্যটকদের বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে।


ইয়াক বা চমরিগাই

ইংরেজি ভাষায় চমরী গাইকে 'ইয়াক' বলা হয়, যেটা পুরুষ এবং স্ত্রী দুটি প্রজাতিকেই বোঝায়, যদিও অন্যান্য ভাষায় "ষাঁড়" বা "গরু" পৃথক লিঙ্গ নির্দেশ করে। 'চমরী গাই' একটি দীর্ঘ কেশী গৃহপালিত প্রাণী যা ভারতীয় উপমহাদেশের হিমালয় অঞ্চল, তিব্বতি মালভূমি, উত্তর মায়ানমার, ইউনান, সিচুয়ান এবং মঙ্গোলিয়া এবং সাইবেরিয়া জুড়ে পাওয়া যায়।

ছবি : গুগল


সিঙ্গালিলা বনাঞ্চলে চমরিগাই অত্যন্ত পরিচিত নাম। আগে এই চমরিগাইকে ব্যবহার করেই পণ্য আনা নেওয়ার কাজ হত। সান্দাকফুতে ট্রেকিংয়ে যাওয়া পর্যটকদের ব্যাগপত্রও এই চমরিগাইয়ের পিঠে চাপিয়েই দুর্গম পথ বয়ে নিয়ে যাওয়া হত। বছর কয়েক আগে চমরিগাই মাধ্যমে গণ্য পরিবহণের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। সিঙ্গালিলার বনবস্তিতে বসবাসকারীরা, অনেকেই বাড়িতে চমরিগাই পালন করে সংসার চালান। চমরিগাই নিয়ে বাড়ির কর্তা গাইড হিসাবে ট্রেকারদের সঙ্গ দিয়ে রোজগারের সুযোগ পেতেন। কিন্তু এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।


চমরিগাই দের নিয়ে পর্যটন

এরই পাশাপাশি আরও একটা দিক খুলে গিয়েছে তা হল এই চমরিগাই দের নিয়ে পর্যটন। চমরিগাইকে ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে। সান্দাকফু, ফালুট পর্যটনস্থলের আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে আরও বাড়াতেই এই চমরিগাই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।


এই উৎসবে অংশ নিতে গোটা এপ্রিল মাস জুড়েই এই অঞ্চলে হোটেল, লজগুলির বুকিং পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। 


থাকুমে চমরিগাই পর্যটন উৎসব

প্রতি বছর থাকুমে চমরিগাই পর্যটন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবার এই উৎসব অষ্টম বর্ষে পা দিয়েছে। এবারের উৎসবে পর্যটকরা প্রায় ১৩০টি চমরিগাইয়ের দর্শন সান্দাকফুতে বছরে পাবেন। পাশাপাশি চমরিগাইয়ের দুধ থেকে তৈরি সুরপি, দই, ঘি, চিজ সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থাও থাকছে। উৎসবের শুরুতেই রবিবার সান্দাকফুতে বছরের দ্বিতীয় তুষারপাত চাক্ষুস করে পর্যটকরা ব্যাপক খুশি।


এবারে উৎসবের পাশাপাশি সান্দাকফুর ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ড রোভার গাড়িতে চড়ার সুযোগও মিলছে। এই উৎসবের যোগ দিতে গত শনিবার (১২. ০৪. ২০২৫) সকালে দার্জিলিং থেকে ঘুম হয়ে প্রচুর পর্যটক ল্যান্ড রোভারে চেপে ফালুটে পৌঁছেছেন। রবিবার তাঁরা ফালুট থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকুমে উৎসবে যোগ দেন। সেখান থেকে পর্যটকরা সান্দাকফুতেও যাবেন।


সান্দাকফুতে হোটেল ও লজ 

উৎসবে অংশ নিয়ে চমরিগাই দেখার আনন্দ নিতে সান্দাকফুতে অনেক পর্যটক আগেই পৌঁছে গিয়েছেন। তবে সান্দাকফু, থাকুম, ফালুটে খুব বেশি পরিমাণে হোটেল, লজের ব্যবস্থা না থাকায় বহু পর্যটককে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না বলে উৎসবের আয়োজকরা জানিয়েছেন।


সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কথায়, 'এখন যে পর্যটকরা উৎসবে যেতে চাইছেন, তাঁদের সকালে গিয়ে বিকেলে দার্জিলিং ফিরে আসতে হবে। কেননা আগামী কয়েকদিন ওই এলাকায় রাত্রীযাপনের জন্য কোনও হোটেল, লজে আর জায়গা নেই।

Maha Kumbha Mela 2025 : এবারে চমকে দেবার মত বিশেষ কিছু তথ্য

 "কুম্ভমেলা" হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা, যা প্রতি ৩, ৬, ১২ এবং ১৪৪ বছরে একবার পালিত হয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। মেলাটি চারটি তীর্থস্থানে অনুষ্ঠিত হয়: প্রয়াগরাজ (যেখানে গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মিলন), হরিদ্বার (গঙ্গা নদী), নাসিক (গোদাবরী নদী) এবং উজ্জয়িনী (শিপ্রা নদী)" (তথ্য : উইকিপেডিয়া )

আরও পড়ুন : ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ 



কুম্ভ মেলার প্রকারভেদ :

কুম্ভ মেলা চার প্রকারের হয় এগুলো হল কুম্ভ মেলা, অর্ধ কুম্ভ মেলা, পূর্ণ কুম্ভ মেলা এবং মহা কুম্ভ মেলা। কুম্ভ মেলার আয়োজন প্রতি তিন বছর অন্তর হয়। ১২ বছরে তিন বার কুম্ভ মেলা বসে। এই মেলা প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী তীরে বসে।


অর্ধ কুম্ভ মেলা ১২ বছরে দুবার হয় আর এই কুম্ভ মেলা কেবলমাত্র প্রয়াগরাজ ও হরিদ্বারে হয়।


পূর্ণ কুম্ভ মেলা প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী তীরে বসে জোতিষ গণনার মাধ্যমে ১২ বছরে একবার।


মহা কুম্ভ মেলা শুধুমাত্র প্রয়াগরাজেই আয়োজন করা হয় ১৪৪ বছর পর অর্থাৎ ১২ টি পূর্ণ কুম্ভের পর।

আরও পড়ুন : ভ্ৰমণ : চারখল 



২০২৫ এর মহাকুম্ভের সময় সীমা :

১৩ জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে মহা কুম্ভ মেলা শুরু হয়েছে, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রায় ৪৫ দিন ধরে চলা এই বৃহত্তম ধর্মীয় মেলায় ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ পবিত্র সঙ্গমস্থলে ডুব দেবেন।

 

প্রয়াগরাজ : হোটেল ও ধর্মশালা :

এবারে কুম্ভ মেলা আসলে মহাকুম্ভ মেলা, আর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ শহরে ২১৮টি হোটেল, ২০৪টি গেস্ট হাউস এবং ধর্মশালা রয়েছে। প্রতিটি হোটেলেই তিল ধারণের কোনো জায়গা নেই প্রায়।


জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত হোটেলের রুমের দাম বহুগুণ বেড়েছে। যে হোটেল রুমগুলি ২৪ ঘণ্টায় ৭-৮ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলি এখন পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ হাজার টাকায়। তবে এই রেট শুধুমাত্র মৌনী মকর সংক্রান্তি, অমাবস্যা, বসন্ত পঞ্চমীর মতো বিশেষ স্নান উৎসবের জন্যই অত্যধিক বেশি।

আরও পড়ুন : ভ্রমণ : উত্তরবঙ্গের কালিপুর 


এই মেলা থেকে সরকারের আয় :

মহাকুম্ভ মেলা বিশ্বের বৃহত্তম অস্থায়ী শহরের সমতুল্য। যেখানে যেকোনও সময়ে একত্রে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


প্রশাসনের হিসাব বলছে, মহাকুম্ভ মেলার এই বিরাট, বিপুল আয়োজনের মাধ্যমেই উত্তরপ্রদেশ 


 সরকারের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে! 


সংবাদ সংস্থা আইএনএস-এর হিসাব অনুসারে, যদি মহাকুম্ভে আসা পুণ্যার্থী ও ভক্তরা তাঁদের গড় খরচ বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা করেন, তাহলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের আয় এক লাফে বেড়ে দ্বিগুণ - প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা হবে! তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ এবং রিয়েল জিডিপি ১ শতাংশেরও বেশি বাড়বে।


এই মেলার সময়টায় বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয় - যার মধ্যে রয়েছে প্যাকেট  বন্দি খাবার, জল, বিস্কুট, জুস এবং ভরপেট খাবার বা মিল - এই সবকিছুর বেচাকেনা করেই প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।


এছাড়াও, পুজোর সামগ্রী বেচা-কেনা করেও ভালোই লক্ষ্মীলাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের পণ্যের মধ্যে থাকছে - তেল, প্রদীপ, গঙ্গাজল, মূর্তি, লাঠি, ধর্মীয় বইপত্র প্রভৃতি। এসবের ব্যবসা করে আরও প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

আরও পড়ুন : দেখুন উত্তরবঙ্গের তিস্তা বুড়ির নাচ 

আরও পড়ুন : ডুয়ার্স এ এবার হাতি কে স্নান করান সঙ্গে এলফির মজা নিন 


এছাড়াও রয়েছে পুণ্য়ার্থীদের যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা সংক্রান্ত খরচপাতি ও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা। এসব থেকে অন্তত ১২,০০০ কোটি টাকা রোজগার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


পাশাপাশি, মহাকুম্ভ মেলার ফলে শুধুমাত্র পর্যটন ব্যবসার অধীনেই আরও ১৫,০০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে। এর মধ্য়ে রয়েছে - প্যাকেজ ট্যুর, গাইডের খরচ প্রভৃতি।


অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প, বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক পণ্য এবং ওষুধপত্র বিক্রি আরও প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা রোজগার হবে রাজ্যের।


অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ ব্যবহার করেও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা রোজগার হবে। যার মধ্যে রয়েছে - ই-টিকেটিং, ডিজিট্যাল পেমেন্ট, ওয়াই-ফাই পরিষেবা, মোবাইল চার্জিং প্রভৃতি।


এছাড়াও, বিজ্ঞাপন ও বিপণনের মাধ্যমে আরও প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার কারবার হবে।


কুম্ভ ঘিরে পারদের মতো চড়েছে দাম। ভোপাল থেকে প্রয়াগরাজ যেতে বিমানের খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই দাম পড়ছে ১৬ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন : উত্তরবঙ্গের লুপ ব্রিজ, এক দর্শনীয় স্থান 

২০১৯ এ অর্ধকুম্ভ মেলা থেকে কত আয় হয়েছিল :

২০১৯ সালে প্রয়াগরাজে যে অর্ধকুম্ভ মেলা হয়েছিল, তার ফলে রাজ্যের রোজগার হয়েছিল প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা। সেবারের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ২৪ কোটি ভক্ত ও দর্শনার্থী।


আগ্রহী অন্যান্য দেশ :

কুম্ভ মেলা (Kumbh Mela) নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। বিষয়টি শুনতে অবাক লাগলেও এমনই তথ্য সামনে এসেছে। আসলে ট্রেন্ডিং টপিক সার্চের কুম্ভ মেলা নিয়ে যে দেশ সবচেয়ে বেশি সার্চ করেছে সেটি হচ্ছে পাকিস্তান। শুধু পাকিস্তানই নয় এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন।


মহাকুম্ভ মেলায় আকর্ষণ :

মহাকুম্ভ মেলায় অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে হর্ষা রিচারিয়া। তাঁর নানা ভিডিয়ো ভাইরাল হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছেন এই সাধ্বী। কে এই হর্ষা রিচারিয়া যাঁকে নিয়ে এত আলোচনা? একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, অ্যাঙ্কর হয়ে উঠেছেন সাধ্বী…।


ভাইরাল গার্ল মোনালিসা 

মোনালিসা এবারের কুম্ভ মেলায় মালা বিক্রি করতে এসেছেন। তাঁর কয়রা চোখের এবং তাঁর সুন্দরতা নেটিজেনদের মুগ্ধ করেছে এবং যথারীতি তিনি ভাইরাল হয়েছেন। তাঁর অসংখ্য ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মাত করে রেখেছে। 


আবার কবে কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হবে?

প্রয়াগরাজের পরে কোথায় কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হবে?

প্রয়াগরাজের পরবর্তী কুম্ভ মেলা ২০২৭ সালে মহারাষ্ট্রের নাশিকে অনুষ্ঠিত হবে। এই কুম্ভ মেলা ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার শ্রাবণ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ শ্রাবণ পূর্ণিমা থেকে শুরু হবে, যা এক মাস স্থায়ী হবে। কুম্ভ মেলার প্রথম দিনে রাখিবন্ধন উৎসবও পালিত হবে। এই সময় লোকেরা গোদাবরী নদীর তীরে স্নান করে পবিত্র ডুব দেবেন। নাশিক ভারতের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শহর। নাশিকে ত্র্যম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গও রয়েছে।


২০২৮ সালে কোথায় কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হবে? 

নাশিকের পরবর্তী কুম্ভ মেলা ২০২৮ সালে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অনুষ্ঠিত হবে। এই কুম্ভ মেলা চৈত্র মাসের পূর্ণিমা থেকে শুরু হবে অর্থাৎ ৯ এপ্রিল থেকে। এই কুম্ভ মেলা বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা পর্যন্ত চলবে। এই সময় লোকেরা পবিত্র ক্ষিপ্রা নদীতে ডুব দেবেন। উজ্জয়িনী কুম্ভের সময় ক্ষিপ্রা নদীর রামঘাটে স্নান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। উজ্জয়িনীতে মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ স্থাপিত। এছাড়াও এখানে হরসিদ্ধি শক্তিপীঠও রয়েছে।


হরিদ্বারে কবে কুম্ভ অনুষ্ঠিত হবে?

প্রয়াগরাজ, নাশিক এবং উজ্জয়িনী ছাড়াও হরিদ্বারেও প্রতি ১২ বছর অন্তর কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০৩৩ সালে হরিদ্বারে কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই কুম্ভ মেলা ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে, যা ১৫ মে পর্যন্ত চলবে। এক মাসব্যাপী এই কুম্ভ মেলায় লোকেরা পবিত্র গঙ্গা নদীতে স্নান করবেন। এটি পূর্ণ কুম্ভ হবে। হরিদ্বারকে ভগবান বিষ্ণুর নগরীও বলা হয়।


Kumbha Mela Bengali Article