বাঙালির আবেগ দুর্গাপূজা। আর মাত্র কটা দিন। মা আসছেন। টাক কুর কুর ঢাক বাজা শুরু হয়ে যাবে মণ্ডপে মণ্ডপে। মাঠ ঘাট চারপাশ কাশ বনে ঢেকে যাবে। আকাশে বাতাসে মায়ের আগমনের ঘন ঘটা উপচে পড়বে।
কুমোরটুলি
সরকারি ছুটি
পূজার বিনোদন
নতুন কেনা কাটা
দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট
সরকারের ভূমিকা
কুমোরটুলি
রথ যাত্রা শেষ হবার পরেই কুমোরটুলি গুলিতে প্রতিমা তৈরির হিড়িক পরে গিয়েছে। বিশেষত খড়ের খাঁচা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিমা তৈরির জিনিস পত্রের অতিরিক্ত দাম কিছু কুমোরটুলির কাজ থমকে গিয়েছে। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।
সরকারি ছুটি
এবারের সরকারি ছুটি আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে। যারা দূরে চাকুরী করেন সকলেই বাড়ী ফেরার তাগিদে টিকিট কাটতে শুরু করেছেন। শুরুতেই এখন টিকিট কেটে না নিলে ওয়েটিং এর ঝামেলায় পড়তে হবে।
বিনোদন
দুর্গাপূজা মানেই বিনোদন, সংস্কৃতি আর আনন্দের উৎসব—প্যান্ডেল হপিং, নাচ-গান, নাটক, নতুন গান, বিশেষ অনুষ্ঠান আর পারিবারিক আড্ডা সব মিলিয়ে পূজার আবহ তৈরি হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলা বিনোদনমাধ্যমে সাধারণত বিশেষ নাটক, গান, ইউটিউব ভিডিও এবং পূজা-নির্ভর কনটেন্ট প্রকাশ পায়।
পূজার বিনোদন
পূজার সময় বিনোদনের মধ্যে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক, সংগীতানুষ্ঠান, এবং মন্ডপে আয়োজন করা নানা পারফরম্যান্স। অনেকেই বাড়িতে থেকেও পরিবার নিয়ে হাতের কাজ, গল্প, খেলা, গান আর ছোটখাটো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পূজার আনন্দ উপভোগ করেন।
নতুন কেনা কাটা
দুর্গাপূজা কেনাকাটা বলতে সাধারণত উৎসবের আগে নতুন পোশাক, শাঁখা-সিঁদুর, গয়না, পূজার সাজসজ্জা, উপহার এবং পুজোর সামগ্রী কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পূজাকে ঘিরে শপিংমল ও বিশেষ বাজারগুলোতে কেনাকাটার ভিড় বাড়ে, আর শাঁখারীবাজার/মার্কেটগুলোতে শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, শাড়ি, মুকুট, ধুতি, পাঞ্জাবি, প্রদীপসহ নানা জিনিস বেশি বিক্রি হয়। এছাড়াও অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ দেখার মতো।
কী কী কেনা হয়
পোশাক: শাড়ি, পাঞ্জাবি, ধুতি, ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা।
পূজার সামগ্রী: শাঁখা, শঙ্খ, সিঁদুর, মালা, মুকুট, প্রদীপ, আগরবাতি।
উপহার ও সাজসজ্জা: গয়না, কসমেটিকস, ঘর সাজানোর জিনিস, মিষ্টি।
অনলাইন ও অফলাইন কেনাকাটা: অনেকেই দোকানে যান, আবার অনেকে ক্যাশব্যাক অফার পেলে অনলাইনেও কেনেন।
কেনার সময় কী দেখবেন
বাজেট আগে ঠিক করুন, নাহলে উৎসবের ভিড়ে খরচ বেড়ে যেতে পারে।
পরিবারের সবার জন্য একসঙ্গে তালিকা বানালে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে।
দামের সঙ্গে মান যাচাই করুন, বিশেষ করে শাড়ি, পাঞ্জাবি, গয়না ও পূজার সামগ্রীতে।
অফার থাকলে তা মিলিয়ে নিন, তবে শুধু ছাড় দেখে কিনবেন না ।
সহজ কেনাকাটা পরিকল্পনা
১. প্রথমে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা করুন।
২. বাজেট ভাগ করুন: পোশাক, পূজার সামগ্রী, উপহার, অতিরিক্ত খরচ।
৩. বাজার ও অনলাইন—দুই জায়গার দাম তুলনা করুন।
৪. শেষ মুহূর্তে নয়, আগে কিনলে ভিড় ও দাম দুটোই কম চাপ দেবে
দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট:
২০২৬ সালের দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী মহালয়া ১০ অক্টোবর, এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। এই বছর পূজা কিছু পঞ্জিকা মতে ৬ দিনের হয়ে যাচ্ছে, তাই সপ্তমী ২ দিন ধরে পড়তে পারে .
প্রধান তিথি
মহালয়া: ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার
মহাষষ্ঠী: ১৬ বা ১৭ অক্টোবর ২০২৬, পঞ্জিকা ভেদে একদিনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
মহাসপ্তমী: ১৭–১৮ অক্টোবর ২০২৬।
মহাঅষ্টমী: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার।
মহানবমী: ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার।
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার।
দুর্গাপুজো ও সরকারের ভূমিকা:
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই সরকার সাধারণত পুজোর আগে প্রশাসনিক বৈঠক করে মণ্ডপে নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, রাস্তা, আলো, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। দুর্গাপূজা ও কুমারটুলি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। কলকাতার বিখ্যাত কুমারটুলি পল্লিতে মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করেন। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্জীব মাটি পায় দেবীর রূপ। পূজার কয়েক মাস আগে থেকেই কুমারটুলিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। গলির পর গলি জুড়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ, অর্ধসমাপ্ত ও সম্পূর্ণ প্রতিমার সারি। শিল্পীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দুর্গাপূজার আনন্দ আরও পূর্ণতা পায়। কুমারটুলি তাই শুধু একটি স্থান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও ভক্তির প্রতীক।
সরকারি অনুদান নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকদের বক্তব্য, অনুদান পুজো কমিটিগুলির আর্থিক চাপ কমায় এবং সাধারণ মানুষের উৎসবকে আরও সুন্দর করে; বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যয় না করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা কর্মসংস্থানে ব্যবহার করা উচিত। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন সরকার আগের মতো সব পুজো কমিটিকে অনুদান দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশিত হয়েছে।

ليست هناك تعليقات:
إرسال تعليق